নির্বাচনে মহাজোটকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সাবেক পদস্থ পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন কর্মকর্তাদের এক গোপন বৈঠক গত বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি সংসদীয় আসনকে লক্ষ্য ঠিক করে এসব আসনে ফল পাল্টে দিয়ে মহাজোটের পক্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়। ধানমন্ডির ৩-এ নাম্বার রোডের একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত এ গোপন বৈঠকে পুলিশের এবং বেসামরিক প্রশাসনের কয়েক ডজন অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্হিতিদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলেন,
১) আহমদুল হক চৌধুরী (পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
২) আবদুর রহিম (পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক)
৩) নজরুল ইসলাম (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৪) মতিউর রহমান (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৫) মোস্তফা কামাল (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৬) শফিকউল্লাহ (পুলিশের সাবেক ডিআইজি)
৭) আবদুল খালেক (এসপি)
৮) আসাদুজ্জামানসহ (সাবেক যুগ্ম সচিব)
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কম ভোটের ব্যবধানে চার দলের প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ৩৫টি আসনে নির্বাচনকে মহাজোটের পক্ষে প্রভাবিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন চাকরিরত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়। যাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার ডিআইজি, নাটোরের এসপি, ঝালকাঠির এসপি, নীলফামারীর এসপি এবং শেরপুরের এসপি।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিকল্পিত জেলাগুলোতে একটি করে টিম পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে নির্বাচনকে মহাজোটের পক্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মোস্তফা কামাল ও এসপি আবদুল খালেকের নেতৃত্বে একটি টিম সিলেট ও মৌলভীবাজার রওনা হয়েছে।
জানা গেছে, সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রশাসনকে প্রভাবিত করে চার দলের প্রার্থীর ভোট যেসব এলাকায় বেশি রয়েছে সেসব এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে ভোট গ্রহণের হার কমিয়ে দিতে হবে। এর বিপরীতে মহাজোট প্রভাবিত এলাকায় ভোট গ্রহণের হার দ্রুততর করতে হবে। একই সাথে চারদলীয় প্রার্থীর পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মীদের বিভিন্ন মামলায় জড়িত বলে অথবা জড়িত করে গ্রেফতার ও হয়রানি করতে হবে যাতে তারা নির্বাচনের দিন এবং এর আগে চার দল প্রার্থীর পক্ষে কোনো কাজ করতে না পারে। সে সাথে চার দল কর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, সভার আলোচনায় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার ডিসি ও এসপি মহাজোটের পক্ষে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে কোনো কোনো আসনে ভোট গণনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তা ও বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় মহাজোটের পক্ষে প্রভাবিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, আজকালের মধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টিম টার্গেটকৃত জেলাগুলোয় পৌঁছে যাবে। তাদের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলার জন্যও বলা হয়েছে। (সূত্র: আজকের দৈনিক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


