
বাংলাদেশ এখন এক নতুন সূর্যোদয়ের প্রতিক্ষায় উৎসবমুখর। এই উৎসব পরিবর্তনের, একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশকে পাবার আশা আকাংখার। সারা দেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া। আমরা উত্তাল নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি। নির্বাচন নিয়ে নানা মেরুকরণ সবসময়ই হয়। এবারও হচ্ছে? চারদিকে চলছে প্রতিশ্রুতির পালা। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করতে। যারা কখনই এসব নেতাকে দেখেনি, তারা দেখছে এই তাদের সম্ভাব্য প্রতিনিধি। তবে এবার কিছু ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। মানুষ এবার অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন প্রার্থী নির্বাচনে। সবাই এবার প্রার্থী সম্পর্কে জেনেবুঝে ভোট দিতে চায় তাদের যারা তাদের হয়ে কাজ করবে। গেল দুবছর একটি ব্যাতিক্রমি সরকার আমাদের দেশ পরিচালনা করেছে। সেখানে আমাদের অনেক আশা ছিল, ছিল অনেক পরিবর্তনের আশ্বাস। তারাও যাথাসাধ্য চেস্টা করেছেন তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে। এবারের নির্বাচনে আমরা তাই উপহার পাচ্ছি একটি সুস্ট সুন্দর পরিবেশ।
১. এবারই প্রথম ভোটার আইডিকার্ড করা হয়েছে জাল ভোট বন্ধ করার লক্ষ্যে। সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ভোট দেয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে তাই আশা করা যায় ব্যালেটবাক্স ছিনতাই, জালভোট ও ভোটচুরি হবে না। জনগনের ভোটে সঠিক সরকারই নির্বাচিত করা যাবে।
২. মিডিয়ার প্রশংশা এখন সকল স্তর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মিডিয়াগুলি এবার অনেক নির্ভীক নির্বাচনী রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বিভিন্ন টকশোতে দেখলাম সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের লোকজনের নানাবিধ প্রশ্নের জবাব দিতে। অনেকসময় তাদের অপ্রস্তুত অবস্হায় পড়তে হয়েছে কিছু বাস্তবস্মত উত্তর খুঁজে পেতে। এছাড়া দুদকের কল্যানে মানুষ নেতাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছে গত দুবছর ধরে। কারা কি কারণে জেলে গেছেন এখন সবাই সেটা জানে।
৩. সুজনের(সুশাসনের জন্য নাগরিক) পক্ষ থেকে সমস্ত প্রার্থীদের বিশদ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বৈধ, অবৈধ সম্পদের হিসাব, ভাল মন্দ সবধরণের কাজের বিস্তারিত বিবরণ(যা বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ পত্র থেকে সংগৃহীত) সহ যা লোকজনকে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সহায়তা করবে।
৪. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি আধুনিক তথ্যবহুল ওয়েবসাইট তৈরী করেছে। বর্তমান সবচেয়ে আলোচিত বিষয় আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রায় সকল প্রকার তথ্য পাবেন এই ওয়েবসাইটটিতে। (http://www.ecs.gov.bd)। নির্বাচন কশিনের নির্বাচন বিষয়ে সর্বশেষ আপডেট পাওয়া যাবে এখানে এবং এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আসন অনুয়ায়ী প্রার্থীর নাম, প্রার্থীর দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক, ভোটার সংখ্যা, ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা সমস্ত পাবেন এই ওয়েবসাইটটিতে। পাবেন প্রার্থীদের ব্যাক্তিগত তথ্যসমূহও। ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যসমূহ পাবেন এখানে।
৫. এবারই প্রথম “না” ভোটের প্রচলন হয়েছে। বন্ধ হয়েছে ভোটচেয়ে দেয়াল লিখন। আশা করা যায় এবার সুশৃংখলভাবে ভোট দেয়া যাবে সুন্দর পরিবেশে। এজন্য সরকার বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।
৬. দিন বদলাচ্ছে, শিক্ষিতের পাশাপাশি অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত জনগণ সবাইকে এবার দেখছি অনেক সজাগ। ৩৭ বছরের ইতিহাস থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে ঠিক করবে কাকে ভোট দেবেন আর কাকে দেবে না, কে দেশ চালাবে আর কাকে নেতৃত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া উচিত।
৭. এবার রাজারমুক্ত সংসদ দেখতে চায় সবাই। তাই স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্হান সকলের। দেশকে জঙ্গিবাদীদের কবলথেকে মুক্ত করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। এবার আসুন আমরা শপথ নেই মৌলবাদমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত, রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।
সবমিলিয়ে পাওয়া এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পটভূমি এই মুহুর্তে পরিবর্তন করা সম্ভব। একবার যদি সুস্হ ধারার রাজনীতি দেশে প্রতিস্ঠত করা যায়, তবে অনেক সুযোগ্য নাগরিক আসবে এদেশের রাজনীতিতে এবং যারা রাজনীতিটাকে তাদের ব্যাবসানীতি বানিয়েছিল তারাও হয়তো সে পথ থেকে সরে আসবে। এবার তারা বুঝবে জনগণই সকল ক্ষমতার অধিকারী এবং জনগণের কাছে একদিন জবাবদিহিতা করতে হবে। আসুন এবার নির্বাচনে আমরা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন করি যারা দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করে শান্তি স্হাপন করবে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে। আমরা খুঁজে পেতে চাই আর একজন মাহাথিরকে যিনি দেশ গড়ার কঠিন মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থে নিয়ে আসবেন গনতন্ত্রের এক নতুন সূর্যোদয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


