এই মুহূর্তে আপনিই বাংলাদেশের আল্লা ।আল্লা যেমন সমগ্র জাহানে যখনই যা চান করতে পারেন, তেমনি আপনিই এখন বাংলাদেশে যা চান করতে পারেন । আপনার ক্ষমতার ধারে কাছে ঘেসে সাধ্য কার ?(ইহাকে খাঁটি তৈল ভাবিয়া ভুল করিবেননা, ইহা বাস্তব সত্য কথা)
আমি বুঝি, কিছু সিমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার আফসোসের অন্ত নেই ।সেই সিমাবদ্ধতায় হাত দিয়ে আপনার দৈন্য প্রকট করবনা ।আপনাকে ইসা (আঃ) এর মত কোন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে মুর্দাকে জীন্দা করার কসরৎও করতে হবেনা । দ্রব্যমূল্য, দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি আর দলপ্রীতির মত রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতেও উত্তীর্ণের চেষ্টা আপনাকে করতে হবেনা ।
মান্যজন, আমি নেহায়েৎই ভাগ্যবিড়ম্বিত এক হতভাগ্য । কপালের ফেরে কোন সুবিশাল সম্পদশালীর ঘরে আমার জন্ম হয়নি । কোন রাজনৈতিক নেতার ঘরেও আমার জন্ম হয়নি । কোনদিন কোন প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সন্তান হিসাবে দাবী করেনি । নিতান্তই সাদামাটা এক কৃষক পরিবারে আমার জন্ম । আমার জন্মের আগেই আমার বাবা ঢাকা শহরে পাঁচ কাঠা জমি কেনার জন্য তিন হাজার টাকা গুছিয়েছিলেন । কিন্তু দাদার বাঁধার মুখে তাও কিনতে পারেননি ।তবু বাবার কপাল একেবারেই খারাপ ছিলনা ।পাকিস্তান আর্মিতে বাবা চাকরী পেয়েছিলেন ।মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে ফেরৎ না গিয়ে দেশে থেকে যুদ্ধ করেছেন ।তার পুরস্কার হিসেবে আপনার বাবার আমলে একটি বোনাস প্রমোশনও পেয়েছেন । সুখেই কাটছিল আমাদের দিন ।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার স্ব-ঘোষিত বড় ভাই, যুদ্ধে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশী অফিসার, যখন ক্ষমতায়, ঐ প্রমোশনের খেসারৎ দিতে হল আমার বাবাকে । বাবার চাকরী চলে গেল । স্ত্রী,পুত্র,কন্যা নিয়ে বাবা ফেরৎ গেলেন তার কৃষক বাবার কাছে । নতুন করে শুরু করলেন জীবনজয়ের সংগ্রাম ।
বাবার বড় ছেলে, মানে আমার বড় ভাই,নৌবাহিনী থেকে আপনারই প্রথম টার্মের শাসনামলে চিকিৎসা না পেয়ে মেডিকেল বোর্ড আউট হয়ে চলে আসে ।আমার সুস্থ ভাইটা দেশ সেবায় গিয়ে নিজের বারটা বাজিয়ে চলে এল । তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয় ভারতে ।ভারত থেকে তাকে ফেরৎ পাঠানো হয় বিনা চিকিৎসায় ।স্ত্রী - সন্তান নিয়ে তিনি আজ ভাইদের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ।আমরা কারো কাছে কোন অভিযোগ করিনি ।
আপনি সম্প্রতি এক দুর্ণীতিগ্রস্ত মহিলার কাছ থেকে একটি বাড়ি কেড়ে নিয়েছেন ।আপনি এদেশের গড । আপনার ক্ষমতার পরিধী অসীম । আপনি চাইলে যাকে ইচ্ছা পথের ফকির বানাতে পারেন, যাকে ইচ্ছা পথ থেকে তুলে রাজপ্রাসাদে বসাতে পারেন ।একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীও আপনার কাছে তুচ্ছ ।তাই বলছিলাম কি, আমার বাবা-মা এই শেষ বয়সে গ্রামে থেকে কত কষ্টইনা করছেন ।অসুখে বিসুখে ঠিকমত ডাক্তারের সেবাটুকুও পাচ্ছেননা ।আপনারা ভাই-বোন মিলে আমাদের পরিবারটার প্রতি যে অবিচারটুকু করেছেন তার প্রতিদান হিসেবে কি ঐ বাড়ীটা আমাদের দেয়া যায়না ? আচ্ছা ঠিকাছে, প্রত্যাশা একটু কমিয়ে আনলাম, দশ কাঠার একটা বাড়ীও কি দেয়া যায়না -একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে ?
আপনি প্রধানমন্ত্রী, দেশের মা, আপনার সামান্য বদ নজরে যেমন পুড়ে খাক হয়ে যেতে পারে কারো কপাল, তেমনি আপনার সামান্য নেক নজরে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠতে পারে কারো ভবিষ্যৎ ।
একটু নেক নজর, মাননীয়, একটু নেক নজর চায় এই অধম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



