somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝড়ে বক না'ও মরিতে পারে

২১ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাঠিকাগণ ইহাকে নীতি কথনমূলক পোষ্ট মনে করিলে নিতান্তই ভুল করিবেন। বিলক্ষণ ট্রাজেডী হইল, ইহা শেষ পর্যন্ত নীতি কথনে পর্যবসিত হইতে পারে। ভবিষ্যত তো খালি চোখে দেখন যায় না। ডেলফির মন্দিরে ভবিষ্যত দেখিতে কিঞ্চিৎ ধোঁয়ার প্রয়োজন পড়িত- সেই যুগ কবেই বিগত-যৌবনা। তারপরও ক্ষণে ক্ষণে ভ্রম হয়।

দুনিয়ার নিয়ম এই, অস্থির চিত্তের লোকেরা দুনিয়ারে আপন আপন বাল-খিল্যতা, লাভ-লোকসানের স্বভাব ধর্মের ধর্ম মত চালিত করিবার বাসনা পোষণ করে। এই জন্য নানা লেবাসের আয়োজন করে বটে। কিন্তু মানব স্বভাব আর দুনিয়া যদি একই অভিমুখে না চলে, সেই বিশাল বপুর বৈপ্লবিক মানুষ দুনিয়ার গতিমুখ আপনার কামনা-বাসনায় এস্তেমাল করিতে না পারিলে নানা নীতি-নৈতিক আশ্রয় নেয়। বিলক্ষণ স্ববিরোধ।

হে পাঠিকা, সে আসলে দুনিয়ার ভালো-মন্দ বুঝিতে আসে নাই। কিসে আপনার ভালো-মন্দ তাহাই বুঝেই তাহার মোক্ষ। ক্ষমতা , ইন্দ্রিয় তৃপ্তি ইত্যাদী ইত্যাদী। কিন্তু অবুঝরে নিজেরে বুঝ দিতে হয়। ইহা আমি নহে আমাগোর বাতচিত। তাই আকড়াইয়া ধরি নানান খোলস। তার উদগ্র কামনা-বামনা চরিতার্থ করিতে মহত্বের, ধর্মের, ন্যায়পরায়ণতা, সত্যের দোহাই দেয় আর পৌরহিত্যের ভেক ধরে। মহান ধর্মে এই যাজকীয়তার কি রুপ আছে জানি না। কিন্তু সে আপনকার জগতে মহান পোপ হইয়া ঈশ্বরের নগর কায়েম করে। সেই ভ্যাটিকান নগরে হয়তো মানুষ থাকে না, তবে কল্পিত দালানকোটা সারাক্ষণ ঈশ্বরের নাম জপ করে। আফসোস, দালানকোটা যতই এবাদত করুক, সে তো আর ধর্মের রাস্তায় উৎকোচ প্রদান করিতে পারে না।

ধর্মের লেবাসে ডাকাইতও আউলিয়া হইছে। ধর্ম সে সুযোগ রাখছে। বোধ করি, এই সুযোগ খানা প্রতিক্রিয়াশীলতা নহে। তা নাহলে ডাকাত পীর হইলেও ডাকাত থাকিত। কারণ আপনকার স্বার্থের বিষয়ে তার কোন কামনা-বাসনা ছিলো না। ছিলো না আউলিয়াকূলের শিরোমনি হইবার ধান্ধা। ধান্ধা শব্দটা যাচ্ছে না। তারপরও ঘুরিয়ে না বলে সোজাসুজি হাঁটলে ভালো। সক্রেটিস কেন যে কইছিলেন চেনা পথ বক্র হইলেও ভালো। এখন তো সোজা আঙ্গুলে কি উঠে না।

প্রবাদ-প্রবচনে আছে, চোরে না শুনে ধর্মেও কাহিনী। ইহা উলোবনে মুক্তো ছড়ানোর মত। তাইলে ডাকাত কেমন আউলিয়া হয়। চোর নিচুজাত কিনা। সে করবে হুজুর হুজুর- তার কিসের খবরদারী। একটু বর্ণবাদী হইয়া গেলো না। আবার ভাবতাছি দুনিয়ার ইতিহাস এমনি। দুনিয়ার ইতিহাস তাবৎ ডাকাইতের ইতিহাস। নিচুজাতের কোন ঠাঁই সেখানটায় নাই।

খোদাতায়ালা যা করেন, সেটা শরীয়তী মানুষ’রা বুইঝা না বুইঝা চক্ষু বন্ধ কইরা মাইনা নেন। আর ভেক ধরা গুরু’রা ঝড়ে বক মরছে কিনা তার খোঁজ করেন। এর নাম বুজরুকী, আর সাহেবী কেতায় আধ্যাত্নিকতা। আমরা নাদান লোকেরা আহাম্মকের মতো তাকাইয়া ভাবি, আহা কি ছিলো, কি হইল। হক্ব মওলা। আর আধ্যাত্নিক গুরু’রা ভাবেন কি ছিলো কি করিলাম। নইলে, স্বয়ং শেষ নবী [সঃ] যা করেন নাই, তার আধ্যাত্নিক উম্মতরা তাই করেন। তারা ঝড়ে বক মরার অপেক্ষায় থাকেন। শাপ-অভিশাপ দিয়া দুনিয়ারে ডাইনীর খোয়াড়ে পরিণত করেন।

পাঠিকা খেয়াল কইরেন, আমি কোন নীতি-কথা কইতে আসি নাই। কারণ, ধর্মের দোহাইয়ে কামলাগিরিতে জাত যায় না। ধর্ম তারে বাঁচাইয়া দেয়- অংক না শিখে জীবনের বারো আনা বৃথা হইলেও তার ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। আমি সাহেব ধার্মিকদের কাছে আরজ করি, দুনিয়াতে সবর্দা ঝড় হয় না, বক মারাও পড়ে না। যদি হয়, তখন তো আপনি অনিরাপদ জলযানেও থাকিতে পারেন। তাইলে সাঁতার না হয়, নিদেন পক্ষে হুজুরের হাছুর তো জানা লাগে। নইলে এতো বুজরকীর ষোল আনা বৃথা। নগদ লাভ, এইসব অপ-যাজকীয়তার কুফল হইতে আমরা বাঁচিয়া যায়।

ধর্মের নামে নীতি-কথার অপরিমিত চর্চিত-চর্বণ হলেও, ধর্ম ক্রমশ ভালো-মন্দের ভেদ শিখাইয়া মানুষ আর মানুষের দুনিয়ারে আগাইয়া নিয়া চলে। দুনিয়া আপন স্বার্থের শুকনা নীতিকথার ফয়সালা না, স্বভাব ধর্মের ফয়সালা। সেখানটায় পদ আর সম্মানের লোভে যাজকীয়তা আকঁড়ে ধরলে অনেক কিছু হইতে গিয়াও হয় না।

এইবার এখানকার নীতিকথা বলি: ধর্মের মুদি দোকান দিয়া লাভ ষোল আনা হইলে এই হইজাগতিক। তাই কামনা-বাসনা ত্যাগ করিয়া বিনীত হও। বিনয়ের দোকানে অন্বেষণ করো পরকাল।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪১
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×