এই পোস্টটি পড়লে আমাকে রাজাকার মনে হতে পারে, সুতরাং পড়ুন আর আমাকে রাজাকার বলে গালি দিন। কারণ আমি রাজাকার।
সরকার এই "যুদ্ধাপরাধীদেরর বিচার" "যুদ্ধাপরাধীদেরর বিচার" করতে করতে আমাদের সাধারণ জনগনের দৃষ্টি ঐদিকেই রেখে দিয়েছেন। এদিকে দেশের উন্নয়নের যে বারোটা বাজছে সেদিকে আমাদের খেয়াল নেই। এমন কোন দিন নেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার বা সাঈদী-নিজামী দের নিয়ে ৫০ টি পোস্টের কম দেখি। দেশকে নিয়ে যদি আমরা ৫০ টি পোস্ট দিতাম তাহলে আমাদের লাভ হতো, কারণ তাতে প্রমানিত হতো আমরা উন্নয়নের কথা ভাবি, এবং আমাদের সচেতনতা সেদিকে দরকার। সাঈদী-নিজামীর মত লোককে ফাঁসি দিলে দেশে বিশাল কোন উন্নয়ন কিম্বা লাভ হবে না, আবার বড় কোন ক্ষতিও হবে না। আসল কথা হলো ওনাদেরকে ফাঁসি দিতে সরকারের বড় কোন বাজেট খরচ হবে না, আবার জনগনকে ঐদিকে ব্যাস্ত রাখা যাবে ৫ বছর। যেমনটি আমাদেরকে ব্যাস্ত রেখেছিলো বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর বানানোর নামে। সম্পুর্ণ যুক্তিহীন একটি ইস্যু দিয়ে দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেখেছিলো সরকার অনেকদিন। অনেক নাটক হলো, অবশেষে সেই বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের গান থেমেছে। মাননীয় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা, রাজাকার কিন্তু ৪/৫ জন নয়, সকলের বিচার করা কিভাবে সম্ভব সেটি ভাবুন? শুধু ৪/৫ জনের বিচার করলে বিচারটি একপেশে হয়ে গেলো না? আরেকটি প্রস্তাব, চিটাগাং এয়ারপোর্টকে বড় করে আন্তর্জাতিক মানের করুন, বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরন করুন সমস্যা নেই। সমুদ্রের কাছে হওয়ায়, আন্তর্জাতিক ট্রান্জিটের জন্য এরচেয়ে ভাল জায়গা আর হয়না। কিন্তু স্বল্প আয়তনের দেশের কয়েকশো বিঘা জমি এভাবে টান দেয়ার কথা ভাববেন না
মনে আছে কি আমাদেরকে যেসব নির্বাচনী ওয়াদা দেয়া হয়েছিলো?? যেসব ওয়াদা পালনে সরকারের কোন টাকা খরচ হবে না সেগুলি পালন করেছে অনেক আগে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় সাধারণ জনগনের যেগুলি দরকার সেদিকে কি নজর দিয়েছে সরকার? বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি অবশ্যই কার্যকর করা জরুরী, কিন্তু সেটি যদি কার্যকর করা নাও হতো আমরা কোন ক্ষতির মাঝে থাকতাম না। অথচ খুনের আসামীদের সরকার সাধারণ ক্ষমা করে দিচ্ছে অহরহ। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির মত প্রতিটি খুনের যদি সঠিক বিচার হয় তবে অবশ্যই সেটি দেশের জন্য বড় কিছু। এখন বলতে পারেন, বঙ্গবন্ধুর খুন আর একজন চেয়ারম্যান কিম্বা একজন রিক্সাচালকের খুনের মাঝে ফারাক আছে। এর কোন উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই। শেখ হাসিনাকে অনুরোধ, বিচার সবার জন্য সমান করুন, সবার জীবনকে একইভাবে মুল্যায়ন করুন।
আরেকটি প্রসঙ্গ বলা দরকার, যেটি সবাই মেনে নিয়েছে অলরেডি। জিয়া বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন। কত শো কোটি টাকা যেন খরচ হয়েছিলো সেটি করতে, অথচ সেই টাকাটি যদি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যায় করা হতো তাহলে কত কাজের হতো। দেশের মানুষ প্রতিদিন গ্যাস পানি বিদ্যুৎ, একটি সুন্দর সড়কের জন্য হাহাকার করছে ঠিক তার মাঝে আমরা ১৪ শো কোটি টাকা (সম্ভবত) খরচ করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করলাম। যেটি ছিলো সম্পুর্ণ অপ্রয়োজনীয়। শেখ হাসিনার কাছে আর্জি, নাম পরিবর্তন করলে দেশের সচেতন জনগন সেটি ভালভাবে নেয় না, এটি বন্ধ করুন।
এখন আমার কাছে ডিজিটাল শব্দটি শুনলে মাথা ঘুরায়। ডিজিটাল কথাটির সাথে অনেক সুন্দর ম্যাচ করে আমার মাথা ঘুরানি। dizzy-টাল dizzy মানেও মাথা ঘুরানি, আবার টাল মানেও পাগলা পাগলা ভাব, এইদিক দিয়ে সরকার ভালভাবেই সফল হয়েছে। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ শুনলেই আমার মনে হয় কতগুলো কনফিউজড পাগলের মাথা ঘুরানির দেশ।
শেষ করছি একজন বড়ভাইয়ের কথা দিয়ে। কিছুদিন আগে আমার একটি চাকুরীর ব্যাপারে কথা বলছিলাম। আমরা বিদেশে আছি, আমি উচ্চশিক্ষার জন্য, আর উনি শেষ করে চাকুরী করছেন। দেশে ফেরার অনেক ইচ্ছা আমার। আমি পড়াশুনা শেষে এখানকার একটি কম্পানীতে জয়েন করে কিছুদিন চাকুরী করে দেশে একই কম্পানীতে একটি ভাল পোস্ট নিয়ে যাওয়ার কথা ওনাকে বলছিলাম। উনি বললেন, "আমাকে যদি মাসে ২.৫ লক্ষ টাকা বেতন দেয় তাহলেও বাংলাদেশে যাব না। যদিও বাংলাদেশে ২ লক্ষ টাকা পেলে যা সেভ হবে আমি এখানে ৩.৫ লক্ষ টাকা পেলেও সেটি সেভ হয় না। কারণ এখন আমি বাংলাদেশে গেলে কমফোর্ট ফিল করি না। রাস্তাঘাট বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সবকিছু মিলিয়ে কখনো বাংলাদেশে যাব না।" শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের একটি সিক্রেট বলি, দেশের উন্নয়নের জন্য মেধাবীদের দেশে নিরাপত্তা দিতে হবে, কাজ দিতে হবে, প্রতি বছর এভাবে মেধা পাচার হলে দেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব না।
একেই বলে ব্রেইন ড্রেইন, দেশের সব মেধাবীরা শুধু আরামদায়ক জিবন যাপনের জন্যই বিদেশে রয়ে যাচ্ছে। কে চায় এসব ভেজালের মাঝে থাকতে? দেশকে পরিবর্তন আমরা কিভাবে করব যদি সরকার আমাদের কথা না ভাবে? আমিও তো মাঝে মাঝে ভাবি ঐ হাসিনা ঐ খালেদা, ৫ বছর তিনি ৫ বছর ইনি, এভাবেই তো চলবে দেশ। জনগন তো ভালবেসে নয় বরং বর্তমান সরকারকে ঘৃণা করেই ভোট দেয় অপজিশন দলে। যেমনটি হবে আগামীবার। তারেকের দুর্নীতি ভুলে হাসিনার হাত থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য খালেদাকে ভোট দিবে শতকরা ৮০ জন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দেশের মানুষের মন বোঝার চেষ্টা করুন, আশে পাশের মোসাহেবদের তোষামদে আসল পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছেন না। অন্ধের মত বলা ঠিক নয় যে দেশের অর্থনীতি ভাল আছে। বিরোধী দলের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ বলে তারা এগুলো নিয়ে কথা বলছে। টাকা নাকি সব আপনাদের হাতে তাই বিরোধী দলের হিংসা হয়। কিন্তু একথার আরেক অর্থ হলো, দেশের টাকা সব আপনাদের পকেটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



