somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

 ব্লগার_প্রান্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পড়ি এবং নিজের ক্ষুদ্রতা ও জ্ঞানের স্বল্পতা স্বীকার করি। নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবি না। ঐ বয়সটা পার করে এসেছি।

প্রফেসর

০৬ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বোশেখ মাসেও নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। আমি কলাবাগানের এদিকে এসেছিলাম এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে। বাসায়
ফেরার পথেই ঝুম বৃষ্টি নামলো। বৈশাখী ঝড় নয়, একদম শ্রাবণের ধারা। যদিও বৃষ্টিতে ভিজতে আপত্তি নেই তবুও আশ্রয় ছিল তাই আশ্রয় গ্রহণ করলাম। আমাদের এক পারিবারিক বন্ধুর বাসা এই কলাবাগানেই। তিনি একসময় এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। উনার বাসায় আমাদের আসা যাওয়া ছিল এবং আছে।

টিং টং, আমি বেল টিপলাম।
দোতলা বাড়িটায় প্রফেসর একাই থাকেন। কাজের লোকেরা দিনের বেলা কাজ করে দিয়ে চলে যায় আর একতালায় একজন দারোয়ান থাকেন।
দারোয়ান আমাকে দেখে কেচিগেট খুলে দিলো।
এই সন্ধ্যাকালীন বৃষ্টিতে গরম পুরি আনা হয়েছে। দারোয়ান প্রকাশ্যে তার ভাগ গলাধঃকরণ করছে আর আমাকে দেখে মুচকি হাসছে। আমি পুরো কাকভেজা হয়েই উপরে উঠে আসলাম।
সন্ধ্যের সময় তিনি পড়াশোনা করেন, কিন্তু বৈশাখে তো আর রুটিন ধরে চলা যায় না। দেখি তিনি বারান্দায় বসে আয়েশ করে চা- পুরি সেবন করছেন।
-"প্রান্ত, এই বৃষ্টিতে কোথা থেকে এলে.."
মনে মনে একটু লজ্জা পেলাম।
-'' যাও, বাথরুমে তোয়ালে রাখা আছে।''

হাত পা কোন রকম মুছে, আমি প্রফেসরের পাশে এসে বসলাম।
তিনি মুচকি হেসে বললেন,''এদিকে হটাৎ কি মনে করে?''
আমি একটু বিব্রতবোধ করলাম। উনি কি কিছু আঁচ করতে পারলেন?
-''না মানে, এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।''
-"হা হা, এত ইতস্তত করার কি আছে? কেমন বন্ধু?"
-"বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী।"
-"ভালো, নাও গরম পুরি খাও।"
আমি পুরি খেতে খেতে বললাম,"আসলে মেয়ে বন্ধু, কিন্তু অন্য কোন সম্পর্ক নেই। ওর বয়ফ্রেন্ডের জন্য শপিং করার জন্য আমায় ডেকেছিলো। "
প্রফেসর একেবারে চুপ মেরে গেলেন। আমিও অস্বস্তি নিয়ে পুরি খেয়ে চললাম।
-"আসলে চরিত্র খুব নাজুক জিনিস।"
আমি প্রফেসরের দিকে চাইলাম।
-"মানুষই নিজেকে নিজে মূল্যহীন করে ফেলে।"
আমি প্রফেসরের দিকে তাকিয়ে বললাম, এ কাজের জন্য আমি তিনশত টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছি।
এবার তাঁর মুখে হাসি ফুটলো। -"সাবাস"
-"দুপুরে খাওয়া হয়েছে?"
-"জ্বী, বান্ধবীর টাকায় দুপুরে এক হোটেলে খেয়েছি।"
-"ওয়েটারকে টিপস দিয়েছিলে?"
-"জ্বী"
-"বান্ধবীর গাড়িতে ঘুরলে নাকি?"
-"না, রিকশায়।"
-"রিকশাওয়ালাকে টিপস দিয়েছো?"
আমি খাওয়া বন্ধ করে বললাম,"নাতো"
-"ওয়েটার খাবার সার্ভ করে, এজন্য তাকে বেতন দেওয়া হয়। তারপরও আমরা তাদের টিপস দেই, খুশি করি। অথচ চোখের সামনে
একজন রিকশাওয়ালা কষ্ট করে প্যাডেল চাপেন, তাকে ৫-১০ টাকা বেশি দিতে হলে, আমরা প্রথমে দুটো কথা শোনাই। কখনো ভেবেছো।"
আমি ভাবতে বসলাম।
প্রফেসর সাহেব নিরবতার অবসান ঘটিয়ে বললেন,"আসলে এগুলো হচ্ছে সংস্কৃতির বিষ। ভিনদেশী সংস্কৃতি মানুষের পোশাক রুচি পাল্টায় না, পাল্টায় মানুষের দর্শন।"
দর্শনের সাবেক এই অধ্যাপকের কথা খুব ভালো ভাবে জরিপ করলাম। আসলেই, কালো হওয়া কি দোষের কিছু। কেন সবাই চায়, ইংরেজদের মতো ফর্সা হতে। সব দাঁত সমান না হলে কেন স্কেলিং করতে হবে? আমাদের ভাবনার জায়গাটা আসলে কোথায়? চুল
ছোট রাখলে, তাতে দোষটা কি। দেশও ভালো নেই, মানুষও ভালো নেই। আইন শৃঙ্খলার যা দশা! এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে পুরি আর মুখে রুচলো না।
প্রফেসর সাহেব আরেকটা কথা বললেন," এশিয়ায় আমরা হতে চেয়েছিলাম ইউরোপ, কিন্তু হয়ে যাচ্ছি আফ্রিকা! "


বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। প্রফেসর সাহেব একটা সিগারেট ধরালেন।
-"প্রফেসর একটা ভালো বাংলা বইয়ের নাম বলুন। সাহিত্য মান ভালো হওয়া চাই।"
-"সাহিত্যে আমরা সেন্টিমেন্টাল জাতি। যা পড়ে লোকে কাঁদে, মন খারাপ হয়ে যায়, তাই লোকপ্রিয়। সাহসের কথা আমাদের মাঝে নেই।"
উত্তর পেলাম না, কিন্তু বৃষ্টি থামলে বেরিয়ে এলাম। আরেকদিন আসবো।

©প্রান্ত-২০১৮

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩২
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×