আমার প্রিয় পোস্ট

এই পথে আলো জ্বেলে, এই পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে

ইতিকথার আগের কথা :: বিগব্যাঙ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫

শেয়ারঃ
0 0 0

আগের লেখা: কি দিয়ে গড়িনু



বিগব্যাঙ। বিখ্যাত একটি তত্ত্ব। পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি। শুধু তাই না, পৃথিবীর সবচাইতে ভুল ভাবে বোঝা বিষয়গুলোরও একটি হলো বিগব্যাঙ। বিগব্যাঙ সম্পর্কে আমরা সাধারণ মানুষ হয়তো নাম শুনেই যথাযথ সম্মান জানিয়ে দুরে থাকি। কিংবা, এমন কিছু আবছা ধারণা রাখি যা আসলে ভুল, মহাভুল।

আমারা যেই মহাবিশ্বে বাস করি তার কিভাবে উৎপত্তি হলো? মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে কি ছিল? এই প্রশ্ন মানুষ অনেক আগে থেকেই করে আসছে। পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে বিগব্যাঙ তত্ত্ব এই প্রশ্নের উত্তর দেয়? যদি এরকমটাই ভেবে থাকেন তাহলে এখনই এ ধারণাটা মাথা হতে ঝেড়ে ফেলে দিন! আসলে এই মহাবিখ্যাত তত্ত্বটির মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। এই তত্ত্ব আরো যে সব চিরায়ত, অবাক করা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে না সেগুলো হলো:

=> কি, কিংবা কোন শক্তি মহাবিশ্বের উৎপত্তির সূচনা করেছিলো? বিগব্যাঙ নয়, ইনফ্লুশন থিউরী এর একটি ব্যাখ্যা দেয়।
=> বিগব্যাঙের আগে কি ঘটেছিলো?
=> মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে?
=> মহাবিশ্বের আকৃতি কেমন? এ বিষয়টি অনেক তত্ত্বই
‌ব্যাখ্যা করে। কিন্তু বিগব্যাঙ তত্ত্ব এ সম্পর্কে কিছু বলে না।

আসলে বিগব্যাঙ তত্ত্ব হলো একটি ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা বিষয় - কিভাবে আমাদের নিজস্ব মহাবিশ্ব অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থা হতে আজকের এই দশায় গড়ে উঠলো। বিগব্যাঙ তত্ত্বই কেবল একমাত্র ব্যাখ্যা নয়, আরো ব্যাখ্যা আছে। এদের মধ্যে বিগব্যাঙ তত্ত্বই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ বিগব্যাঙ তত্ত্ব এমন কিছু ভবিষদ্বানী করেছিলো যা এখন প্রমাণিত। তবে বিগব্যাঙ এখনও অনেক ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।


বিগব্যাঙ কি কোন বিষ্ফোরণ?
না। বিগব্যাঙ কোন বিষ্ফোরণ নয়। অনেকে এভাবে ভাবেন যে বিগব্যাঙ এক আদি সময়ে মহাবিশ্বের সকল বস্তু আর শক্তি এক বিন্দুতে সংকুচিত ছিল। তার পর এ বিন্দু বিষ্ফোরিত হয়ে বস্তুগুলো চারপাশের স্থানে ছিটকে যায়। এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব গড়ে ওঠা শুরু করে।

বিষয়টা আসলে তা নয়। প্রকৃতপক্ষে, বিগব্যাঙ নিয়ে যে কোন আলোচনার সময় আমাদের যে শব্দটির দিকে সবচাইতে খেয়াল করতে হবে তা হলো সম্প্রসারণ, বিষ্ফোরণ নয়। এ তত্ত্ব বলে স্থান তার মাঝে যা আছে তার সব কিছু নিয়েই সম্প্রসারিত হচ্ছে। সকল বস্তু এই স্থানের মধ্যে ছিল - তারা একে অপর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।

এ দুটি ধারণার মাঝে পার্থক্য কোথায়? বিগব্যাঙ মহাবিশ্বের পদার্থ এবং শক্তি চারপাশের স্থানে ছিটকে পড়ে নি। বরং স্থান, তার মাঝে পদার্থ ও শক্তি নিয়ে প্রসারিত হয়েছে। যদিও বিগব্যাঙ তত্ত্বের কিছু বিবৃতি (রূপ/ভার্সন) বলে যে বিগব্যাঙ অত্যন্ত দ্রুতগতির সম্প্রসারণ - তারপরেও তা সাধারণ ধারণামতে কিন্তু ঠিক বিষ্ফোরণ নয়। নিচের ছবিটা লক্ষ্য করুন-




আজ যখন আমরা মহাকাশের দিকে তাকাই, দেখি বিভিন্ন গ্রহ, অজস্র তারা, গ্যালাক্সি এবং তাদের মাঝে বিস্তীর্ণ স্থান। এই বিস্তীর্ণ স্থান দিয়ে তারা আলাদা আলাদা ভাবে আছে। বিগব্যাঙ আদি মুহূর্তে সকল বস্তু, শক্তি আর স্থান এক শুণ্য আয়তনের কিন্তু অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট এক বিন্দুতে সীমাবদ্ধ ছিল। বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে বলেন সিঙ্গুলারিটি (এই শব্দটা আমাদের কষ্ট করে একটু মনে রাখতে হবে)।


তো, কথা হলো এই যে বিগব্যাঙ তত্ত্ব নিয়ে ভুল ধারণা - এর জন্য আমরা কাকে দোষ দিতে পারি? আসলে দোষ দেওয়া উচিত এই তত্ত্বের নামটিকেই। বিগব্যাঙ শাব্দিক অর্থ হলো বিশাল গন্ডগোল! আর এ নামের এমন মহিমা হলো যে শুনলেই মনে হয় ব্যাপক বিষ্ফোরণ! এই নামটি দিয়েছিলেন স্যার ফ্রেড হয়েল। তিনি মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে স্থির একটি মহাবিশ্বের নকশা দিয়েছিলেন। এ নকশায় সময়ের যে কোন বিন্দুতে মহাবিশ্ব একই রকম থাকে (আইনস্টাইনও স্থির মহাবিশ্বের মডেলে বিশ্বাস করতেন)। স্বাভাবিকভাবেই বিগব্যাঙ হলো এই ধারণার উল্টো। তিনি ১৯৪৯ সালে বিবিসি প্রচারিত থার্ড প্রোগ্রাম নামক অনুষ্ঠানে নতুন এই তত্ত্বকে একটু হেয় করতেই বিগব্যাঙ নামটি দেন। পরবর্তীতে তিনি অনেকগুলো বক্তৃতায় এ নামটি ব্যবহার করেন এবং এ নামটিই পরবরর্তীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।




ঈদের পর বিগব্যাঙের উপর আরো একটি লেখা দেওয়ার ইচ্ছে আছে।


বিগব্যাঙের উপর এ লেখাগুলো দেখতে পারেন:
=> এখানে ক্লিক করুন
=> এখানে ক্লিক করুন

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিগব্যাঙ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ইন্টারনেট  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৭
বৃত্তবন্দী বলেছেন: আরেকটু বড় হ'লেও কোনো সমস্যা হ'তো না...
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: হ্যা এখন আমারো মনে হচ্ছে বেশি ছোট হয়ে গেল। আরো কিছু লেখা দেব দেখি এ বিষয়ে ...

২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩২
শেরজা তপন বলেছেন: এমন সুন্দর একটা লেখার জন্য ধন্যবাদ
৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪২
জাগরূ৪৯ বলেছেন: বিগব্যাঙ নিয়ে ছোট লেখা।
৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৯
ল্যাটিচুড বলেছেন: খুব ভালো লিখা । ভালো লাগলো। পরের পর্ব পড়ার অপেক্ষায় রইলাম..
৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: ভূল বানানটা ভুল হইছে....
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।...ভুল বানানটা আমার ব্যাপক ভুল হয়।

৮. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৪
জামাল ঊদ্দিন বলেছেন: আরো বড় করে লিখেন । ++++
৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬
রাজর্ষী বলেছেন: হ বিগব্যং আসলে বিগবেংগ
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার এই লিঙ্কটাতো আমি উপরেই দিয়েছি! খেয়াল করেননি বোধ হয়।

১১. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৭
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: ভালো জিনিস। জানার আছে অনেক কিছু।
১৩. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮
কঁাকন বলেছেন: আমার পছন্দের একজন হারিয়ে যাওয়া ব্লগারের (উৎস-http://www.somewhereinblog.net/blog/utsablog ) কিচু লিংক শেয়ার করলাম হয়তো আপনার ভালো লাগবে

যাযাবর মানুষ, ইভের আঠারো মেয়ে, আদমের দশ ছেলে এবং দ্্রাবিড়দের দল
Click This Link


বিবর্তন বাদঃ প্রজাতির জন্ম?
Click This Link



আরও জিনতত্ত্বঃ (জেনেটিক) ইভ কি আদমের চেয়ে 70 হাজার বছরের বড়?

Click This Link
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য.... প্রিয়তে নিলাম, পরে পড়বো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭০৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সদস্য, অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান সংগঠন
ছাত্র, অণুজীববিজ্ঞান

www.bigganblog.com

ac.arafatঅ্যাটgmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই