আমি যে আজকে কী পরিমাণ বিরক্ত, সেটা বলে বুঝাতে পারছি না।
আমার এক বন্ধুর মামার পিঠে বড় বড় ছয়টা কাল দাগ দেখেছিলাম। আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞসা করলাম, “ মামা, এগুলা কী?”
আমি চিন্তায় পড়ে যাই। এখন ত সবাই জিন্স পড়ে। তাহলে ?? উনার বাবা এখন কী বলেন ?? ছেলের পিঠে এইসব দাগ দেখে উনি নিজের কী ভাবেন ? জিন্স পড়া ছেলেরা কী বুয়েটে চান্স পায় না ???? জিন্স পড়ার কারণে কেউ কি জীবনে পিছিয়ে গেছে ? যুগের সাথে সবই পরিবর্তন হয়।
আমি জানি, একসময় অডিও তে ইংলিশ গান শুনলে পাড়া পড়শী গঞ্জনা দিত, ছেলে নাস্তিক হয়ে গেছে !!!!
কোন কিছু খারাপ মানে কী ??? ইয়াবা খাওয়া বেশি খারাপ নাকি বড় চুল রাখা বেশি খারাপ???
এই হইতেছে আমার সমস্যা। এক স্যার আসছেন, আরেক ভার্সিটিতে উনি চল্লিশ বছর প্রফেসর ছিলেন। নাম বলব না। ত, উনি আমাদের এখানে একদম নতুন(সম্ভবত তাই বললেন)। উনি ক্লাসে এসে আজকে অনেক্ষণ কথা বললেন। এই সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস ছিল এটা। প্রথমটায় সবাই সাধারণত সবার সাথে পরিচিত হন। এভাবে ২০ মিনিট লাগে। এরপরে পড়ানো শুরু হয়।
আজকে আমাদের কারও নাম ত জিজ্ঞাসা করলেনই না। নিজের সম্পর্কে দারুণ কিছু তথ্য দিলেন।
১) উনি জীবনে টাকা চান না। উনি চাইলে টাকার উপর শুইয়ে গড়াগড়ি দিতে পারতেন।
২) উনি জীবনে কখনও টাকা জমান নাই। ( পরে জানা গেল উনার দুই ছেলে মেয়ে ইউএসটিসি মানে প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে।টাকা ছাড়াই এদের কীভাবে পড়াচ্ছেন, উনিই জানেন। )
৩) বড়ো চুল রাখা পোলাপান তার ক্লাস করতে পারবে না। ( যেই পয়েন্টে আমি কট খাইছি।আমার বাবরি চুল রাখার বড়ই ইচ্ছা।
৪) উনি সামনের বার বই মেলাতে উনার কবিতার বই প্রকাশ করবেন।
৫) টাকা জমিয়ে রাখলে মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। তাই হাতে পাওয়ার পর খরচ করাই উচিত। ( আল্লাহ না করুন, কিন্তু, আমি আজকে এক্সিডেন্ট করলে টাকা পয়সা না জমালে বিপদে কে দেখবে ?? )
৬) উনি একটা সূরার ফজিলত জানেন, যেটা পড়লে সেই দিন আর সেই রাত মানুষ আহত কিংবা নিহত হবেনা। ( আমি জানতাম আল্লাহ মানুষের আয়ু নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ) এরপরে উনি বললেন, যেদিন উনার মৃত্যু হবে, সেদিন আল্লাহ উনাকে সূরা পড়তে ভুলিয়ে দেবেন। আমার ধারণা, আল্লাহ মানুষের ওপর হস্তক্ষেপ করেন না। করলে, ইজরাইলে সৈন্যরা মানুষ মারতে ভুলে না কেন ? ( এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা। আমি চুরি করে সেটা আল্লাহর ইচ্ছায় করছি বললে হবে না, আল্লাহ মানুষকে বিবেক দিছেন আর মানুষের চলার পথে উনি হস্তক্ষেপ করেন না। আমি এমনটাই ভাবি। )
৭) উনি কবিতা লেখেন।
৮) উনি ক্লাস থ্রি, ক্লাস নাইন এর জন্য এমনকি অনার্সের জন্যও বই লিখেছেন। আমরা সবাই সেই বই কিনতে আগ্রহী হলে, উনি জানালেন এটা নাকি আবার বাজারে পাওয়া যায় না। উনি আমাদের এক কপি দিবেন। আমরা সবাই সেটা ফটকপি করে নিব।
ছোট বেলা থেকেই আমার মাঝে একটা ব্যপার কাজ করে। আমি কখনও স্যারদের কথার বাইরে যেতে পারি না। একদম পিচ্চি থাকতে আমি যখন খেতাম না, আম্মা বলত, “আমি এখন তোমার স্যার। আমি বলতেছি খাও।” আমি তখন কাঁদো কাঁদো মুখে খেয়ে ফেলতাম। বড় হয়েও এই অভ্যাসটা রয়েই গেছে।
বাবরি রাখার স্বপ্ন ঝেঁড়ে ফেলে দিয়ে চুল একদম ছোট করে কাটিয়ে আনলাম।
দুইটা সেমিস্টার শেষ করে ফেললাম। কত কত স্যার দেখছেন, কেউ কিছু বলেন নি। ভার্সিটিতে সেটাই স্বাভাবিক। সবার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকা উচিত।
স্যারের প্রতি কোন অসম্মান নেই আমার মনে।
কিন্তু, আমার ধারণা, বড় চুল রাখার জন্য এভাবে এঙ্গেল করে কথা না শুনিয়ে, ছেলে মেয়েদের সিগারেট-ইয়াবা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে বললেই নীতিবান একজন সিনিয়ার শিক্ষককে মানাত বেশি।
আজকে আমার সামনে দিয়ে এক ছেলে গেল। দেখি কোমরের একহাত নিচে দিয়ে প্যান্ট পড়ছে। ঠিকমত ইন করা হয়নি পিছন দিয়ে। মানে, পিছনে অনেক কিছু দেখা যাচ্ছে। আমি মনে মনে ওকে গাধা বলে হেসে ফেললাম
এসবই ক্ষণস্থায়ী। এগুলা ব্যাপার না। সময়ের সাথে আসে সময়ের সাথে যায়। মানুষের ড্রেস আপ ব্যাপার না। স্বভাবটাই আসল।
বসুন্ধরায় গত সপ্তাহে যেয়ে একটা প্যান্ট দেখলাম। কতগুলা ছেলে এটা খুব পছন্দ করল। একগাদা শিকল লাগানো এখান
চারুকলার পোলাপানও ত এই বড় বড় চুল দাঁড়ি গোফ রেখে ঘুরে। ওদের নিয়ে কেউ কিছু বলে না।
যাই হোক , পোলাপানরে এই সব কিনতে দেখে, আমার পাশের ভদ্রলোক বললেন, এইসব কাবজাব করা একজন ছাত্রের ছাত্রত্বের অবমাননা।
আমি ভাবলাম, আমাদের দেশের পিছিয়ে পড়ার এই কারণ। আমি উনাকে একটা প্রশ্ন করেছি।
“ একজন ছাত্রের ছাত্রত্বের অবমাননা ঠিক কখন হয় ??? ইয়াবা আর ক্যাডারবাজী করলে ? নাকি বড় চুল রাখলে ??? শিবিরে জয়েন করে পোলাপান কোপাকোপি করে যখন, ছাত্রলীগে ঢুকে বন্দুক নিয়ে স্যারকে হুমকি দেয় যখন, ফেন্সির ব্যবসা করে, তখন ছাত্রের ছাত্রত্বের অবমাননা হয় না? নাকি সে সব করুক, তার ড্রেস আপ ঠিক থাকলেই তার সব মাফ?”
উনি এর উত্তর দিলেন না। বললেন, “ বুঝছি, তুমি এদের বন্ধু। ”
আরবী মিডিয়ামে যারা পড়ে, তারা বাংলা মিডিয়াম সম্পর্কে কীভাবে? মাদ্রাসার অনেকেই মনে করে, স্কুলে পড়ে বেগানা পোলাপান সব। বাংলা মিডিয়ামে ম্যাডামরা পড়ায়। ছি ছি ছি।
এখনই আমাদের সময়, জিন্সের প্যান্টের বিপক্ষে কথা না বলে ড্রাগস আর হল দখল, ক্যাডারবাজীদের না বলুন।
এরপরও কেউ কিছু না বুঝলে,
আমি তাহলে অফ গেলাম।
© আকাশ_পাগলা
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



