somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন্মদিন-মৃত্যুদিন

১০ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্ম মানেইতো মৃত্যু। কি অবাক কান্ড! এই দুটো শব্দ পরস্পর হাত ধরে হাটছে অবলিলায়, কোন বাধা ছাড়াই! অথচ মৃত্যুতো আমাদের কারোরই কাম্য নয়, কাম্য হতে পারে না....কারন মৃত্যু মানেই হারানেরা বেদনা, প্রিয় মানুষকে চিরতরে হারিয়ে কিছু জ্বল জ্বলে স্মৃতি নিয়ে শুধুই লম্বা পথ চলা..........

১৯৯৯ সালের ১০ জুলাই। বন্ধুরা সবাই আমাকে নিয়ে ব্যাস্ত। কারন এই দিনটিতে আমি পৃথিবীতে এসে এই ধরনী কে ধন্য করেছি। হুম ধন্য করেছিতো বটেই......তবে সত্যি বলতে কি জন্মদিনটি আমার কাছে কখনোো খুব গুরুত্বপূর্ন মনে হয়নি কখনো। ছেলেবেলা জন্মদিনটা কীভাবে পালন হবে তা মোটামুটি আমার আগে থেকেই জানা ছিল। অন্ততঃ বাংলাদেশে থাকাকালিন একই নিয়মেই জন্মদিন পালনে আভ্যস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। আর সে কারনেই জন্মদিন মানেই রাত বারটা এক মিনিট এ রঙিন কাগজের মোড়কে আব্বার ছোট্ট একটা গিফ্ট। কোন রকম ভুমিকা ছাড়াই আমার পিতা এমন ভাবে আমাকে তার উপহারটা দিতেন মেন হত তিনি যেন এর জন্য নিজেই খুব লজ্জিত। সম্ভবত উপহারটা থাকতো খুবই সাদামাটা ধরনের। রবি ঠাকুরেরর সঞ্চিয়তা, জীবননান্দ দাশের বনলতা সেন আথবা খুব বেশি হলে টেনেটুনে একটা ৫ নাম্বার সাইজের ফুটবল। না, আমার এই সামন্য গিফ্ট এর জন্য মন খারাপ হত না কখনই। বরং এর জন্য আমার প্রিয় পিতার উপর শ্রদ্ধায় মাথা নত হত বার বার। আগেই বলে রাখি আমি বড় হয়েছি নিম্ন মধ্যবিত্ত একটা পরিবারের আকাশ ছোয়া স্বপ্ন দেখে দেখে। স্বপ্ন ছিল আনেক কিন্তু তার বাস্তবায়ন ছিল কঠিন...কারন আমার বাবা ছিলেন একজন সৎ শিক্ষক। একটা কলেজের আধ্যাপনা করেই তিনি আমাদের মত কিছু উচ্চাকাঙ্খি ছেলেমেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করে গেছেন.....মার কাছ থেকে গিফ্ট পেতাম একটু আন্য রকম ধরনের। একটা সুন্দর কলম, সার্ট আথবা জুতো। বিষয়টা ছিল এমন যে জন্মদিনের উপহারটা যেন আমার প্রতিদিনের জীবনের অভাবটা মেটাতে পারে। সে কারনেই আমি আমার জন্মদিনটা কেমন হবে তা আগে থেকেই টের পেতাম। প্রতি বছর ১০ জুলাই আমার কাছে নতুন কোন বিষয় ছিল না মোটেো......
তবে জন্মদিনটা একটু আন্যরকম হয়ে গেল যখন পড়াশুনা করতে যুক্তরাষ্ট্র চলে এলাম। বন্ধরাই যেন দায়িত্ব নিল এই দিনটি পালন করার। তাই প্রবাস জীবনে জন্মদিন মানেই ছিল বন্ধুদের সাথে রেস্তোরায় ডিনারে যাোয়া, নতুন কাপড় পরে লং ড্রাইভ........

যা বলছিলাম। ১৯৯৯ সালের ১০ জুলাই। জন্মদিনে এক বন্ধুর বাসায় ধুম আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ একটা ফোন কল। বন্ধুটি আমাকে রিসিভারটা দিল। হ্যালো বলার সাথেই সাথেই উপাশ থেকে মামার কন্ঠ। মামা নিউইয়র্কেই থাকেন। শুধু বললেন," এক্ষনি আমার বাসায় চলে আয়। জরুরী খবর আছে।" বুকটা যেন ধুক করে উঠল। কি হল?? কোন খারাপ সংবাদ নয়তো! না যতদুর জানি সবাইতো সুস্থ আছে। আমি ভয়ে ভয়ে মামার বাসায় পৌছলাম। মামা একথা-সেকথা বলার পর আসল কথা বললেন। বললেন ...আমার প্রিয় বাবাটা নাকি আর নেই। বাবাটা নাকি হার্ট এটাক করে এই কিছুক্ষন আগেই চলে গেছেন। মনে পরল তার শেষ কথাটা। আমি বাসা থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে পা বারাবো। এমন সময় বাবাটা আমার হাত ধরে বললেন, " তোর সাথে আমার মনে হয় আর দেখা হবে না।' আমি বলেছিলাম," আরে ধাৎ!! এই যাবার সময় তুমি কি যে সব বল!"' না আব্বার লাশ দেখতে আমি বাংলাদেশে যেতে পারে নি। কারন তখন আমার আই-টুয়েন্টির মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছিল। প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়ে এই এতগুলো বছর আমি জন্মদিনের মত একটা অভিশাপ কাধে নিয়ে বেরাচ্ছি। এর থেকে মুক্তি কবে পাব কেউ কি বলতে পারেন?
১০ জুলাই আমার বাবার মৃত্যু বার্ষিকী। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×