চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মী মো. শামসুল ইসলাম ওরফে রাজুকে আজীবনের জন্য (স্থায়ী) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। গতকাল সোমবার উপাচার্য এ বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। পরে প্রক্টর স্বাক্ষরিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবু ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, একজন ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। ঘটনাটি শোনার পর থেকে শিক্ষক মহলসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই অভিযুক্ত ওই ছাত্রের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাই ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস পাবে না।
পুলিশ সুত্র জানায়, ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজুসহ দুজনকে আসামি করে গত রোববার বিকেলে হাটহাজারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়। ওই ছাত্রী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এরপর রাজুকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা শুরু করে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জেড এ মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের খালেদা জিয়া হল থেকে প্রীতিলতা হলের দিকে ফিরছিলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মী মো. শামসুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ দুই ছাত্র পথে তাঁকে উত্ত্যক্ত করেন। পরে ওই ছাত্রী এর প্রতিবাদ করতে গেলে রাজু তাঁকে চড়-থাপড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ক্যাম্পাস সুত্র জানায়, এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেন। শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখেন। পরে উপাচার্য ওই ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন।
এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মী মো. শামসুল ইসলাম ওরফে রাজু মুঠোফোনে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তার (ছাত্রী) সঙ্গে আমার কথাকাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারধর করেছে অপর এক ছাত্র।- তবে ওই ছাত্রের নাম বলতে রাজি হননি তিনি।
প্রথম আলো থেকে: Click This Link
ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় মাস্টার্সের এক ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করার দায়ে জুনিয়র ছাত্র শামসুল ইসলাম রাজুর ছাত্রত্ব বাতিলসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাজুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এবং ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল সোমবার উপরোক্ত সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল সোমবার বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইভটিজিং-এর শিকার হওয়া ছাত্রী রায়হান মারজান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (ধারা ১০/৩০) অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম রাজুসহ আরও একজন অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাটহাজারী থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সামনের রাস্তায় ঝুপড়ির নিকট রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রায়হান মারজানকে টিজ (উত্ত্যক্ত) করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম রাজু। এর প্রতিবাদ করলে রাজু ওই ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করে।
এর প্রতিবাদে গত রোববার রায়হান মারজান প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। পরবর্তীতে ঘটনার জন্য দায়ী শামসুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তারের জন্য রেব ও পুলিশকে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একদিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় অনতিবিলম্বে তার শাস্তির দাবিতে গতকাল সোমবার ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও ধর্মঘট পালন করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়। বেলা একটার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভার মাধ্যমে শামসুল ইসলাম রাজুর ছাত্রত্ব বাতিল করে তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে।
উল্লেখ্য, শামসুল ইসলাম রাজু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ক্লাস রোল ৫০০৪, রেজি: নং-০৭৩০২০৬৯। সে গাজীপুর জেলা সদরের শিমুলতলী এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে।
দৈনিক আজাদি থেকে: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ সকাল ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


