somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

থিসিস খসড়াঃ Theories to control minds

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগের পর্বের জন্য Click This Link

পর্ব – ৩

[ গত পর্বের ব্যালেন্স থিওরীটা যে কারও মাইন্ড কন্ট্রোলের জন্য প্রথম স্টেপ। সবসময়েই। আপনি জানেন আপনি ভুল, তাও হুবহু উলটা কথা বলে এবং সেটার মুখোমুখি সত্য বক্তাকে দাঁড় করাতে পারলে আপনি চরম প্রতকূল অবস্থাতেও নিজের দিকে অন্তত কম করে হলেও ২০% ফেভার আনতে পারবে।
এক্ষেত্রে দুটো বিষয় মাথায় রাখতেই হবে। প্রথমত, আসল সত্য যা, তা কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না। আপনি শুধু আপনার সামনের ব্যক্তিকে কনফিউজড করে দিচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত, যার উপরেই আপনি এই ধরণের নিয়ণত্রণ রাখতে চান, তাকে আপনার বক্তব্যের মুখোমুখি হতেই হবে। নইলে, সে যদি পাশ কাটিয়ে যাবার কোন স্কোপ পায়, সে ব্যালেন্সে আসতে চাবে না।
হিটলারের সময়ে এই ধরণের ট্যাকটিক্স ফলো করা হত।একই কথা বারবার বলা হত, যেন মানুষ নিজেদের মাঝেও এসব নিয়ে আলোচনা করে, আর শেষমেষ হিটলারের বক্তব্যের কাছাকাছি কিছুতে পৌঁছায়।]

ব্যালেন্স থিওরীর এপ্লাই করার জন্য আমাদের দ্বিতীয় পয়েন্টটায় খেয়াল রাখতে হবে। ধরেন, আপনি বলছেন অমুক ভাল। কিন্তু, আপনার সামনের জন বলছে, তমুক ভাল। এখন যদি তমুকের পক্ষে আরেকজন এসে সাপোর্ট দেয়, তাহলে ওরা আপনার বক্তব্যের মুখোমুখি দাঁড়াল না, বরং পাশ কাটিয়ে গেল। একই ভাবে কেউ আপনাকে সরাসরি গালিগালাজ কএ, আপনাকে গুরুত্ব না দিয়ে পাশ কাটাতে পারে।এই কথার দুইটা মানে। প্রথমত, আপনার নিজের যদি কোন মতবাদ থাকে, আর সেটার পক্ষে যদি কেউ থাকে, এদের তাহলে দলবদ্ধ রাখুন। যেন এদেরকে অন্য কেউ মোটিভেট করতে না পারে। আর, দ্বিতীয়ত, আপনি যদি কাউকে মোটিভেট করতে যান, যথেষ্ট যুক্তি আর শক্তি ছাড়া দলবদ্ধ কারও মুখোমুখি হবেন না।

খেয়াল করেন, এখানে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি যেটায় আপনার সরাসরি লাভ কিংবা ক্ষতি নেই।সরাসরি লাভ ক্ষতি থাকলে মানুষকে দলে টানতে কমনসেন্স লাগে, মনস্ততত্ত্ব না। যেমন, আপনি যদি অফিসে আপনার গ্রুপ তৈরি করতে চান, তাহলে এভাবে স্টেপ নিতে পারেন। “রহিম সাহেব খাচ্চর, শফিক সাহেব ফাউল, রহিম সাহেব আর শফিক সাহেবের কথা তাহলে শুনবেন না।” দেখেন, অমুক ফাউল, তমুক খাচ্চর, এগুলা কিন্তু যুক্তি না। কোন যুক্তি ছাড়াই আপনি মিনিমাম আপনার দলীয় শক্তি ২০% বাড়াতে পারবেন।

আগের পোস্ট থেকে একটা ফুটনোট আবার উঠিয়ে দেই।(একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, দুইজন বিপরীতবাদীর মধ্যে মতের মিল হওয়াটা সবসময়েই কিন্তু ব্যালেন্সে আসা বুঝায় না। আমার কথা শুনে আপনার ভাল লাগল, আপনি আমার কথা শুনে নিজের ভুল বুঝলেন বা আমার কথার কিছু একটা আপনার কাছে যৌক্তিক লেগেছে। এই কারণেও আমাদের মতের মিল হতে পারে। তাই, আমি আপনাকে বলব না যে, আপনি কারও কথায় মত পরিবর্তন করবেন না, বা একরোখা হয়ে যান। সেটা আরও বড় ভুল। বরং আপনাকেই বুঝতে হবে যে, আপনি কী ব্যলেন্সে আসার জন্য নাকি সত্যিই আমার কথা বুঝে আপনার কথা পরিবর্তন করছেন !! সিদ্ধান্ত আপনার। আমি শুধু রাস্তা দেখালাম। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, কে কি বলল, সেটা খুব মনোযোগ দিয়ে শোনাই ভাল। এরপর নিজের থেকেই সিদ্ধান্ত পাবেন আপনি। শুধু সাবধান থাকেন, ব্যালান্সে আসার দুর্বলতা দিয়ে কেউ যেন আপনাকে দলে টানতে না পারে, আপনাকে দলে টানার জন্য যেন তাকে যথেষ্ট যুক্তি দাঁড় করাতে হয়। যুক্তির সামনে আবার গোঁ ধরে থাকবেন না।)

ব্যলেন্সের সাথে পরিবেশের মিশ্র প্রক্রিয়াটা বুঝতে পারলে, আপনি আপনার আশেপাশের সবার মেন্টালিটি কন্ট্রোলের নিয়ামক হিসেবে নিজেকেই প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

আমরা আরও বৃহদাকার অবস্থায় উদাহরণ দেখতে পারি। এখনকার মেয়েদের হাল ফ্যাশন হচ্ছে, ওড়না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট। কেউ দেয়, কেউ দেয় না। কেউ কাধে দেয়, কেউ একপাশে দেয়, কেউ গলায় দেয়। এর কারণ বা পিছের মনস্তত্ত্ব নিয়ে সামনে আমি আলোচনা করব। আপাতত, এর এফেক্ট নিয়ে বলছি। আপনি যখন সাজেন, অবশ্যই এই কারণেই যে অন্যদের চোখে যেন আপনাকে ভাল লাগে। এখন অন্যরা খারাপ বললে, আপনি আর এই ভাবে সাজবেন না। মেয়েদের এইভাবে বুক দেখিয়ে ওড়না পড়াটা কী আদৌ ছেলেরা সমর্থন দিচ্ছে? যদি নাই দেয়, তাহলে এই ব্যাপারটা এখন এত সাধারণ একটা ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে কেন! অর্থাৎ নিশ্চয়ই এই ধরণের সজ্জার পিছে সমর্থন আসছে। সেটা কোত্থেকে?

এইখানেও আসলে ব্যলেন্স থিওরী কাজ করে। একটা ছেলের যখন তার নব্য কৈশর স্টেজে নিজেরই বড় বোনকে এই ধরণের স্টাইলের প্রতি আগ্রহী দেখবে, সে তখন নিজেকেই বোঝাবে যে কেউ খারাপ চোখে নিলে সেটা তারই দোষ। মেয়েটা ঠিকই আছে।
পরবর্তী ক্ষেত্রেও সে তাই মনে রাখবে। এখন,যদি এরপরেও তার মনে এই ব্যাপারটা নিয়ে দোটানা থাকে, সেটাকে কাটানোর জন্য এসব ব্যাপারে সে এগ্রেসিভ হয়ে যাবে।অর্থাৎ, এরপরে সিম্পল মেয়েকে দেখলে সে বলবে, “ও ত ক্ষ্যাত মার্কা। পুরান যুগের।” এই এগ্রেসিভ ভাবটা আসলে তার নিজেকেই প্রবওধ দেয়া। এভাবে সে আশাপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করবে যে কেউ তার পক্ষে আছে কী না। ব্যালেন্স থিওরী অনুযায়ী আশেপাশের বন্ধুরাও এসব ব্যাপারে আস্তে আস্তে তার পক্ষ নিতে থাকবে।

আগের পর্বে আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম। ওখানেই উত্তর পাওয়া গেছে। এখানে বরং, ওই ছেলের উত্তরণের পথ কী হতে পারে, সেটাই ভাবি। যদি ছেলেটা এইভাবে চিন্তা করে যে, তার বাবা যা করছে, সেটা অবশ্যই ভুল। আর আমি সেটা করব না। তাহলে সে মোটামুটি সঠিক রাস্তায় থাকবে। কারণ, বাবাকে ত সে বর্জন করতে পারবে না। কিন্তু ওই বয়সী ছেলের মাঝে ব্যালেন্সে আসার প্রভাব কাটিয়ে এই ধরণের স্ট্রিক চিন্তা করার সম্ভাবনা খুবই কম। ১০০ জনে ১ জনেরও না।
উপরের উদাহরণে একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। সেটা হল, ছেলেটা নাবালক, তার বাপ কিন্তু কর্মযোগ্য পুরুষ। আবার, মেয়েটার বেলায়, ,মেয়েটা আর ছেলেটা দুজনেই ২৫ এর কম। সুতরাং, ছেলেটা যদি মেয়েটাকে কোন ব্যখ্যা দেয়, আর মেয়েটা যদি ছেলেটার কথার গুরুত্ব দেয়, তাহলে সে এই স্টাইলে আর চলবে না। কিন্তু কথা হচ্ছে, সেই ছেলেটা নিজেই এমন কোন ব্যখ্যা জানে না। ব্যাখ্যার পিছে না ছুটে, বা কারও কাছে এটা কেন খারাপ, সেটা কেন ভাল জিজ্ঞাসা না করে(স্বাভাবিক, কারণ নব্য কিশোর স্টেজে সবার কাছে সে অবহেলিত) সে ব্যালেন্স থিওরীতে এসে পড়ে। ব্যাখ্যার জন্য যথেষ্ট যুক্তিই শুধু না, যথেষ্ট শক্তিশালী ভাষারও প্রয়োজন(অফটপিক হবে বলে ব্যাখ্যাটা দিলাম না। চাহিদা সাপেক্ষে আমার ধারণাটা বলা যায়)। সেটা ওই বয়সী ছেলের না থাকারই কথা।

একটা ছেলের মধ্যে এই ধরণের উচ্চতর মানসিকতা ডেভেলপ করা সম্ভব না। এটা কিছুটা ক্ষেত্রে সম্ভব হয় প্রচুর পরিমাণ বই পড়লে। তখন ছেলেটা কনফিউশনে ভোগে কম। তার নিজের চিন্তা আসলে অন্য কোন সিনিয়ার আর বিখ্যাত লেখকের চিন্তা। আর, সেই চিন্তা যে সঠিক, সেটা নিয়ে সে তখন কনফিডেন্ট থাকে। এটা অবশ্যই সে কোন বই পড়ছে, তার উপর নির্ভর করবে। তখন তার বোনের উগ্রতা বা বাপের অসততা তাকে ছোঁয় কম। কিন্তু, কিছুটা প্রভাব থাকবেই। এটা এড়ানো যাবে না। এমন মহাপুরুষ পাওয়া খুব দুষ্কর, যার পালনকারী পিতামাতা খারাপ লোক ছিল।

এই স্টেজ নিয়া আরও কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। এই পর্যন্ত আত্মস্থ করতে পারলে, সহজেই বুঝা যায়, কীভাবে প্রতি পদে পদে পরিবেশ আর ব্যালেন্স অনুয়ায়ী একটা ছেলের মানসিকতা গড়ে উঠে। সামনের পর্বে, এই স্টেজ থেকে উঠে যাবার পর ছেলেটার মানসিকতার ফাইনাল টাচ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা রাখি।

© আকাশ_পাগলা
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×