তখন ক্লাস নাইন কি টেন-এ পড়ি। সাইকেল চালিয়ে স্যারের বাসা যাচ্ছিলাম।সেই সাত সকালেই মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে কিছু পুংগপান্ডব।সাইকেল থামিয়ে টায়ারের হাওয়া ছেড়ে দিলো।কার্যকারন জানতে চাইতে জবাব" আজকে হরতাল বগুড়াকে বিভাগ ঘোষনা করার দাবীতে"।
"রংপুরবাসী বিভাগ চেয়েছে।সুতরাং বগুড়াতেও বিভাগ হতে হবে"।
এ যেন মামাবাড়ীর আবদার।যে কেউ উত্তরবংগে ম্যাপের দিকে একপলক তাকালেই বুঝতে পারবেন রংপুরবাসীর বিভাগদাবী বগুড়ার চেয়ে অনেক প্রাসংগিক।
বাংগালীর আরো অসংখ্যা ব্যরামের মতো আন্চলিকতার ব্যারাম বোধকরি শোধরাবার নয়।ফুটবলাকে কিংবা লাঠালাঠি কেন্দ্রকরে এপাড়া-ওপাড়া, এগ্রাম-ওগ্রাম হাতাহাতি, লাঠালাঠি, এমনকি খুনোখুনির সংবাদ এখনো পত্রিকায় পাতায় দেখা যায়।
ঈদে কিংবা নবান্নে গ্রামে এক অদ্ভুত ধরনের প্রতিযোগিতা হয় "বিয়ে" বনাম "অবিয়ে"।
সেই "বিয়ে" বনাম "অবিয়ের" মধ্যকার ফুটবল কিংবা কাবাডি খেলাকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষ।"সকালে এক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে বিকালেই সেই গ্রপের জন্য ফাইটার বনে যাওয়া"- কিভাবে সম্ভব!
এ এক ব্যাখাতীত বিচিত্র সাইকোলজি।
বাজারে বিশেষত বিয়ের বাজারে "বি,এন,সি,সি" নামে একটা টার্ম প্রচলিত;বরিশাল, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চাঁদপুর জেলার আদ্যক্ষর নিয়ে।জনমনে প্রচলিত ধারনা, এ অন্চলের লোক "সুবিধার না"।অথচ আমার অন্তত দুজন কাছের বন্ধু নোয়াখালি থেকে আগত। মানুষ হিসেবে যাদের স্হান অনেক উঁচুতে।
অন্চলভেদে মানুষের ভাষার বিশেষত ডায়ালেক্ট, খাদ্যভাসও আলাদা হতেই পারে তাই বলে তাদের মানসিক গঠনের, তাও সেরদরে পুরো এলাকার মানুষের!
পত্রিকায় পাতায় ক'দিন ধরে খবরটা দেখছি।পুরো সংবাদ পড়া হয়নি, শুধু হেডলাইন আর ছবিগুলো।ভৈরবকে জেলা ঘোষনার প্রতিবাদে কিশোরগন্জে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসুচি।আজকে প্রথমআলোতে সুমন রহমানের লেখা পড়ে বুঝলাম ঘটনার শুধু মাঠে-ময়দানে না, ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলেও গড়িয়েছেও।
"ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করলে কিশোরগন্জবাসীর কি সমস্যা" এই অধম তা বুঝতে পুরোপুরি অক্ষম।"এইটা কি সার্বিয়া থেকে কসোভা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কোন ব্যাপার" নাকি আমি বাড়ির ইটের, সুতরাং পাশের বাড়ির ছোটলোক কেন ইঁটের বাড়ি করবে?
ভৈরবকে জেলা ঘোষনা করলে কিছু সরকারি আমলার প্রমোশন হবে বিসিএস-এ কিছু নতুন পদও তৈরি হতে পারে।এরসাথে ভৈরব কিংবা কিশোরগন্জের আম-জনতার
অধিকার, বিষয়-আশয় কিংবা লাভালাভের কি সম্পর্ক ?
এরপর থেকে বাংলাদেশে বিভাজন এবং তৎসম্পর্কিত প্রতিবাদ কর্মসুচী কিভাবে হবে?
জেলা বনাম জেলা, থানা বনাম থানা, গ্রাম বনাম গ্রাম, পরিবার বনাম পরিবার(ঐ পরিবারকে সরকার রেশন দিলো কেন, এই নিয়া অন্য পরিবারের সদস্যদের অবস্থান ধর্মঘট!)
ও হ্যাঁ...আজকে আরেকটি তথ্য জানলাম।আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রপতি সাহেব নাকি ভৈরবের লোক আর ভৈরবকে জেলা বানানো তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।তাইলে দেখা যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ মাননীয় রাষ্ট্রপতি সাহেবও আন্চলিকতার উর্ধে নন।
হায় সেলুকাস, সত্যি বিচিত্র এই দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


