সত্যি বলতে কি, বৃষ্টি আমার খুব ভাল লাগে। এক একটা ফোঁটা যেন এক একটা ঢেউ আনে রাস্তায়। গাছে আনে প্রণের চাঞ্চল্য। এইতো, কদম গাছটা, বৃষ্টিতে কত্তো সবুজ লাগছে। 'আরে, এতো দেখি কদম ফুল'! হবেই বা না কেন? এখন যে বর্ষাকাল! মূহুর্তেই যেন আমার স্ব্প্নদূয়ার খুলে গেল। একগোছা কদমফুল হাতে আমার, 'কণা' আমার সামনে, আমি হলিউডের নায়কের মত এক হাটু মাটিতে গেড়ে দুহাতে কদমফুল বাগিয়ে ধরে বলছি, 'বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল...'। এখন একটাই প্রার্থণা, বৃষ্টি থামুক।
বিধাতা যেন দয়া করলেন। বৃষ্টিটা হালকা হয়ে আসছে, সঙ্গে হালকা রোদও। বাহ! কাঁচা রোদে কচি সবুজের বুক ফুঁড়ে জেগে উঠা সাদা-হলুদাভ ফুলগুলো সত্যিই মন কাড়ে। এই বর্ষাবাতাসে কি সুন্দর দুলছে! যে করেই হোক, পেতেই হবে আমাকে। 'কদম' আর 'কণা' দুটোই আমার চাই। কিন্তু ভাই, গাছে উঠে কদম পারাতো আমার কম্মো নয়। চোখ গেল রাস্তার কিশোরগুলোর দিকে। বৃষ্টি নামলেই একমাত্র সম্বল 'ফুটবল' নিয়ে হৈ হুল্লোড়। যদিও বেশিরভাগ সময়েই বলে হাওয়া থাকেনা। দেখি, ওদের দিয়ে কাজটা করানো যায় কি না।
'এই করিম', মনে হল শুনতে পায়নি।
'আ্যই ক-রি-ম'
'কি?' খেলা থেমে গেল।
'একটা কাজ করে দিবি?'
'কি?' সবার বিরক্তিমাখা মুখগুলো আমার দিকে।
'কদমফুল পেরে দিবি? বেশি না, পাঁচটা' এবার চেহারায় রাগের আভাস।
'ফুটবলে হাওয়া ভরার টাকা দিব, পুরাটা, দিবি?'
এবার মনে হয় প্রস্তাবটা মনে ধরলো। সবাই মিলে গেছূয়া মনিরকে গাছে উঠিয়ে দিল। কয়েকটা ফুল পারতেই হাবিব বলল সে কিছু নিবে, মুসা বলল তারও চাই। এমনিকরে চাহিদা-যোগানের মারপ্যাচে ছোট গাছটার প্রায় সবফুলই কিশোরদের দখলে। বৃষ্টি একদম নেই বললেই চলে। এবার অফিসের জন্য তৈরি হওয়া যাক। মনির গাছ থেকে নামতে শুরু করেছে। মূহুতেই চোখ চলে গেল গাছটার দিকে। ফুল হারানো গাছটাকে কেমন যেন বিবর্ণ লাগছে। কয়েকটা ডালও ভেঙ্গে গেছে। খুব মন খারাপ হয়ে গেল। করুণ চোখে তাকিয়ে থাকি গাছটার দিকে।
'এর জন্য কি আমিই দায়ি'?
হঠাৎ একটা দুরন্ত বাতাস। গাছের পাতাগুলো যেন হাওয়ায় দুলে উঠলো। মনে হল গাছটা বলছে, 'আগামী বর্ষায় জেনো আবার আমি তোমাদের হব'।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


