উল্লেখ্য, লার্জ হেড্রন কলাইডর ফ্রান্স আর সুইজারল্যান্ডের সীমানায় মাটির তলায় অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচাইতে বড় বৈজ্ঞানিক যন্ত্র। এর কাজ বিভিন্ন কণাকে এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান গতি দেয়া বা ত্বরায়িত করা।তারপর তাদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টির মাধ্যমে ভেঙে ফেলা এবং পর্যবেক্ষণ করা - কি আছে পদার্থের গহীন কোটরে?
এ পরীক্ষায় সার্নের বিজ্ঞানীরা আয়নিত সীসা (লেড) কণার বিপরীতমুখী স্রোতের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটান। এ সংঘর্ষ তীব্র গতিতে ঘটানো হয়। আমরা জানি, অণু-পরমাণু প্রোটন, নিউট্রন আর ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত। এ সংঘর্ষের ফলে প্রোটন-ইলেকট্রন ভেঙে যায়। বের হয়ে আসে কোয়ার্ক এবং গ্লুয়ন। কোয়ার্ক ও গ্লুয়ন হলো সেই সব কণা যারা নিউট্রন ও প্রোটনকে তৈরি করে।
এ সংঘর্ষের ফলে অত্যন্ত গরম এবং ঘন আগুনে গোলা বা ফায়ারবল তৈরি হয়। এর তাপমাত্রা দশ লক্ষ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। তৈরি হয় কোয়ার্ক আর গ্লুয়নের প্লাজমা অবস্থা। এই অবস্থায় তারা পারস্পারিক আকর্ষণ থেকে মুক্ত থাকে। এই প্লাজমা অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা সবল বল নিয়ে আরো জানতে পারবেন। সবল বল হলো সেই বল যা কি না পরমাণুর নিউক্লিয়অসে নিউট্রন আর প্রোটনকে ধরে রেখে। এ বল মহাবিশ্বের মৌলিক চারটি বলের মধ্যে একটি।
এই সংঘর্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন। বিগব্যাঙের পর প্রথম সেকেন্ডের এক মিলিয়ন ভাগের একভাগ সময়ে মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। এ পরীক্ষার পরে বিজ্ঞানীরা হাইড্রোজেন আয়নকে প্রায় আলোর গতিতে ছোটাবেন। তারপর বিপরীতমুখী একটি সংঘর্ষ ঘটাবেন। তারা আশা করছেন, মহাবিশ্বের উৎপত্তি, হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব এবং সুপার সিমেট্রি তত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আরো জানা যাবে এলএইসি-র মাধ্যমে।
খবরটা বিজ্ঞান পত্রিকা খবর-দারের জন্য তৈরি। পত্রিকা প্রকাশের আগেই ব্লগে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। তথ্যসূত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


