
[***** মুভির কাহিনী এই রিভিউতে কতটুকু বলব আর সেটুকু শুনে পরে এই মুভিটা দেখে আপনি দেখে মজা পাবেন কী না, সেটা আগেই চিন্তা করার দরকার নেই। কাহিনী না আপনার রুচি আর মুডের উপর নির্ভর করে প্রজাপতি আপনার কতটুকু ভাল লাগবে।]
শুরুই হয় মোশাররফ করিম তথা তারেককে দিয়ে। একটা মাতাল/আধাপাগল/সাইকো ক্যারাক্টার। একাই থাকে। বিশাল বাসায় শুধু সে আর তার কাজিন বাবর। এই বাবর মোটামুটি ফানি ক্যারাক্টার। মোশাররফ বাবরকে ওড়না মাথায় নাচতে বলে। ৫০০ টাকার নোট ৫০০টা ফটোকপি করতে বলে। এমনি থাপ্পড় টাপ্পড় মারে। ২জন প্রায় মধ্যবয়স্ক পুরুষের বসে বসে কথপোকথন আর এক্টিভিটিজ আমাকে খুব বেশি হাসাতে পারেনি। তবে হলের অনেক দর্শকই বেশ হেসেছে। কিছু কিছু এমনিতেও জায়গাতে হাসি পায়।
এখন কথা হচ্ছে মোশাররফ করিম এমন করে ক্যানো? সে কী অসুস্থ নাকি মাতাল নাকি সম্প্রতি ছ্যাকা খেল? তার অভিনয়ে সেটা পরিষ্কার হয়নি।
পরবর্তীতে জাহিদ হাসান তথা তানভীর সাহেবের আগমন। জাহিদ হাসান বিশাল জুয়াড়ি কিন্তু সে কখনও জেতে না। তারপরও খেলতে থাকে সে। টাকা না থাকলে পাতা হাতে সাজিয়ে জুয়ায় বসে পড়ে এমনই তার নেশা। তার টেবিলে সাধারণত ৩-৪টা চরিত্রের দেখা পাই। পিছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা গান চলতে থাকে। গানটা ভাল লেগেছে আমার, “টাকা শাকালাকা” টাইপের, কিন্তু শুনতে ভাল লাগে। এরা ড্রিংক্স করে আর তাস দিয়ে জুয়া খেলে। আপনি যদি তাস খেলা নাও পারেন জুয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা মুভিটা বুঝতে আপনার কোন সমস্যাই হবে না। কারণ যারা খেলছিলেন,সম্ভবত উনারাও ব্যাপারটা খুব একটা বোঝেন না। অন্তত জাহিদ হাসানের অভিনয়ে সেটা পরিষ্কার।
তার সুন্দরী স্ত্রী মৌসুমি সংসারের দায়ভার একাই বহন করে। সে অফিসে চাকরী করে । জাহিদ হাসানকে টাকা দিতে দিতে সে টায়ার্ড। আত্মীয় স্বজনের থেকে টাকা ধার করে এনে সে ব্যাবসার টাকা এনে দিয়েছে কয়েকবার। কিন্তু জাহিদ হাসান সব জুয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে। এদের মধ্যে মিষ্টি একটা রোমান্টিক সম্পর্ক। দেখতে ভালই লাগে, তবে বাইরে থেকে এসে এরা হাতমুখ না ধুয়েই খেতে বসে, ঘুমাতে যায়। এটা একটা সমস্যা বটে। এদের আরও স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত। জাহিদ হাসানের খাওয়া দাওয়া নিয়ে মৌসুমি যতটা চিন্তিত, কয়েকবার বাইরে থেকে এসে হাতমুখ না ধুয়ে জুতা খুলে শুয়ে পড়ার ব্যাপারে ততটা চিন্তিত নয়।
এদের বাড়িওয়ালা আবার মৌসুমির সাথে একটা সুযোগ খুঁজে। আড় চোখে তাকায়, এঙ্গেলে কথা বলে। ডায়লগ গুলা যেমন সুন্দর, লোকটার অভিনয়ও মারাত্মক। সাথে মৌসুমিও ভালই চালিয়ে নিলো। কাহিনীর বেশ কিছুক্ষণ পর পর এই বাড়িওয়ালার আগমন। ভাড়ামি না করেই দর্শক হাসিয়ে চলে যান উনি। গুড।
যাই হোক, জাহিদ হাসান খুব রোমান্টিক কিছু কথা বলেও মৌসুমি থেকে টাকা ম্যানেজ করতে পারে না। রেললাইনের পাশে বসে পাতা সাজিয়ে একা একা জুয়া খেলতে বসে। কিছু পাতা হাতে নিয়ে শাফল করে। তাকায়, চুমু দেয় পাতায়। এরপর আবার শাফল করে। এরপর এঙ্গেলে তাকায়। এরপর আবার শাফল করে। আমার পয়েন্টটা ধরতে পেরেছেন? অনেক আগে বাংলা ছবির নায়ক কাজী মারুফের প্রথম মুভির ট্রেইলার দেখেছিলাম এটিএন বাংলায়। সেখানে এক পর্যায়ে একটা গানের মাঝে রেল লাইনের উপর কাজী মারুফ দাঁড়িয়ে। সুন্দরী নায়িকা তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে নাচছে। আর সে একটা টকটকে লাল গিটার হাতে নিয়ে মেটাল গায়কদের মত স্ট্রিং ছিড়ে ফেলছে। আর দু হাতের পজিশন গিটারের মেইন বডিতে ডানদিকে। আর গানটা চলছিল খুবই স্লো একটা রোমান্টিক গান।
কী আজব লাগে না? শটের পিছে এদের কোন মায়া নেই, তাই একটা জিনিস হাতে নেয়ার আগে মিনিমাম খোঁজটুকুও নেয় না। শুধু বাংলা ছবি বলেই কী না, রেল লাইনের পাশে এসে সব নায়কেরা এমনই করে থাকেন।
আসল ঘটনায় ফেরত আসি। মোশাররফ করিম জাহিদ হাসানকে খুঁজে বের করে। খুবই সস্তা কিছু ডায়লগ বিনিময় হয়। জাহিদ হাসান তখন উনাকে ধন্যবাদ দেয় কারণ মোশাররফ করিম এখন থেকে জুয়ার টেবিলে তাকে টাকা ধার দিবে।
এরা তখন জুয়া খেলতে যায়। মোশাররফ করিম বলে সে জুয়া খেলতে পারে না। কিন্তু তার কথা ঐ টেবিলের কেউ বিশ্বাস করেনা। জনৈক জুয়াড়ি বলেন যে, উনি তার চোখমুখ দেখেই বুঝেছেন যে উনি বিশাল খেলোয়াড়। স্বাভাবিক ভাবেই, দর্শকের মনে একটা ধারণা চলে আসে যে একটা পর্যায়ে মোশাররফ করিম জুয়া খেলবেই। আর সবাইকে হারাবে। কিন্তু সেটা জাহিদ হাসানের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? এতক্ষণে হালকা একটা সাসপেন্স। আর যদি আপনার মনে এই ডায়লগের পর এই কথা মনে না আসে, তাহলে আপনার সাসপেন্স আরও পরে আসবে। ওই ব্যাটা বাড়িওয়ালার একটা সিন আছে তারপর।
যাই হোক, জাহিদ হাসান খেলতে থাকে আর হারতে থাকে। এভাবে চলতে থাকে। এক পর্যায়ে মৌসুমির সাথে তার একটা গানও হয়ে যায়। সুন্দর গান। চিত্রায়ণ সুন্দর। গানটা দেখে ভাল লাগে। আগের বাংলা ছবির অভ্যাস অনুযায়ী মৌসুমি মাঠের মধ্যে এক দিক থেকে আরেক দিকে অকারণে একটা দৌড় দেয়। নাটকের অভ্যাস অনুযায়ী জাহিদ হাসান যতটুকু সম্ভব না নড়ে থাকার চেষ্টা করেছেন। দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে নাই যদিও। ত, মৌসুমিকে কথা দিয়ে জাহিদ হাসান জুয়া খেলা বন্ধ করে দেন। কিন্তু মোশাররফ করিমের সাথে দেখা করেন আবার এবং আবারও জুয়া খেলতে যান। এবার দেখি তার হাতে তিনটা তাস। তার মাঝে ৩টাই কুইন। এর আগে কোন তাস চালাচালি চোখে পড়ল না। মাঝে দিয়ে জুয়া খেলার যা সিন, তা খুবই দুর্বল। ক্যামেরা এদিক থেকে ওদিক রোল করেছে বটে কিছু জুয়ার ভাবটা ফোটে নি। তবে পিছনের সাউন্ডের কাজ ভাল ছিল।
এখন জাহিদ হাসান মোশাররফ করিমের থেকে টাকা চান। কিন্তু এবার উনি ধার দিবেন না। অবশেষে জাহিদ হাসান তাকে বুঝায়, “প্লিজ টাকা দেন। আমার খুব ভালো কার্ড উঠেছে।“ কিন্তু মোশাররফ করিম বলেন যে, জুয়ায় কেউ নিশ্চিত বলতে পারে না যে সে জিতবে। এরপরও কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। আর এক পর্যায়ে অমিতাভ যখন মারপিটের অভিনয় করত সেই আমলের হিন্দী ছবির মত জাহিদ হাসান রাজী হয়ে যায় যে জুয়া হারলে সে তার বউকেও দিয়ে দিবে।
এখানে আমি অভিনেতাদের দোষ দেখি না। কিন্তু কাহিনীর প্রেজেন্টেশনটাই ছিল এমন যে আমার ৮ বছরের ভাতিজাও বুঝতে পারবে যে জাহিদ হাসান অবশ্যই বাজীতে হারছে। আপনি যদি সেটা বুঝতে না পারেন, তাহলে আপনার সাসপেন্স শুরু হল।
যেমনটা হল, জাহিদ হাসান হেরে গেলো। আপনার খারাপ লাগতে থাকবে লোকটার জন্য। বাসায় সে আর মোশাররফ করিম ফেরত আসল। জানা গেল, মৌসুমি আর মোশাররফ করিম আগে খুব ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু মোশাররফ করিম তার সাথে প্রেম করতে চাইলেও মৌসুমি গুরুত্ব দেয় না। এখন চুক্তি অনুযায়ী জাহিদ হাসানের স্ত্রী তার। ত মৌসুমি রেগে যায় অনেক আর দাবী করে সে জাহিদ হাসানের সাথে থাকবে না, কারণ এ জুয়ার টেবিলে বৌকে বেঁচে দিয়েছে। ভাল কথা । এমন ত হতেই পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, মৌসুমি মোশাররফ করিমের বাসায় চলে যায়। আচ্ছা, স্ত্রী কি কোন একটা ব্যাটার বাপের সম্পত্তি? এটা কী কোন বস্তু যে একজন আরেকজনকে দিয়ে দিতে পারে? ব্যাপারটা এমন হল যে, আমি নাইজেরিয়ার এক লোকের সাথে খেললাম, খেলতে খেলতে বলে দিলাম যা আমার চাচার বাড়ি গাড়ি সব তোর। এখন এই কথা জানলে আমার চাচা আমার উপর খেপবে ঠিক, তাই বলে ওই ব্যাটাকে বাড়ি গাড়ি দিয়ে দিবে নাকি? মৌসুমি নামক বস্তু এখন তাহলে মোশাররফ করিমের সম্পত্তি? আর সেটা মেনে সে ওর বাসায় চলে গেল?
এখন বিরতি।
এটুকু পরে মনে হতে পারে কাহিনীতে বোধহয় টুইস্ট আসবে। কিন্তু না, বাংলাদেশে ২০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপণে টুইস্ট দেয়া যায় কিন্তু ২ ঘণ্টার মুভিতে নয়। মৌসুমি না খেয়ে থাকে আর জাহিদ হাসান গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। মোশাররফ করিম নিজের প্রতিবিম্বের সাথে কথা বলতে থাকে। আর রোমান্টিক গান হয়। গানটা হল ডুব। গানটা খুবই সুন্দর। চিত্রায়ণ এমন আহামরি কিছু না। এরমধ্যে টুকটাক ফ্লাশব্যাক চলে। একই ঘটনা একই চিত্রায়ণে একই কথা বার বার ঘুরে ফিরে ফ্লাশব্যাক হয়। মোশাররফ করিম মুখে মুখে বলে যে এক ছেলে মৌসুমির সাথে কথা বলছে তাই তাকে পিটাইছে। এখন মৌসুমিরও ত দোষ তাহলে, এই জন্য সে এই ছেলেকে ডাবল পিটাইছে; মৌসুমিরটা ওর উপর দিয়ে গেল। মৌসুমি মোশাররফ করিমের সাথে গাড়িতে করে এখানে সেখানে ঘুরতে যায়, দূরে দূরে যায়। ছোটবেলা মোশাররফ তাকে পানি থেকেও বাঁচাইছে। তাই তারা একসাথে খায় দায়, ঘুরে ফিরে, বেড়াইতে যায় রোমান্টিক পোজে দাঁড়িয়েও থাকে কিন্তু তারা প্রেম করে না। কারণ? মোশাররফ করিম নাকি সাইকো। প্রথমে মনে হচ্ছিল কাহিনীকার বুঝাচ্ছেন যে, মৌসুমিকে হারিয়ে মোশাররফ করিম আধাপাগল। পরে বুঝলাম সে আগে থেকেই আধাপাগল। সাইকোর সাথে দূরে দূরে ঘুরতে পারো, এতদিন একসাথে চলতে পারো আর বিয়ে করতে গেলে তখন গায়ে লাগে ! সে মৌসুমিকে ডাকে, তখন মৌসুমি খুব ভাব নিয়ে বলে, “কী রে ডেকেছিস ক্যানো?” মোশাররফ করিম বলে যে ওকে বিয়ে করবে। তখন দেখা গেল মৌসুমি হালকা ইমোশোনাল হয়ে গেল আর বলল গতকালই ওর এঙ্গেজমেন্ট হয়েছে। আর হাতে তার আংটি। আমি বুঝলাম না, তাকে পাত্র দেখতে আসছে সেটা ও আগে জানালোনা কাউকে? এতদিন এক ছেলের সাথে ঘুরে এখন বিয়ে ঠিক হল বলে চলে গেল?
আসল কথায় আসি। বাবর মৌসুমিকে কনভিন্স করে যে আসলে মোশাররফ করিম আধাপাগল ওর জন্যেই (ওয়েইট, ছ্যাকা খাওয়ার আগেই ত মৌসুমি ওকে তাই-ই ভাবত)। তখন ছাদে এসে মৌসুমি কানতে থাকা মোশাররফ করিমের মাথায় ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দেয়। হিন্দী ছবি নয় বলে ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়। নইলে ত গেছিলো মৌসুমি আগের ফর্মে ফিরে। যাই হোক, ওদিকে মোশাররফ করিম গেটের বাইরে আসলে জাহিদ হাসান তাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় যে মৌসুমি তাকে ছাড়া বাঁচবে না। মোশাররফ করিম তখন মৌসুমিকে চয়েস করতে বলে। মৌসুমি কানতে কানতে নিচে আসলেও জাহিদ হাসানকে দেখে মতামত চেঞ্জ করে। আর বলে যে সে ওর সাথে থাকবে না, কারণ ও ওকে বেঁচে দিছিলো।
এরপর জাহিদ হাসান ঘরে হঠাত কী যেন দেখে। বিশ্বাস করেন আর নাই-ই করেন, আপনি নিজেই বুঝে যাবেন যে ও মৌসুমির গহনা গাঁটি পাবে। এটা নিয়ে আগেও কথা হয়েছিল। তাই-ই হল। ও এগুলা বেঁচে ধার শোধ করল আর জানতে পারল মৌসুমি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে আগেই। মোশাররফ করিম এখন অনেক মন মরা হয়ে গেছে। জাহিদ হাসানও। আর মৌসুমি ওদিকে গ্রামে বাচ্চাদের শিক্ষকতা করে। সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ এই কথাটা ততক্ষণ রিপিট করবে যতক্ষণ না আপনি ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে কেঁদে দিতে চাবেন। কাহিনীতে ছিল যে বাচ্চাদের পড়াইতেছে, সেটার চিত্রায়ণে যেয়ে উনারা আর কথা পায় নাই। তাই একই কথার রিপিট।
শ্যষ হইয়াও হইল না শ্যাষ। মুভি শ্যাষ বটে কিছু রিভিউ না। আসল কথাই বাকি। বাংলা ছবির রীতি অনুযায়ী মোশাররফ করিম সুইসাইড করে নাই।
মুভি মেকিং নিয়ে কথাঃ
**** ঐ বাড়িওয়ালার কী হইল? কিছু না, কাহিনীকার তার কথা ভুলে গেছে।
**** সব মিলিয়ে কয়টা ক্যারাক্টার দেখছেন? ৫-৬ টা মানুষ দিয়ে পুরা মুভি। এমনকি সাইডের ক্যারাক্টারও তেমন নাই।
**** বিয়ে বাড়িতে যখন রেকর্ডিং হয়, তখন কী কেউ ক্যামেরা তিনতলায় নিয়ে নিচের দিকের ভিউ রেকর্ড করে? করে না। বিয়ে বাড়ির রেকর্ডে দেখবেন শুধু ক্লোজ শট ছাড়া কিছু নেই। এই মুভির ক্যামেরাম্যানও সেই কোয়ালিটির লোক। লং শট বলতে গেলে নেই আর ক্রেইন শট ২টাও ছিল কী না সেটা একটা প্রশ্ন। মহাস্থান গড়ে ঘুরতে গেছে মৌসুমি আর মোশাররফ ফ্লাশব্যাকে।সেখানেও আশেপাশের একটা দৃশ্য দেখায় নাই। সব ক্লোজ শট।
****মৌসুমি সুন্দর সুন্দর ড্রেস পড়ছে। খুব সুন্দর লাগছে। ছেলে দুটা নাটকে অভিনয় করে বলে এদের এমন আহামরি কিছু পড়ায় নাই। জাহিদ হাসানকে গানের মাঝে একটু পোছপাছ করাতে যেয়েও করায় নাই অথবা ওকে তেমন স্টাইলিশ লাগে নাই।
**** গানগুলা ভালো।
**** কাহিনীর প্রেজেন্টেশন খুব ফালতু। বাংলা ছবি ভাবটা রেখেই দিছে। আর শ্যাষে এটা কী হল? ভাব নিলো। তাও ভালো যে, রীতি অনুযায়ী মোশাররফ করিম সুইসাইড করে নাই।
*****পুরা মুভিতে একটাও সিরিয়াস এক্টিং নাই। প্যানপ্যানি টাইপের কান্না দিয়ে ভরা, হাউমাউ টাইপ কিছু নাই।মিনিমিনে চিল্লানো আছে,এর বেশি কিছু নাই।
*****বিবাহিত নায়ক নায়িকাকে দেখে মনে হয়না এরা বিবাহিত। পুরা মুভিতে নায়ক নায়িকা কেউ কাউকে একবারও জড়িয়ে ধরে নাই। বিজ্ঞাপণ গুলাও এরচেয়ে এনজয়েবল। বিটিভির নাটকের নায়ক নায়িকার মত লাগে। মৌসুমির অতীত রেকর্ড (পুরানো বাংলাছবিতে উনার ড্যান্স, ড্রেস) অনুযায়ী এখানে তার ক্যারাক্টারকে আরও সুযোগ দেয়া যেত।
*****বিরতির পরের অংশের কাহিনী দেখাতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের বেশি লাগার কথা না। অকারণ হাঁটাহাটি কান্নাকাটি দেখিয়ে টাইম পাস করছে।
অভিনয় নিয়েও কিছু বলিঃ
**** জাহিদ হাসানের অভিনয় ভাল। কিন্তু কিই(চাবির ইংলিশ) পয়েন্টটা মিসিং। সেটা হল জুয়া খেলার অভিনয়। অন্যান্য অংশ ভাল হলেও এই অংশের বিশ্রী অভিনয়ের জন্য তাকে ক্ষমা করা যায় না।
**** মোশাররফ করিম অনেকগুলা হাসির ডায়লগ দেয়। পুরা মুভিতে ডায়লগ মোটামুটি চলে। তবে মোশাররফ করিম প্রথম দিকে খুব দুর্বল অভিনয় করেছে। উনার ব্যাপারে এধরণের কথা বলতে গেলে অনেক চিন্তা করতে বলা লাগে। আমি চিন্তা করেই বলছি। তবে কিছু কিছু জায়গা ভালো। অল্প।
**** মৌসুমির কারণেই এটা সিনেমা। নইলে এটা টেলিফিল্মের যোগ্যও না।
পোস্ট ত শেষ, এখন ভাবছেন আমার চ্যালেঞ্জটা কী?
চ্যালেঞ্জ হল ক্যামেরা দিলে আমি এইরকম মুভি ১ সপ্তাহে বানিয়ে দিতে পারি। তাও শিওর না যে এত টুইস্ট ছাড়া মুভি করতে পারবো কীনা।
আর ? আরো ত কিছু একটার কথা ছিল টাইটেলে। তাই না? আসলে, সেটা কিছুনা। মুভি সাসপেন্স দিতে পারে নাই। মনে করেন এই পোস্টও চেষ্টা করছিল কিন্তু পারলো না ।
ফেসবুকে আমার ব্লগের পেইজ দেখতে লাইনটার উপরেই ক্লিক মারেন। ভাল্লাগলে ক্লিক মারেন।
আর এই লেখা আমার ব্যক্তিগত ব্লগেও প্রকাশিত।
http://wings.rizvanhasan.com/archives/479
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


