অনেক পাঠক হয়ত: নির্বাচনের এই ডামাডোলে খবরটি মিস করেছেন অথবা আলো-স্টারের এই শঠতাকে নিছক ভুল বলে মনে করে এড়িয়ে গিয়ে থাকবেন। একজন সচেতন পাঠক আলো-স্টারে এই খবর না পেয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, আলো-স্টার কি বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের কাছে বেশি দায়বদ্ধ এবং ঢাকার পরিবর্তে এদের হেডঅফিস কি দিল্লিতে?
অনেকের মতো আমার টনক নড়ল আজকের খবরে, যখন আলো-স্টার ছাড়া দেশের সবমিডিয়া লিখেছে ভারতীয় জাহাজ বাংলাদেশের পানিসীমা ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং জরিপ কাজ অব্যাহত রেখেছে। দেখুন, বিডিনিউজ, ইত্তেফাক, আমাদেরসময়, নয়াদিগন্ত।
প্রথমআলোর আজকের লেখার হেডিং বাংলাদেশের জলসীমা থেকে সরে গেছে ভারতের জরিপ জাহাজ এবং শুরুতে এর স্বপক্ষে লিখলেও একটু পরেই লিখেছে, জানা গেছে, জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হলেও ভারতীয় পক্ষ তা মানছে না। তারা বাংলাদেশের ১৪ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। পাঠক আরো খেয়াল করবেন, পুরো লেখায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথা দিয়ে পাঠকদের মানসিকতাকে ভারতের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পিনাক রঞ্জনের স্পষ্ট হুমকিকে নরমভাবে তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, "তিনি হেসে দিয়ে বলেন, 'দেখুন, উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইলে আমরা কিছু করতে পারতাম। সেটা মোটেই আমাদের অভিপ্রায় নয়।'"
ডেইলি স্টারও পুরোপুরি একই রিপোর্ট ছেপেছে।Indian ships leave Bangladesh waters হেডিংয়ের লেখায় ভেতরে লিখেছে, "Presently the tension has diffused. But there is a chance that India might send survey ships in the future. Our government must take this matter seriously to avert such tensed situation in future," said a source." তথ্যসূত্র কি তা ডেইলি-স্টার উল্লেখ করেনি। প্রথমআলোর মতোই, ডেইলিস্টারও পুরো লেখায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথা দিয়ে পাঠকদের মানসিকতাকে ভারতের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্পষ্ঠত:ই এতে আলো-স্টারের ভারতের পক্ষে দালালী ও অসততা স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের বাংলাদেশবিরোধী অবস্হান পরিস্কার হয়ে উঠে এবং তাদেরকে 'র' এর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ভারতের বেতনভুক্ত মিডিয়কর্মী বলেই প্রতীয়মান হয়।
পরিশেষে, স্মরণীয়, মাসখানেক আগে মিয়ানমারের একইরকম অপকর্মে আলো-স্টারসহ বাংলাদেশের মেজর মিডিয়ার বদৌলতে সেদেশের সামরিক জান্তা বেশি এগোতে পারেনি। এবার ভারতের ক্ষেত্রে অনুরূপ জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এরা ব্যর্থ হয়েছে। এতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই মিডিয়াগুলোর নতজানু নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠে। সচেতন পাঠকটির মতোই অনেকের প্রশ্ন জাগায় স্বাভাবিক, আলো-স্টার কি বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের কাছে বেশি দায়বদ্ধ এবং ঢাকার পরিবর্তে এদের হেডঅফিস কি দিল্লিতে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

