(এই কাহিনীতে কমেডি হবার কোন চান্সই নাই। এইটা পুরাই ট্রাজেডি। তবুও শত্রুপক্ষের লোকের কাছে কমেডি হলেও হতে পারে। সেই চিন্তায় উল্লেখ করা হল। )
পার্ট ১
আম্মু যখন অফিস থেকে আসে, বাস ১০ নাম্বারে নামিয়ে দেয়ার পর বাকি রাস্তা আম্মা হেঁটেই আসে। এটার মূল কারণ হল, রিকশাওয়ালার পায়ে ধরে যদি বলা হয় ভাই দুপুরে আমার বাসায় লাঞ্চ কইরেন, ৫০ টা টাকা বেশি নিয়ে যাইয়েন, তবু আমাকে বাসায় পৌঁছে দেন – তাও উনারা রাজী হন না। উলটা এমন চোখে তাকান যেন কী এক গভীর চিন্তার মাঝে তাঁকে বিরক্ত করা হল।
ত, হাঁটার পথে আম্মু বেশির ভাগ সময় টুকটাক বাজার করেও নিয়ে আসে। আসতে আসতে সাড়ে ৫ টা বা ৬ টার মত হয়। সাধারণত আমি বাসায় থাকলে এমন রুটিনই দেখি।
কয়েকদিন আগের এইচএসসির রেজাল্ট দেবার মৌসুমের ঘটনা। আমার ক্লাস শেষ হয়ে গেল দুপুর ২টায়। বাসে উঠে জায়গা পেলাম রোদের দিককার জানালায়। সেই অবস্থাতেই পড়লাম জ্যামে। বাস নামিয়ে দেয়ার পর শুরু হল রিকশাওয়ালার পায়ে ধরা। নাহ, উনারা কেউ রাজি না।
নক নক। আমি ভাবলাম আম্মু আসছে। অতক্ষণে আমি পাগল হয়ে গেছি শাওয়ারের নিচে দাঁড়ানোর জন্য।
কিন্তু না !!!!!!!!!! আম্মা না !!!!!!!
পার্ট ২
এইচএসসির রেজাল্ট দিছে তার আগে দিন। জিপি ৫ পাওয়ায় খুশিতে মিষ্টি নিয়ে আসছে নিচের ফ্লাটের মেয়েটা !!!! ওহ নো।
এখন ত আমি ফেরত যেয়ে প্যান্ট শার্ট পড়ে আসতে পারি না। এগিয়ে ধরা পিরিচ রেখে দরজা লাগিয়ে ফেরত যাবো ? বললাম, “ওয়েইট, আমি আমাদের বাটিতে রেখে দিচ্ছি। তুমি এখনই পিরিচ নিয়ে যাও।” বলে পিরিচ হাতে নিলাম।
এই সময় মনে পড়ল আমার বডি সাইজ আর টাওয়াল সাইজের রেশিও টা যুতসই হয় নি। এমনিতেই খালি গা, খালি পা, তার মাঝে নড়তে যেয়ে যদি মাঝের অংশটাও খালি হয়ে যায়, এই জীবনে তাহলে থাকবে টা কী?
নড়লেই যদি খুলে যায় !!!
পার্ট ৩
আমার বয়স যখন ৫ বছর ছিল, তখন আমি হর্লিক্স খেয়েছিলাম একদিন। সেই জোরে আমার তখন ব্রেইন খুলে গেল।
এরপরে এখন পিরিচ কোথায় রাখি !! আরেক পিরিচে সেটা রেখে খালি পিরিচ কী খালিই ফেরত দিব? তখন মনে পড়ল ইফতারের সময় প্লেট ফেরত দেবার সময় ভরে দেয়া লাগে, ইন্টারের রেজাল্টের বেলায় লাগে না। এদিকে সময় বয়ে যাচ্ছে। একবার ভাবলাম মিষ্টি রাখার দরকার কী, সব খেয়ে খালি পিরিচ ফেরত দেই। পরে মনে হল, অনেক সময়ের ব্যাপার। আমি খাদ্যপ্রিয় হলেও মিষ্টি প্রিয় না তেমন।
যখন আমার বয়স ৫ ছিল তখন আমি একবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়েছিলাম
এসব চিন্তা করতেছি, টাওয়েল গিট্টু দিতেছি আর সেই ইন্টারপাশ মেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে। টাওয়েল রেশিওর অংক অনুযায়ী এমনিই কম, এর উপর গিট্টু দিলে আর থাকে কী ! এখন আবার প্যান্ট পড়ে আসব? কতক্ষণ লাগবে? অনেক এংগেলে চিন্তা করেও অংক মিলছে না। “এংগেল” !!
ত দরজার এক পাশে দাঁড়িয়ে গেট খুলে দিলাম। দেখি ইন্টারপাশ মেয়েটা একটু পিছে সড়ে দাঁড়ালো। আরে, সে এমন করে ক্যান
ফাইনাল পার্ট
আমি ভাবছিলাম এই ক্যামন ক্যামন ভাবটা করল ক্যান? তবে কী সে আমার সাথে ভাব দেখালো ? হঠাৎ বুঝলাম তাড়াহুড়ায় এংগেল ভুল হয়ে গেছে। টাওয়েল উন্মুক্ত অংশ দরজার বাইরে; উলটা ঢাকা অংশই দরজার ভিতরে। ও মাই গড।
ইন্টারপাশ মেয়ে না জানি কী মনে করছে, ভাবছে হয়ত যে ভিতরে আরও সময় নিয়ে এই রকম গিট্টু দিছি যেন এমন একটা সিন ক্রিয়েট হয়। হায়রে !! নাকি ভাবছে আমি ঘরে এভাবেই থাকি !!
আমার এখন শিক্ষা হইছে, নিজের রুমেও আর খালি গায়ে থাকি না।
এই সিরিজের নিয়মিত পাঠক যারা, তারা জানেন, সাধারণত এই সিরিজটা সত্য কাহিনীর উপর বেইজ করে লেখা হয়।
একই সাথে আমার পার্সোনাল ব্লগ সাইটে প্রকাশিত। সবাইকে আমন্ত্রণ।
http://wings.rizvanhasan.com
আমার ব্লগ সাইটের ফ্যান পেইজ। এখানে লাইক দিলে নতুন যে কোন লেখার লিংক পেয়ে যাবেন।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



