বাবার মৃত্যু, কেন মৃত্যু হয়?
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩৮
![]()
খুব বেশী মনে পড়ছে বাবাকে। কাওকে শেয়ার করা যায় না। কাওকে কিছু বলা যায় না। গভীর রাত হলে চোখ দিয়ে এক ফোটা দুই ফোটা করে পানি পড়তে থাকে। আমি কাদিনা, কাদতে আর ইচ্ছে করেনা কিন্তু চোখ থেকে পানি পড়া থামেনি। আমি থামাতে পাড়িনি। কেও থামাতে পাড়ে কিনা আমার ধারনা নেই।
মনে পড়ে বাবার সাথে এক সাথে কতটি বছর, মনে পড়ে বাবার সাইকেলটির কথা, মনে পড়ে বাবার সাথে সাইকেলের পেছনে করে স্কুলে যাবার কথা, মনে পড়ে বাবার গরু পালার সখের কথা, মনে পড়ে অনেক না বলা কথা। শুধু মনেই পড়ে, কিছু করার নেই।
বাবাকে একটি বার ডাকতে খুব ইচ্ছে করে। খুব জোড়ে জোড়ে ডাকতে ইচ্ছে করে। আরও ইচ্ছে করে বাবা আমাকে না বলে চলে গেছে। আমি এল এল এম এর ক্লাসে ছিলাম। বাবা অসুস্থ হতে না হতেই চলে গেলেন। এটা কি হয়?
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে কেন এমন হয়? তাহলে কি আমার ছেলে মেয়েরাও এভাবে গভীর রাতে জেগে উঠবে? আমি যেমনটি করি।
মাঝে মাঝে আমি ঘুম থেকে জেগে পানি পান করি। আমার গলাটা শুকিয়ে যায়। আমি স্বপ্নে বাবাকে দেখি। ঘুম ভাংলে বাবা চলে যায়। আমি কষ্ট পাই। আমার বুকটা ধরফড় করে। বিদেশের রাত। মাঝ রাত। ঘড়ে কেও নেই। আমি একা। আমার ভয় হয়।
জানি কিছু করার নেই। এটাই বাস্তবতা। মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়!
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
""ফয়সল অভি "" বলেছেন:
বন্ধনের শূণ্যতা কখনো দখল হবার নয় । আপনার বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল লাগল, বন্ধনের শূন্যতা কখনো দখল হবার নয়।
লেখক বলেছেন: দোয়া করবেন।
কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না তাই না
আপনার বাবার আত্মা শান্তি পাক
লেখক বলেছেন: হে জীবন থেমে থাকেনা।
হুমায়রা হারুন বলেছেন:
আপনার বাবা সব সময়ই আপনার সাথে আছেন।
লেখক বলেছেন: হে থাকবে। ধন্যবাদ
সোনালীডানা বলেছেন:
আমারও আব্বু নাই।গলব্লাডারে ক্যান্সার হইচিল।অনেক বেশি জন্ডিস থাকার কারনে ঠিক সময়ে অপারেশনও করা যায়নি।পরে জন্ডিস কমলেও ক্যন্সার আর অপারেশনের পর্যায়ে থাকেনি।
বেশ কিছুদিন রোগে ভুগে শেষে মারা যায়।মারা যাওয়ার ক'দিন আগে আমাকে দেখতে চাইছিল(আমি হোষ্টেলে থাকতাম)।তখন আমার পরিক্ষা ছিল,তাই একদিন এসে দেখা করে চলে যাই।তখন কথাও বলত খুব কষ্ট করে।আর আমি নিজের চোখকে বিলিভ করতে পারছিলাম না যে এত অল্প সময়ে ওনার স্বাস্থ্য এমন হয়ে গেল,চেনার উপায় নাই।যা হোক আমি আবার হোষ্টেলে ফিরে আসলাম।সামান্য কিছুদিন পর উনি মারা যান,তখনো আমার পরীক্ষা শেষ হয় নি।আমি খবর পাই সন্ধ্যার সময়।তাড়াতাড়ি বাড়ির পথ ধরলাম,গাড়ি পেতে পেতে রাত দশটা।সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।আমি বাসে যাচ্ছি,জানালা দিয়ে বড় একটা চাঁদ দেখা যাচ্ছিল-কেমন ঘোলাটে অদ্ভুত চাঁদ।
তাঁর জীবনের শেষ সময়টুকু কাছে থাকার ভাগ্যটুকুও হয়নি আমার।আব্বু আমাকে অনেক ভালবাসতেন।
সকল মৃত মানুষের জন্য অনেক দোয়া......।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: তার জীবনের শেষ সময়টুকু কাছে থাকার ভাগ্যটুকুও হয়নি!
লেখক বলেছেন: এই জন্যই বলে বাস্তবতা-!!! বাস্তব মেনে নিতে হয়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















