এক.
যুদ্ধাপরাধারীদের বিচার চাওয়ায় একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়েছে স্বাধীনতা বিরুধী জামাত-শিবিরের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। ৭১ এর পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জামাতের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় মুক্তিযাদ্ধা পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে এ ঘটনাটি ঘটেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে। উক্ত সমাবেশে এ প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা তার বক্তৃতায় ৭১ এ পাক বাহিনীর সহচর রাজাকার-আলবদর ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই শিবিরের কর্মীরা তাকে টেটে হিচড়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনেন এবং বেদম প্রহার করেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ গতকাল প্রথম আলো, ডেইলী স্টার সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।
দুই.
একটি ছোট সংবাদ হিসেবে এটি ছাপা হয়েছে গত কালের পত্রিকায়। কিন্তু আসলেই কি এটি কোন ছোট সংবাদ! কতটা ভয়ানক হলে স্বাধীনতার এত বছর পরও জামাত-শিবির কর্মীরা একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার গায়ে হাত তুলতে পারে। নির্যাতন করতে পারে। তাও খোদ রাজধানীতে। আমাদের সবার সামনে!
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে জামাত তার অস্তিত্বের প্রশ্নে সব সময় বিভ্রান্তমূলক কৌশল আর মিথ্যার আশ্রয় নেয়। নানা কুটচাল খেলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সারা দেশ যখন গত দু'বছর ধরে নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তখন জামাত সে কুটকৌশর আর মিথ্যাজীবিতার অংশ হিসেবে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ' গঠন করে। এ সংগঠনটির নামের সাথে মুক্তিযোদ্ধা থাকায় এবং জামাতের কোন নেতা প্রকাশ্যে এ সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ না নেয়ায় এ সংগঠনটি সারাদেশে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন হিসেবে কারও কারও মনে বিশ্বাস জাগাতে সক্ষম হয়। সে হিসেবে গত শুক্রবারের সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা এ সংগঠনের সমাবেশে অংশ নিয়েছিল। আর অংশ নিতে এসেই তারা শিবির কর্মীদের হাতে প্রহৃত হন। জামাতের এ বিভ্রান্তমূল কৌশল নতুন নয়। শহীদ জননী জাহানার ইমামের নেতৃত্বে যখন গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গণআদালত গঠিত হয়েছিল তখনও জামাত যুব কমান্ড গঠন করে এবং এ সংগঠনের ব্যানারে শিবির কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তথাকঠিত 'হিকমত' হিসেবে তখন তারা যুবকমান্ডের বিভিন্ন প্রোগ্রামে একজন নারী কর্মীকেও হাজির করায় এবং বক্তৃতাতা দেওয়ায়। যদিও বাস্তবে প্রকাশ্যে কোন প্রোগ্রামে জামাত তার নারী কর্মীদের বক্তৃতা দিতে দেয় না।
সে একই প্রক্রিয়ায় এবারও জামাত নতুনভাবে মাঠে নেমেছে। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ডেকে সেখানে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়া থেকে প্রমাণিত জামাত তার ৭১ এর ভূমিকা থেকে বিন্দু মাত্র সরে আসে নি। বরং আরও সংঘটিত হয়ে, নতুন কৌশলে জনবিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই শুরু করা না গেলে আগামী দিনগুলো আরও ভয়াবহ হবে। এটি কোনভাবেই হতে দেয়া যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


