somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপডেট :: চাঁদে পানির সন্ধান লাভ (বিজ্ঞানের জগতে আরেকটি মাইলস্টোন সম্ভবত)

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিজ্ঞানের জগতে সাম্প্রতিক গরম খবর হলো চাঁদে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জমাট বরফের সন্ধান লাভ। এ নিয়ে ড. দীপেন ভট্টাচার্য জার্মানীর এক আন্তর্জাতিক প্রচারমূলক ওয়েবসাইটকে গত মাসে একটি সাক্ষাতকার দেন। ড. দীপেন ভট্টাচার্য উচ্চশক্তি জ্যোতিপদার্থবিদ, কাজ করছেন গামা রে ডিটেক্টর নিয়ে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (রিভারসাইড, ইউ.এস.)। তার সাক্ষাতকার ভিত্তিক প্রতিবেদন এখানে শেয়ার করলাম। মূল লেখাটা পাবেন এখানে । উল্লেখ্য, তিনি অনুসন্ধিৎসু চক্রে র একজন প্রতিষ্ঠাতা।





মহাবিশ্বে প্রাণের খোঁজ
পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বা কোনোদিন ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে বহুকাল ধরে৷ পৃথিবীর বাইরে এমন কোন উন্নত প্রাণী থাকলে তাদের রেডিও সঙ্কেত ধরার জন্য যেমন অপেক্ষা চলছে, তেমনই চলছে সরাসরি অনুসন্ধান৷ মহাকাশের গভীরে কোন নক্ষত্রের আশেপাশে গ্রহ খুঁজে পেলে অথবা ঘরের কাছে চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে জলের খোঁজ চালিয়ে প্রাণের আভাস পাওয়ার চেষ্টা চলছে৷ জল যেখানে, সেখানে প্রাণের চিহ্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়৷


নাসা’র অভিযান
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এবার চাঁদের মধ্যে খুঁজে পেল জমাট বরফের এক স্তর৷ প্রায় যে কোন আবিষ্কারের মত চাঁদে জলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘটনাও ছিল কাকতালীয়৷ হুবহু ঐ এলাকায় অনুসন্ধান না চালালে হয়তো জলের স্তর চোখ এড়িয়ে যেত৷ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী পিটার শুলৎস বলেন, ‘‘এ যেন পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের মত প্রচেষ্টা৷ একবার কোন এক স্থানে পেট্রোলিয়াম খুঁজে পাওয়া গেলে আশেপাশেও তা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷






এলক্রস প্রকল্পের ব্যয় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার৷ ২০০৯ সালের ১৮ই জুন এই মিশন চালু হয়েছিল৷ কক্ষপথ ধরে চাঁদ প্রদক্ষিণ করে দেখার জন্য ‘লুনার রিকনোসেন্স অর্বিটার’ বা এলআরও নামে আরেক যানের সঙ্গে এই যান চাঁদে পাঠানো হয়েছিল৷ চাঁদের কাছাকাছি এসে দুটি যান আলাদা হয়ে যায়৷



চাঁদে জলের অস্তিত্ব
‘এলক্রস’ নামের এক অভিযানের আওতায় গত মাসে নাসার দুটি মহাকাশযান চাঁদে পাঠানো হয়৷ গত ৯ই অক্টোবর তার মধ্যে একটি রকেট ঘণ্টায় প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে কাবেয়াস নামের খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে৷ প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর ঐ খাদ৷ এর ঠিক ৪ মিনিট পর দ্বিতীয় মহাকাশযানটি ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার ইত্যাদি যন্ত্র নিয়ে ঐ একই জায়গায় পৌঁছয়৷ রকেট আছড়ে পড়ার ফলে খাদের নিচ থেকে কোটি কোটি বছর ধরে অতল গহ্বরে জমে থাকা অনেক কিছুই উপরে উঠে আসে৷ অন্ধকার ঐ গহ্বরে সূর্যের আলো কখনই প্রবেশ করে নি৷ শুধু জল নয়, সেখানে আরও এমন কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়৷ অত্যন্ত শীতল ঐ পরিবেশে কোটি কোটি বছর ধরে যা প্রবেশ করেছে, তা প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷



সেই খাদের নিচে প্রায় ২৪ গ্যালন জমাট বরফ পাওয়া গেছে৷ তবে এটা একেবারে প্রাথমিক তথ্য৷ আরও অনুসন্ধান চালালে হয়তো আরও নতুন কিছু জানা যাবে৷ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অ্যান্টনি কোলাপ্রিট বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা জল খুঁজে পেয়েছি এবং এর পরিমাণও কম নয়৷’’ তবে সেই জলে মেথানল রয়েছে বলে জানালেন কোলাপ্রিট৷ ফলে অপরিশোধিত অবস্থায় সেই জল পান করা যায় না৷ পান করলে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে৷ খাদের গভীরে জমে থাকা স্তর এবং উপরেরও অনেক স্তরে সেই জল পাওয়া গেছে৷ ঐ বরফ প্রায় মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠাণ্ডা বলে অনুমান করা হচ্ছে৷





পূর্বাভাষ
এই চমকপ্রদ আবিষ্কার পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়৷ এর আগেও বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, যে চাঁদের বুকে না হলেও চাঁদের গভীরে জলের অস্তিত্ব থাকতে পারে৷ বিশেষ করে চাঁদের দুই মেরু অঞ্চলে হাইড্রোজেন পর্যবেক্ষণ করে এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছিল৷ তবে চমকপ্রদ এই আবিষ্কারের ফলে মনে হচ্ছে, সেই জলের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় হয়ত অনেক বেশী রয়েছে৷ কিন্তু সেই জল কীভাবে চাঁদের বুকে আসতে পারে, সেবিষয়ে নানারকমের তত্ত্ব রয়েছে৷ একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, কোন এক ধূমকেতু হয়তো চাঁদের বুকে আঘাত করেছিল৷ সেই ধূমকেতুর মাথায় জমে থাকা জলই চাঁদে থেকে গেছে৷



এই ধরনের মহাকাশ অভিযান থেকে যে মহা মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করতে অনেক সময় লাগে৷ ‘এলক্রস’ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটবে বলে ধরে নাওয়া হচ্ছে৷ বিশেষ করে স্পেকট্রোমিটারের সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য বস্তু সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার আশা রয়েছে৷


চাঁদে জলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার আসল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড.দীপেন ভট্টাচার্য৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল ফারূক


এরকম আরো একটি উল্লেখযোগ্য লেখা পাবেন বিজ্ঞানপুরী তে।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×