মহাবিশ্বে প্রাণের খোঁজ
পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বা কোনোদিন ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে বহুকাল ধরে৷ পৃথিবীর বাইরে এমন কোন উন্নত প্রাণী থাকলে তাদের রেডিও সঙ্কেত ধরার জন্য যেমন অপেক্ষা চলছে, তেমনই চলছে সরাসরি অনুসন্ধান৷ মহাকাশের গভীরে কোন নক্ষত্রের আশেপাশে গ্রহ খুঁজে পেলে অথবা ঘরের কাছে চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহে জলের খোঁজ চালিয়ে প্রাণের আভাস পাওয়ার চেষ্টা চলছে৷ জল যেখানে, সেখানে প্রাণের চিহ্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়৷
নাসা’র অভিযান
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এবার চাঁদের মধ্যে খুঁজে পেল জমাট বরফের এক স্তর৷ প্রায় যে কোন আবিষ্কারের মত চাঁদে জলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘটনাও ছিল কাকতালীয়৷ হুবহু ঐ এলাকায় অনুসন্ধান না চালালে হয়তো জলের স্তর চোখ এড়িয়ে যেত৷ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী পিটার শুলৎস বলেন, ‘‘এ যেন পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের মত প্রচেষ্টা৷ একবার কোন এক স্থানে পেট্রোলিয়াম খুঁজে পাওয়া গেলে আশেপাশেও তা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷
এলক্রস প্রকল্পের ব্যয় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার৷ ২০০৯ সালের ১৮ই জুন এই মিশন চালু হয়েছিল৷ কক্ষপথ ধরে চাঁদ প্রদক্ষিণ করে দেখার জন্য ‘লুনার রিকনোসেন্স অর্বিটার’ বা এলআরও নামে আরেক যানের সঙ্গে এই যান চাঁদে পাঠানো হয়েছিল৷ চাঁদের কাছাকাছি এসে দুটি যান আলাদা হয়ে যায়৷
চাঁদে জলের অস্তিত্ব
‘এলক্রস’ নামের এক অভিযানের আওতায় গত মাসে নাসার দুটি মহাকাশযান চাঁদে পাঠানো হয়৷ গত ৯ই অক্টোবর তার মধ্যে একটি রকেট ঘণ্টায় প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে কাবেয়াস নামের খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে৷ প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর ঐ খাদ৷ এর ঠিক ৪ মিনিট পর দ্বিতীয় মহাকাশযানটি ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার ইত্যাদি যন্ত্র নিয়ে ঐ একই জায়গায় পৌঁছয়৷ রকেট আছড়ে পড়ার ফলে খাদের নিচ থেকে কোটি কোটি বছর ধরে অতল গহ্বরে জমে থাকা অনেক কিছুই উপরে উঠে আসে৷ অন্ধকার ঐ গহ্বরে সূর্যের আলো কখনই প্রবেশ করে নি৷ শুধু জল নয়, সেখানে আরও এমন কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়৷ অত্যন্ত শীতল ঐ পরিবেশে কোটি কোটি বছর ধরে যা প্রবেশ করেছে, তা প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
সেই খাদের নিচে প্রায় ২৪ গ্যালন জমাট বরফ পাওয়া গেছে৷ তবে এটা একেবারে প্রাথমিক তথ্য৷ আরও অনুসন্ধান চালালে হয়তো আরও নতুন কিছু জানা যাবে৷ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অ্যান্টনি কোলাপ্রিট বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা জল খুঁজে পেয়েছি এবং এর পরিমাণও কম নয়৷’’ তবে সেই জলে মেথানল রয়েছে বলে জানালেন কোলাপ্রিট৷ ফলে অপরিশোধিত অবস্থায় সেই জল পান করা যায় না৷ পান করলে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে৷ খাদের গভীরে জমে থাকা স্তর এবং উপরেরও অনেক স্তরে সেই জল পাওয়া গেছে৷ ঐ বরফ প্রায় মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠাণ্ডা বলে অনুমান করা হচ্ছে৷
পূর্বাভাষ
এই চমকপ্রদ আবিষ্কার পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়৷ এর আগেও বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, যে চাঁদের বুকে না হলেও চাঁদের গভীরে জলের অস্তিত্ব থাকতে পারে৷ বিশেষ করে চাঁদের দুই মেরু অঞ্চলে হাইড্রোজেন পর্যবেক্ষণ করে এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছিল৷ তবে চমকপ্রদ এই আবিষ্কারের ফলে মনে হচ্ছে, সেই জলের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় হয়ত অনেক বেশী রয়েছে৷ কিন্তু সেই জল কীভাবে চাঁদের বুকে আসতে পারে, সেবিষয়ে নানারকমের তত্ত্ব রয়েছে৷ একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, কোন এক ধূমকেতু হয়তো চাঁদের বুকে আঘাত করেছিল৷ সেই ধূমকেতুর মাথায় জমে থাকা জলই চাঁদে থেকে গেছে৷
এই ধরনের মহাকাশ অভিযান থেকে যে মহা মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করতে অনেক সময় লাগে৷ ‘এলক্রস’ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটবে বলে ধরে নাওয়া হচ্ছে৷ বিশেষ করে স্পেকট্রোমিটারের সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য বস্তু সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার আশা রয়েছে৷
চাঁদে জলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার আসল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড.দীপেন ভট্টাচার্য৷
প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল ফারূক
এরকম আরো একটি উল্লেখযোগ্য লেখা পাবেন বিজ্ঞানপুরী তে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


