একটি পাগল লাটিম ঘুরতে ঘুরতে
উঠে এলো বুকের উপর
ঘূর্ণিতে-ঘূর্ণিতে আহারে-- কী টের!
ঢের বিনয় ছিলো তার লোহার পায়ে
ছিলো কিছু আত্মবিশ্বাস-
বিশ্বাসের দাঁত বসে গেছে হাঁড়ে- মজ্জায়-
স্মৃতির ভেতর।
স্মৃতির ভেতর হাঁস- দুই ডানা মেলে
কী সুন্দর দেখাল উড়ার ভঙ্গিমা-
ভঙ্গিমা নকল করি শুধু-
জানি না উড়াল-
জানি না ছড়াতে শীষ-
শীষ থেকে যাদের ঝরে পড়ে শিশির
কোনো ডাকনাম লাগে না তাদের-
ভালোবেসে আমরাই পাগল বলে ডাকি-
এমন একটা পাগল আমাদের গায়ে ছিল-
শীতকাল এলেই লাউয়ের ডগায়-
শিশিরমাখা সাদা ফুল হয়ে হাসতো-
আহারে পাগল! কেন যে শহরে এলি!
শাঁখের আওয়াজগুলো ভেঙে-
চূরচূর হয়ে মিশে যাচ্ছে সিমেন্টের ধূলোয়-
আর ধূলোদের অভিমান কুড়িয়ে
বাঁশীতে তুলে রাখছে এক বাদক-
আহারে লাটিম! ঘুরতে ঘুরতে
ফনা তুলে ঢেলে দিচ্ছে বিষ-
আরো বিষে নীল হলো সমুদ্র আমার-
ফেলে দিল যে খাতায় লেখা ছিল সাম্যের তালিম-
কোথাও কী বেহুলা আছে-
শহরের ছিমছাম মৃত্যুপুরী থেকে
বাঁচাবে এই নীল লখিন্দর-
ওহো- শহর-দূরে যাও-
দূরে যাও স্বর্গের দেশে-
মেপে মেপে ঢেলে দাও হাসি-
আমার চাই না ওসব-
শুধু দিয়ে দাও সুন্দরবন-
আবারো আদিম হবো- চাই না রেশম-
লতা-বাকল পড়ে ফলাব ফসল-
আর পূর্ণিমা রাতে
ভর জোয়ারের কালে শঙ্খ বাজিয়ে
বুকের উপর নাচাবো লাটিম।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




