somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্তিত্ত্ব এবঙ পরম-সত্ত্বা, ঈশ্বর, জ্ঞান ও বিশ্বাস - একটি কমেন্ট

২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্তিত্ত্ব নিজেই নিজেরে জানান দেয়। এটাই অস্তিত্ত্বের মর্ম। এই কারণে এটা গুণ নয়। কিন্তু গোলমেলে বিষয় হলো, অস্তিত্ত্ব সবসময় সাপেক্ষ বিষয়। সেটা কালগততো অবশ্যই এবঙ বিষয়গত বিবেচনাকে বড় করে জড়িয়ে নেয়। এর ফলে তার নিজের ভাষাটাই চাপা পড়ে যায়। আল্লাহকে যে অর্থে অস্তিত্ত্ববান জ্ঞান করা হোক না কেন, সেটা সাপেক্ষের স্থানে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যা তার ধারণার সাথেই বেমিল তৈরী করে। আবার মনুষ্য জগতে এই স্ববিরোধীতার পাশ কাটানোর বিষয়খানা আত্নগত। অর্থ্যাৎ, প্রায় ভিনজগতেরই কারবার।

যুক্তি-তক্কো, প্রমান, জ্ঞান , বিশ্বাস যে অর্থকেই সামনে নিয়ে আসি না, তারা কেউ সম্পূর্ণ না। যদি আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা বা সর্বজ্ঞানী হন, এটা ধারণাগত কোন চিত্র তৈরী করে কি? সেটা ধারণা বা সাপেক্ষ বাস্তবতার বাইরের বিষয় নয়। সেই অর্থে পরমকে জানা বুঝা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

অদ্ভুত একটা বিষয় হলো, মানুষ বলে তাকে সে নিজেরেও বুঝে নাই। এখানে সে নিজে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যক্তি মাত্র আধা-আলো আর আধা-অন্ধকারে। সেই অজ্ঞানতাকে সে ছোট পাত্রে নিয়ে বুঝতে পারে না। তাই যুক্তি এবঙ বিশ্বাস করার প্রবণতা তাকে বড় কিছুর সন্ধান দেয়। এটাকে সে যুক্তি-তক্কে সপেঁ দিয়ে নিজের মূর্তি তৈরী করে। তাই তাকে সেই বাস্তবতার উর্ধ্বে যেতে হলে নিজেরেই অতিক্রম করতে হয়। এখন কাজের প্রশ্ন হলো, এটা কেন করতে হবে? কুয়োর ব্যাঙ কুয়োর থাকলে মন্দ কি?

কারণ কিছু না, কুয়োর ব্যাঙ সমুদ্দুরের হদিস পাইছে। সেই হদিস কেমনে পাইছে? সেটা আর কিছু না, তার আকলের ভেতর কেউ একজন তারে এই ঠিকানা দিয়ে দিছে। যে ভাবটা পরম, তা তার অসম কিছুতে আপনা আপনি জাগ্রত হতে পারে না।

সেটা বিশ্বাস অবিশ্বাস দিয়ে হাসিল করা যায় না। যেহেতু এই বলে দেয়াটাই তার অস্তিত্ত্বের সাথে জড়িত তাই এই মীমাংসা তারেই করতে হবে। অপর দিকে বিশ্বাস করার ঘটনা হলো, নিজের ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো। এই ক্ষেত্রে বিশ্বাসের ভরসা পুরোটা মীমাংসা হয় না, যতদূর পয্যন্ত না নিজের ভেতর থাকা আধ্যাত্নিক পরম ভাবে পৌছা না যায়, ততক্ষণ তারে বিশ্বাসের ঝান্ডা হাতে নিয়া দিন গুজরান করতে হয়। যখন সে আসলে আপন অস্তিত্ত্বের মুখোমুখি হয়, তখন সবকিছু তার সামনে পরিস্কার। তখন আর বিশ্বাস প্রমান যুক্তি তক্কের প্রয়োজন পড়ে না। এইসব কিছু অসারতায় পর্যবসিত হয়।

বিশ্বাস একখানা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থক শব্দ। আর বিশ্বাসের উপর কোন ধরনের শ্রেণীকরণের প্রশ্ন থাকে না। বিশ্বাস কি? এরমধ্য দিয়ে কি আল্লাহকে ধরা যায়? মনে হয় না। বিশ্বাস বাস্তবকে কণ্পলোক এবঙ প্রয়োজন ও পরিপ্রেক্ষিতের সাথে যুক্ত করে। এটা পরমের কোন ধারণা দিয়ে সৃষ্টি নয়। এরমধ্য দিয়ে একধরণের প্রাকল্পিক বাস্তবতা উম্মুক্ত হয়। যা মূলীভূত নয় বরঙ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তনীয়। কিন্তু সাপেক্ষ জগতে এর মুল্য অনেক। বিশ্বাস হলো পরিবর্তনশীল জগতে বেঁচে থাকার মাধুয্য।

ধর্ম নিজেই ঈমানের মতো নিগুঢ় শব্দ পরিচয় ঘটায়। যা চুড়ান্ত বাস্তবতার সাথে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সম্মিলিন ঘটায়। এটা আত্নার খোরাক। একই সাথে নানা মাত্রাতে স্থিতি হওয়া। এখানে বিশ্বাসের মতো অনিশ্চিতির আগমন ঘটে না। জ্ঞান যখন কোন কিছুকে নিজের সাথে যুক্ত করে, সাথে সাথে অতিক্রম্য অনিশ্চিয়তাকেও নিজের সাথে জুড়ে নেয়।

সুতারাঙ, আল্লাহতে কেউ বিশ্বাস করে কিনা তা অনিশ্চিতির সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে আসে। তাই বিশ্বাস করি কিনা, এটা দিয়ে কোন সমাধান হয় না। এইজন্য প্রমান আর যুক্তি ছাড়া আল্লাহ ধরা দেয় না। সেই প্রমান আর যুক্তি শুরু বা শেষ নাই। এটা প্রাকল্পিক শেকল আকারে নতুন নতুন যুক্তিবাক্যে আবির্ভূত হয়। আর আমরা যদি ঈমানের প্রশ্ন মোকাবেলা করি, তবে বিষয়টা আলাদাভাবেই ধরা পড়ে।

আমার শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক পরম-সত্ত্বা, ঈশ্বর, জ্ঞান ও বিশ্বাস শিরোনামে একখানা পোষ্ট লিখেছেন। সেই পোষ্টে একখানা কমেন্ট দিয়েছিলাম। কমেন্টটা এডিট করে এই পোষ্টটি লেখা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০৯
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×