somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আমাকে কিন্তু একটা বাড়ি দিতে হবে ।হুঁ !

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মুহূর্তে আপনিই বাংলাদেশের আল্লা ।আল্লা যেমন সমগ্র জাহানে যখনই যা চান করতে পারেন, তেমনি আপনিই এখন বাংলাদেশে যা চান করতে পারেন । আপনার ক্ষমতার ধারে কাছে ঘেসে সাধ্য কার ?(ইহাকে খাঁটি তৈল ভাবিয়া ভুল করিবেননা, ইহা বাস্তব সত্য কথা)

আমি বুঝি, কিছু সিমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার আফসোসের অন্ত নেই ।সেই সিমাবদ্ধতায় হাত দিয়ে আপনার দৈন্য প্রকট করবনা ।আপনাকে ইসা (আঃ) এর মত কোন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে মুর্দাকে জীন্দা করার কসরৎও করতে হবেনা । দ্রব্যমূল্য, দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি আর দলপ্রীতির মত রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতেও উত্তীর্ণের চেষ্টা আপনাকে করতে হবেনা ।

মান্যজন, আমি নেহায়েৎই ভাগ্যবিড়ম্বিত এক হতভাগ্য । কপালের ফেরে কোন সুবিশাল সম্পদশালীর ঘরে আমার জন্ম হয়নি । কোন রাজনৈতিক নেতার ঘরেও আমার জন্ম হয়নি । কোনদিন কোন প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সন্তান হিসাবে দাবী করেনি । নিতান্তই সাদামাটা এক কৃষক পরিবারে আমার জন্ম । আমার জন্মের আগেই আমার বাবা ঢাকা শহরে পাঁচ কাঠা জমি কেনার জন্য তিন হাজার টাকা গুছিয়েছিলেন । কিন্তু দাদার বাঁধার মুখে তাও কিনতে পারেননি ।তবু বাবার কপাল একেবারেই খারাপ ছিলনা ।পাকিস্তান আর্মিতে বাবা চাকরী পেয়েছিলেন ।মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে ফেরৎ না গিয়ে দেশে থেকে যুদ্ধ করেছেন ।তার পুরস্কার হিসেবে আপনার বাবার আমলে একটি বোনাস প্রমোশনও পেয়েছেন । সুখেই কাটছিল আমাদের দিন ।

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার স্ব-ঘোষিত বড় ভাই, যুদ্ধে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশী অফিসার, যখন ক্ষমতায়, ঐ প্রমোশনের খেসারৎ দিতে হল আমার বাবাকে । বাবার চাকরী চলে গেল । স্ত্রী,পুত্র,কন্যা নিয়ে বাবা ফেরৎ গেলেন তার কৃষক বাবার কাছে । নতুন করে শুরু করলেন জীবনজয়ের সংগ্রাম ।

বাবার বড় ছেলে, মানে আমার বড় ভাই,নৌবাহিনী থেকে আপনারই প্রথম টার্মের শাসনামলে চিকিৎসা না পেয়ে মেডিকেল বোর্ড আউট হয়ে চলে আসে ।আমার সুস্থ ভাইটা দেশ সেবায় গিয়ে নিজের বারটা বাজিয়ে চলে এল । তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয় ভারতে ।ভারত থেকে তাকে ফেরৎ পাঠানো হয় বিনা চিকিৎসায় ।স্ত্রী - সন্তান নিয়ে তিনি আজ ভাইদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ।আমরা কারো কাছে কোন অভিযোগ করিনি ।

আপনি সম্প্রতি এক দুর্ণীতিগ্রস্ত মহিলার কাছ থেকে একটি বাড়ি কেড়ে নিয়েছেন ।আপনি এদেশের গড । আপনার ক্ষমতার পরিধী অসীম । আপনি চাইলে যাকে ইচ্ছা পথের ফকির বানাতে পারেন, যাকে ইচ্ছা পথ থেকে তুলে রাজপ্রাসাদে বসাতে পারেন ।একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীও আপনার কাছে তুচ্ছ ।তাই বলছিলাম কি, আমার বাবা-মা এই শেষ বয়সে গ্রামে থেকে কত কষ্টইনা করছেন ।অসুখে বিসুখে ঠিকমত ডাক্তারের সেবাটুকুও পাচ্ছেননা ।আপনারা ভাই-বোন মিলে আমাদের পরিবারটার প্রতি যে অবিচারটুকু করেছেন তার প্রতিদান হিসেবে কি ঐ বাড়ীটা আমাদের দেয়া যায়না ? আচ্ছা ঠিকাছে, প্রত্যাশা একটু কমিয়ে আনলাম, দশ কাঠার একটা বাড়ীও কি দেয়া যায়না -একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে ?

আপনি প্রধানমন্ত্রী, দেশের মা, আপনার সামান্য বদ নজরে যেমন পুড়ে খাক হয়ে যেতে পারে কারো কপাল, তেমনি আপনার সামান্য নেক নজরে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠতে পারে কারো ভবিষ্যৎ ।

একটু নেক নজর, মাননীয়, একটু নেক নজর চায় এই অধম ।
৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×