somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে পোলাডির স্বভাব আর এরা “কেন” আর “কী অনুপাতে” মাইয়াদের পিছে ঘুরে – আমার লেটেস্ট থিওরীB-)B-)B-):P

২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকে থেকে বলতে প্রায় এক বছর আগে আমার সাথে এক মেয়ের হাবিজাবি কথা হইত। কথা হইত মানে রাস্তায় কোনদিন দেখা হইলে হাই হেলু সব মিলায়া দুই মিনিট। ত, একদিন নারী জাতির সেই প্রতিনিধি আমার কাছে মোবাইল নাম্বার চাইলো। ত, এত হালকা পরিচয়ে ওকে নাম্বার দিতে মঞ্চাইলো না।

ঘটনা হইলো, অন্য এক ছেলের থেক শুনলাম, মেয়ে নাকি তাকে বলছে যে, আমার নাকি কোনই গতি হবে না। কারণ, আমি তাকে পছন্দ করি এটা নাকি সে বুঝেই আমার নাম্বার চাইছিলো, আর আমি দিতে লজ্জা পাইছি।
যা হওয়ার তাই-ই হল, রাগে মাথা মুথা খারাপ হল আমার। আমি হের সাথে দেখা করলাম। জিগাইলাম, আমার তাকে পছন্দ এটা কেন মনে হইল? আর, আমার পছন্দ বলেই সে নাম্বার চাইতে আসছে তাহলে এটা বললে দোষ কী যে তার পছন্দ! সে বলল, তার আসলে বেশি পছন্দ না, তার ধারণা আমার তাকে খুব ভাল্লাগছে তাই আমাকে সুযোগ দিতে চাইছিলো।
ক্যামনডা লাগে?

আমি বললাম, কেন মনে হল যে আমি তোমাকে পছন্দ করি? সে উত্তর দিল, তার সাথে যত ছেলে এভাবে কথা বলে, সবার সেইম কেইস।
কিন্তু মেয়ে সব দিক দিয়ে সব অর্থেই একেবারে সাধারণ বলে আমি এত গুরুত্ব দেই নাই। অনেক ছেলে হয়ত পছন্দ করতেই পারে, কিন্তু পিছে পিছে ঘুরার মত না। ত আমি আর তেমন কথা বলি নাই।
ইদানীং কালে এত দিন পরে মেয়েটাকে দেখলাম ভার্সিটির আশেপাশে। হালকা খোঁজ নিলাম। আমার চেয়ে এক বছরের জুনিয়র। তার পিছে নাকি সব ছেলেরা ঘুরে ঘুরে শ্যাষ। এইবার আমি ঘটনার মর্ম বুঝলাম। মেয়ের পিছে আসলেই অনেক ছেলে ঘুরে। আর মেয়েটার ভাবজজ্জ টাও তাই বাড়তে বাড়তে ১৭ তলা। আর, ভাবলাম এইটা নিয়ে একটা গবেষণা এটলিস্ট একটা হাইপোথিসিস বের করে ফেলা উচিত।
--------------------------------------------------------
আমি দেখলাম আমাদের দেশে ছেলে আর মেয়ের অনুপাত নাকি ১.২১:১ । তাহলে ৫ দিয়ে উভয় পক্ষকে গুণ করে পাই, ৬:৫।

এইটার মানে বোধহয় ধরতে পারেন নাই সবাই। এটার মানে বুঝার দুইটা স্টেপ আছে। শেষ স্টেপটাই হইলো খেলা। তবে, সেটা বুঝার জন্য প্রথম স্টেপটা বুঝা লাগবে। এইটা হল সহজ চিন্তা যেটা আমরা প্রথমেই ধরতে পারব।

মনে করেন, ৬টা ছেলে আর ৫ টা মেয়ের মধ্যে ২টা করে সব অর্থে অসুন্দর পরে ২ করে সব অর্থে সাধারণ পরে ছেলেদের ক্ষেত্রে ২টা করে সব অর্থে সুন্দর(যেহেতু ৬ জন) আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বাকি একজন সব অর্থে সুন্দর।

তাহলে ধরা যাক এদের মধ্যে কিছু সময় ইন্টারকানেকশন হল। তাহলে যোগ্যতা অনুসারে, ৪ জন অসুন্দর কেউ কাউকে পছন্দ করল না। ২ জন সাধারণ তেমন দুজনকে পেল। ১ জন সুন্দরী আরেকজন সুন্দর ছেলেকে পেল। বাকি থাকল ১ জন সুন্দর ছেলে আর ৪ জন অসুন্দর।
এখানে আমাদের যেই সমাজ, সেখানে অসুন্দর মেয়েগুলা ছেলেদের পিছে পিছে ঠিক ঘুরতেছে না। কারণ, ব্যাক সাপোর্ট পায় না। ছেলেদের পিছে টাকা খরচ করতে রাজী না। আর সবার পিছে ঘুরার মানসিকতাও রাখে না। কিন্তু সেই একই লেভেলের ছেলে গুলা কিন্তু পেছনে অনেক সাপোর্ট পায়, মেয়েদের পিছে খরচ করার মত টাকা আর মেন্টালিটিও আছে, তাই এরা সব মেয়ের পিছে একবার ট্রাই করে দেখে।

তাহলে যেটা হল, ইন্টারকানেকশনের খেলায় আমাদের হাতে থাকল ২টা সব অর্থে অসুন্দর পোলা। আর ১টা সব অর্থে সুন্দর পোলা।
এখন রাস্তায় ৫ টা মেয়ে দেখলে জীবনেও মনে হয় না যে, আমি যেই লেভেলের ছেলে সেই লেভেলের মেয়ে কোনটা!! সব সময় মনে হয় যে, ঐ মাইয়াটা সবচেয়ে সুন্দর, ওর সাথে জমাইতে পারলে ভাল হইত। ওর সাথেই কথা বলা লাগবো।

তেমন ভাবে, এখন এই তিন পোলা ২ সাধারণ মেয়ে আর ১ সুন্দরী মেয়ের পিছে ঝাপিয়ে পড়বে। মানে লাইনে দাঁড়াবে আর কী!

এইটুকু ত ক্লিয়ার আশা করি। সমস্যা থাকলে উপরের থেকে আবার পড়েন। এইটা ত কমন হিসাব।
কিন্তু আসলে আরও কাহিনী আছে।
এখন তাইলে হিসাব মতে মেয়েগুলার পিছে কয়জন? যার সাথে মেয়েটার জুটি হইছে সেই একজন। আর ঐ তিনজন ছেলে যারা বাকী রইল তারা প্রত্যেকে একেকজনের পিছে লাইনে দাড়ালো।

আসলে হিসাবটা আরও একটু ঘুরানো।
মানে, পোলা ত পোলাই।
মানে, ওই বাদ বাকি তিন ছেলে একেকজনের পিছে দাঁড়াবে না। এরা সবাই মিলে সবার পিছে দাঁড়াবে।
মানে হইল, একোটা সাধারণ মেয়ের সাথে যার জুটি আছে সে এবং এই বাকি তিনজন দাঁড়াবে। পরের মেয়েটার বেলাতেও একই ঘটনা। আর শেষ সুন্দরী মেয়েটার বেলাতেও একই ঘটনা।

অর্থাৎ সব মেয়ে দেখবে যে তার সাথে একজন(যার সাথে জুটি হল) আর তার পিছে ৩ জন!! এখানে এই ৩ জনের যেহেতু জায়গা হয় নাই, তাই এরা সবার পিছেই লাইনে দাঁড়াবে। মেয়েগুলা মনে করে তার পিছে লাইনে দাঁড়াইছে ৪ জন। এভাবেই এদের দাম বাড়তে থাকে।

কিন্তু আফসুস , আসল সত্য হল এই চারজনের তিনজন শুধু তার একার না সবার পিছেই থাকে।

বোনাস ব্যাখ্যাঃ

# অনেকে বলতে পারেন যে সুন্দর সেই ত সুন্দরটাকে পাবে। তাইলে সাধারণদের এখানে গণায় ধরে কাজ কী? কিন্তু আসলে সত্যিকারের ইন্টারকানেকশনের সময় কে যে কার প্রতি আসলে এট্রাকটেড হবে তার নিশ্চয়তা নাই, কিন্তু একটা রেঞ্জ আছে। খুব বেশি ব্যাতিক্রম না হলে রেঞ্জের বাইরে কেউ যায় নাই। তাই, সুন্দরদের সাথে সাথে সাধারণদেরও গণায় ধরা হইলো।

# কেউ বলতে পারে প্রেম কী সুন্দর অসুন্দর মাইনা হয়? সব সময় কী চেহারা দিয়া হয়? উত্তর হইল, চশমাটা খুইলা আবার চশমা পইড়া দেখেন আমি লিখছি “সব অর্থে ” সুন্দর । সব অর্থ মানে শুধু চেহারা না, স্বভাব আচরণ টাকা পয়সা ইত্যাদি সব মিলায়া গড়।

# শেষে যেই ৩ জন পোলা বাকী থাকবে, তাদের মাঝে একজন সুন্দর সে সব খানে এগিয়ে থাকবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে, একজন সারাজীবন টাকা পয়সা স্বভাব দিয়া উপরের লেভেলে থাকে না। এদের মাঝে গুণের তারল্য বজায় থাকে।

# এই তিনজন মানুষের জুটিতে অশান্তি করার ব্যাপারে অনেক আগ্রহী। কারণ এদের জায়গা নাই বইলাই এদের মানসিকতা সেই অনুযায়ী পরিবর্তন হইয়া যায় যে, যারে পামু ছিনায়া নিমু।

# মোট ছয়টা ছেলের অর্ধেক মনে হইতাছে সব সময় লাইনে দাঁড়ায়া আছে। এইটার প্রমাণ মিলে একটা গার্লস কলেজের সামনে, গার্লস স্কুলের সামনে পোলাডির ভীড় দেইখা।
এখন ত দেখি ক্লাস সেভেন আর এইটের মেয়ের পিছেও সিনিয়ার পোলাডি লাইন দেয়। ব্লগেও ত চার-পাঁচ জনের দেখলাম এই অবস্থা। তাদের প্রেম কাহিনী থেকে জানা গেল তাদের জুটি ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ে। আর সামনা সামনি ত দেখিই। অনার্সে পড়া পোলা পিচ্চীদের পিছে ঘুরতেছে। আর এইটা নাইন টেন এর ছেলেরা ত আছেই। হে হে হে। আমার ভার্সিটির এক পোলারে পাইছি, সে সিক্সের এক মেয়েকে পড়াইতে যেয়ে প্রেম করতাছে। মেয়ে দেখলেই বন্ধু বা বোন মনে না হয়ে বউ মনে করার আপ্রাণ চেষ্টা থেকেই এই অবস্থার সূচনা।

# শেষ মেষ যারা বাকি থাকে তাদের অনেকে গণহারে বিদেশ যেয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। সবাই জানে ছেলেরা নাকি মেয়েরা কারা বেশি বিদেশে যায়। তাই না? এত ছেলে বিদেশ যায়, তাদের সবার জন্য আমাদের দেশে মেয়ে থাকলে দেখে লাখ লাখ মেয়ে অবিবাহিত থাকত। আর পাত্র পাওয়া যেত না।

# লোভী মেয়েরা তাই আরও লোভী হচ্ছে, কারণ তার পিছে লাইন আছে। সাধারণ মেয়েরা আরও অহংকারী হচ্ছে, কারণ তার পিছে লাইন হচ্ছে। আর, সব মেয়েরা ভাবতেছে তার পিছে কত্ত বড় লাইন, আর সব ছেলে তাকে ভালা পায়। আর কারও পিছে কী এত লাইন আছে?

# আরও ২ জন মেয়ে কিন্তু কাহিনী থেকে বাদ আছে। পোলাডি কখনই নিজের চেহারা দেখে না। তাই দেশের থেকে যৌতুক প্রথা বা পাত্রপক্ষকে লোভ দেখিয়ে বিয়েতে বসাোনোর বাজে অভ্যাসটা যাচ্ছে না।

** এখানে অবশ্যই সব ক্ষেত্রে অবিবাহিতদের কথা কইছি। তয়, এক্সেপশনাল কেইসে বিবাহিত ব্যক্তিদের মনে উড়াউড়ি বেশি থাকলে তারাও এই ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত হইতারেন।
** বোনাস ব্যাখ্যা হিসেবে পাঠকের ব্যাখ্যাও সাদরে গৃহীত হইবে।
৫১টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×