বিষয়: ভালোবাসা দিবস নিয়ে দুটো কথা.......
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৭
আমেরিকায় ভালোবাস নেই। না কোথাো নেই এই বস্তুটিকে খুজে পাবেন না। যারা স্বামী-স্ত্রী তারা সবাই যার যার তার তার হিসেবে চলতে আভ্যস্থ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যদি হাসব্যান্ড এর চাকরী চলে যায় তাহলে এর তিন মাসের মধ্যে তার ক্রেডিট কার্ডে কেনা গাড়িটা চলে যায় তারপর যায় তার মর্টগেজে কেনা বাড়িটা আর সবশেষে যায় তার বউ। বর্তমানে আমেরিকায় ৫৭% ডিভোর্স হয় শুধুমাত্র এই কারনেই। কোথাো কোন ভালোবাসা নেই। সবাই চলছে সবার সুবিধা মত। এই কঠিন আবস্থা থেকে মুক্তি কি? মুক্তি একটাই। একটা দিবস চালু হোক। আন্তত: বছরেরর একটা দিন এই ম্যটেরিয়েলিস্টিক কাপলরা প্রান খুলে নিজেদের ভালোবাসুক...দিনটাকে উপভোগ করুক। তাতে সুবিধা দুদিক থেকেই। সরকার দুটো রেভেন্যুর মুখ দেখলো আর এই যান্ত্রিক মানুষরা একদিনের জন্য হলেো একটু সুখের ঠিকানা পাবেন বৈকি? আর সে কারনেই এই আমেরিকায় বিভিন্ন দিবসের ছড়াছড়ি। বাবা দিবস, মা দিবস, বন্ধু দিবস, নারী দিবস, এই দিবস সেই দিবস.....ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ ধীরে ধীরে যেভাবে আত্বকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে এই উপসর্গ হল তারই লক্ষন!!
কিন্তু কথা হল আমাদের বাংলাদেশের ভালোবাসার সাথে এদের ভালোবাসার কি তুলনা চলে? আমাদের ভালোবাসা মানেই কিন্তু আন্যরকম একটা আনুভুতির ব্যাপার। আমাদের ভালোবাসা মানেই শংকিত হয়ে মা তার পুত্রের জন্য রাত জেগে বসে থাকা, ভালোবাসা মানেই কোন এক কৃষানী তার স্বামীর পথ চেয়ে বাড়ির ছোট্ট পিড়িতে বসে হাতে আঁচল পেচিয়ে আপেক্ষার পথ চেয়ে বসে থাকা..ছেলেবেলায় দেখেছি মা আমার বাবাকে মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিতেন। আমরা ভাইবোনরা যখন সবাই বড় হয়ে গেলাম তখন এটা ঘটত আড়ালে...সেটা আমরা বুঝতাম আর মুখ টিপে হাসতাম। কিন্তু এখন আমাদের ভালোবাসার এতই কি খরা চলছে যে এর জন্য পশ্চিমের দিকে আমাদের তাকাতে হল! হ্যা, সত্যিই হল। আমরা ধীরে ধীরে আমাদের গর্বিত সংস্কৃতি থেকে আনেকটুই দুরে সরে যাচ্ছি..এক ভীনদেশি সংস্কৃতিকে নিজের ভেবে হাত বাড়াচ্ছি......
আমি যুক্তরাষ্ট্রে আছি প্রায় এক যুগের চেয়ে বেশি সময় ধরে। বিনয়ের সাথে বলতে চাই আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বচ্চ ডিগ্রীটা আমার আছে। নিজের কথা এভাবে বলার জন্য প্লীস, ভুল বুঝবেন না। আমার এই তথ্যটা দেয়ার পেছনে একটা কারন আছে। আমি গত বছর যখন বাংলাদেশে ঘুরতে যাই তখন এই ভালোবাসা দিবসে ঢাকাতেই ছিলাম। বিশ্বাস করেন আমেরিকার শিক্ষা এবং দেশটাতে এতদিন থেকে আমি এই পশ্চিমের যা গ্রহন করতে পারি নি আমাদের দেশের কিছু পশ্চিমা আনুকরনকারীদের দেখে আমি আবাক হয়ে গিয়েছিলাম! এদের আনেকেরই কান ফোটা, ঠোট ফোটা..আর মুখে ভুলভাল ইংরেজিতে ভরা কিছু সস্তা বুলি!র ছড়াছড়ি!! সত্যি আমি খুব দু:খ পেয়েছিলাম.....তখন মনে হচ্ছিল আমরা ধীরে ধীরে আমাদের জায়গা থেকে আনেকটুকুই সরে গেছি....বাংলাদেশে বসে থেকে আমেরিকার পতাকা মাথায় পেচিয়ে নিজেদের আন্যরকম ভেবে একটা আত্বতৃপ্তি পাচ্ছি।
আমি ভালোবাসা দিবস এর বিপক্ষে নই, হতে পারি না। শুধু বলতে চাই নিজের হাজার বছরের গর্বিত সংস্কৃতিটাকে ভালোবাসুন, নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের দেশটাকে ভালোবাসুন। আমেরিকার হয়তো টাকা আছে..বিত্ত আছে...মোড়লি করার ক্ষমতা আছে কিন্তু বিশ্বাস করেন আমাদের তাদের চেয়ে আনেক বেশি যা আছে তা হল নি:স্বার্থ ভালোবাসা। কারন আমাদের ভালোবাসার দিন হল বছেরর ৩৬৫ দিনই। আমাদের মত তারা কি ভালোবাসতে পারে না কখনো পারবে? আপনিই বলুন।
আদনান সৈয়দ
নিউইয়র্ক
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মদন বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
Enam বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: তারপরো ধৈর্য্যর সাথে পড়ার জন্য আপনাকে জানাই ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
হুতুমে পঁচা বলেছেন:
++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আমি তাই মনে করি।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রতি রইল অনেক ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
"ছেলেবেলায় দেখেছি মা আমার বাবাকে মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিতেন। আমরা ভাইবোনরা যখন সবাই বড় হয়ে গেলাম তখন এটা ঘটত আড়ালে...সেটা আমরা বুঝতাম আর মুখ টিপে হাসতাম।"-অপুর্ব।
------------------------------------------------------------------------------ যা জীবন্ত তাই বিকাশমান অথবা মৃতু্র দিকে ধাবিত এবং পরিবর্তনশীল।
ধারাটাকে রোধ করবার কোন উপায় আছে কি?
পহেলা বৈশাখে যেমন বাংলা নববর্ষকে মনে করি, ভালোবাসাকে মনে করার জন্য তেমন একটা দিন থাকলে কি তা মজার হয় না?
আর অনুকরনের কথাই যদি বলেন, তা হ'লে একটু লক্ষ্য করুন:
আমরা কিন্ত এখন আর লুংগী বা ধুতি পরিনা, সাহেবী (পশিমা) অনুকরনে সার্ট প্যান্ট পরি। তাতে কেউ কিছু মনেও করেনা।
____
লেখক বলেছেন: অনুকরন আমরা সবসময়ই করি।যা ভালো তার আনুকরন করতে দোষ কি? কিন্তু ভালোবাসা কি আনুকরন করা যায়? এতো আমাদের নিজস্ব।
আমার বাবা-মার ভালোবাসার এই চিত্রটা আমারো ভাবতে খুব ভালো লাগে।
লেখক বলেছেন: না ভাই। আমার জন্ম ঢাকাতে।
ড়ৎশড় বলেছেন:
বাহ! কি সুন্দর লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
অিপ্রয় সত্য বলেছেন:
অনেক ভালবাসা আপনার জন্য। +
লেখক বলেছেন: আপনার প্রতি রইল অনেক ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা
গোধূলীয়া বলেছেন:
সুন্দর বলেছেন। ছোট বেলায় শেখানো হয়েছিল - সবকিছুর মধ্যে দিয়ে চলতে শেখ, ভালটা গ্রহন করবে আর মন্দটা বর্জন করবে। ৩৬৫দিনই আমরা আমাদের প্রিয়জনকে ভালবাসবো।তবে কিছু কিছু দিন একটু আগে বাড়ী ফেরা , প্রিয়জনকে নিয়ে বেইলী রোডে নাটক দেখতে যাওয়া কিংবা বইমেলায় একটা বিকেল কাটানো যদি ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করেই হয় ক্ষতি কি?
লেখক বলেছেন: আমি সেই কথাটিই বলতে চাই। । ধন্যবাদ আপনাকে।
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন:
সম্পূর্ণ একমত।আপনার সাথে আমিও বলতে চাই, নিজের হাজার বছরের গর্বিত সংস্কৃতিটাকে ভালোবাসুন, নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের দেশটাকে ভালোবাসুন। আমেরিকার হয়তো টাকা আছে..বিত্ত আছে...মোড়লি করার ক্ষমতা আছে কিন্তু বিশ্বাস করেন আমাদের তাদের চেয়ে আনেক বেশি যা আছে তা হল নি:স্বার্থ ভালোবাসা। কারন আমাদের ভালোবাসার দিন হল বছেরর ৩৬৫ দিনই। আমাদের মত তারা কি ভালোবাসতে পারে না কখনো পারবে?
বাবুয়া বলেছেন:
খুব সুন্দর এবং বাস্তব লেখা!অনেক ধন্যবাদ।
ভাগ্যিস এই লেখা আমি লিখিনি। আমি লিখলে ব্লগে এতোক্ষণে কেয়ামত হয়ে যেতো!
সুমন অহেমদ বলেছেন:
আদনান ভাই, কি বলব?খুবই খারাপ লাগে. . .
আমাদের দেশে এখন কত যে দিবস!!
কত যে অনুকরন!!
অনেক কিছুই এখন আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে. . .
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছ সুমন। কিন্তু আশা কিন্তু একটা আছে। তোমাদের দেখলেই কিন্তু সেই আশাটা আরো বাস্তব সত্য হয়ে বার বার সামনে চলে আসে।
ঐযে কবি বলেছিলেন..
প্রাণ আছে প্রাণ আছে
আর প্রাণ থাকলেইতো মান আছে....
হ্যা, আমাদের প্রাণ এখনো আছে...থাকতে হবেই। ভালো থেকো।
আদনান
সুমন অহেমদ বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ আদনান ভাই. . .আমাদের পোড়া চোখগুলো যেন সবসময় ঐসব প্রান আর প্রানের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ায় এবং তাদেরকে এক করে দেশের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ শুরু করে . . .
বাংলাদেশ-ফয়সাল বলেছেন:
আরে ভাই তাইতো বলি “সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি” আর “খাটি সোনার চেয়ে খাটি আমার দেশের মাটি”। বাবামা বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক ঠেলেছে, অনেক গালমনদ ও করেছে, কিন্তু যাই নি বিদেশে আর কখনো যাওয়ার ইচ্ছাও নাই। না খেয়ে মরতে হলেও এই দেশে মরবো, আর পান্তা ভাত খেয়ে জীবনধারণ করতে হলে তা আমার কাছে অমৃতের মতো মনে হবে।
মাহবু১৫৪ বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















