সিলেবাসে থাকা সত্ত্বেও আমাদের দুইটা জিনিস পড়ানো হয় নাই। বিবর্তনবাদ এবং মানব প্রজননতন্ত্র।
দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতে বড় আশা ছিলো মানব শারীরতত্ত্ব কোর্সটিতে প্রজননতন্ত্র পড়ানো হবে! দুষ্টুমি করতে বড়ই মন চায়
আরেকটা কোর্স, জেনারেল মাইক্রোবায়োলজী-২ এ ব্যাক্টেরিয়ার বিবর্তন আমাদের পড়ানোর কথা। ডিপার্টমেন্টের সবচাইতে পুরানো শিক্ষক খালি দুই চার লাইন আমাদের বললেন। আরো বললেন - ধর্মের সাথে এই তত্ত্বের নাকি ব্যাপক বিরোধ
আরেকটা অনেক মজার কোর্স পড়ানো হয় - জেনেটিক্স। এইটা একটা অসাধারণ বিষয়। কিভাবে একটা জীব-যন্ত্র (বায়োলজিক্যাল সিস্টেম) কাজ করবে সেটা লেখা থাকে তার ডিএনএ তে। একটা জীব কিভাবে এই ডিএনএ তার পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে যায়? কিভাবে ডিএনএ-র সফটওয়্যার পরিণত হয় কোষীয় হার্ডওয়্যারে? এই সব মজাদার জিনিসপাতি পড়ি। খুব 'হৃদয়টা ফাইট্যা গেলোরেএএএ
মাজে ম্যাডাম একদিন পড়াচ্ছিলেন কিভাবে দুইটা ক্রোমোজম ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ: এপ-দের সাধারণত ২৪ জোড়া ক্রোমোজম। কিন্তু মানুষের ক্রোমোজম ২৩ জোড়া। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, মানুষের ক্রোমোজম ২ নামের একটা ক্রোমোজম আসলে দুইটা ক্রোমোজম নিয়া গঠিত। বিবর্তনের কোন এক পর্যায়ে এই দুইটা ক্রোমোজম এক হয়ে যায়।
এর পর তিনি বললেন, বিবর্তন তত্ত্ব নাকি এখনও প্রমাণিত না।
এইটা শুইনা আমি তো পুরাই থ। জেনেটিক্সে যে বই টা আমরা পড়ি টেক্সট রেফারেন্স হিসেবে, সিমনসের, ম্যাডাম নিজেই বলেন খুব নির্ভরযোগ্য। এই বই বিবর্তন নিয়ে পুরা একটা চ্যাপ্টার আছে। মিউটেশন কিভাবে হয় তা নিয়ে একটা চ্যাপ্টার আছে। ম্যাডাম যে টপিক টা পড়াচ্ছিলেন তা এপ থেকে মানুষের বিবর্তনে একটা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। তাহলে সমস্যা কোথায়?
বুঝলাম, সমস্যাটা অন্য জায়গায়।
"যাহা পড়ি, তাহা বিশ্বাস করি না। যাহা বিশ্বাস করি, তাহা পড়ি না। যাহা বলি, তাহা মানি না। যাহা মানি, তাহা বলি না।" - কালান্তরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এরকমই বলেছিলেন বাঙালী মধ্যবিত্তের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে।
আরো বুঝলাম, কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম পাঁচ হাজারটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নাই।
পূর্বে চতুর্মাত্রিকে প্রকাশিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


