somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন জরুরী!!!

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই একটি আক্রান্ত জনপদের ইতিহাস । আর্য, হুন, বর্গী, মোঘল, আফগান, ইংরেজ আর পাকিদের শোষন, নির্যাতন আর লুন্ঠনের কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি । ইতিহাস বলে একটি প্রাচুর্যময় দেশ ছিল এই জনপদ । কিন্তু হাজার বছরের লুন্ঠন আমাদেরকে পরিনত করেছে বিশ্বের তলাবিহীন ঝুড়িতে । ঝুড়িটা যদি শূণ্য হত আর তলা ঠিক থাকত তাও আশা থাকত যে একদিন আবার ঝুড়িটা ভরে উঠবে । কিন্তু কিছু জারজ রাজনীতিক আর বেপথু ধনশালীরা দেশের সম্পদ লুন্ঠনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব আজো নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছে । আমার দেশের গরীবের কাপড় কেনার টাকা উধাও হয়ে বাড়াচ্ছে বিদেশী ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা । আর সেই ঋণ গ্রহণ করে আমরা নিস্ব থেকে নিস্ব হয়ে যাচ্ছি ।

ইতিহাস আরো বলে এ অঞ্চলের মানুষ কখনোই অপর রাষ্ট্র আক্রমন করেনি । অন্যের সম্পদ কেড়ে এনে এদেশের গোলা ভরার ইতিহাসও নাই । আমরা শুধু আজীবন আক্রমনের শিকার । দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার পর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং বিদেশী প্রভুরা ততদিনে বুঝে গেছে লুন্ঠনের আর বাকী নেই কিছু- তারা আমাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দিয়ে চলে গেছে; আমরা হয়ে উঠেছি বীরের জাতি ! যে জাতি কখনো অন্য দেশ আক্রমন করে শত্রুর রক্তে নিজের হাত রাঙ্গায়নি সে জাতি আবার বীরের জাতি ? নিজের জীবন বাঁচাতে মরিয়া মানুষ অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে, কিন্তু তাকে কি বীরত্ব বলা যায় ?

রপ্তানী, রেমিটেন্স আর পরদেশী দানের সাহায্যে তলাবিহীন ঝুড়ির তলা মেরামতের কাজ চলছে অনেক আগে থেকেই । কিন্তু তা কোনভাবেই যথেষ্ঠ নয় । কলোনীর যুগ শেষ হয়েছে বহু আগেই । চলছে নয়া উপনিবেশবাদ । এখন আর মানচিত্র দখল করেনা কেউ । দখল করে বাজার আর আকাশ । কৃষ্টি আর সভ্যতা । আকাশ সংস্কৃতি বলে দেবে আমাদের চাহিদা । বদলে দেবে অভ্যাস আর কৃষ্টি । আমাদের নতুন অভ্যাস আর নতুন চাহিদার যোগান দিতে ইতোমধ্যে বাজার প্রস্তুত । আমরা এখন দাস । গ্লোবাল দাস । আগের দাসেরা বিদ্রোহ করতে পারত । আমরা তাও পারিনা । কারন আমরা তাই চাই, যা আমাদের প্রভু চান ।

বাংলাদেশ কখনো ভারত, চীন কিংবা আমেরিকার আকাশ অথবা বাজার কোনটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা । আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন যে, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এই তিনটি বৃহৎ দেশেরই টার্গেট বিন্দু । মাটির উপরের সোনা ফসল খেয়ে গেছে ঔপনিবেশিক প্রভু । মাটির তলের সম্পদে হিস্যা বসিয়েছে নয়া উপনিবেশের দোসর কর্পোরেটরা । ঘনবসতির কল্যাণে সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বেশী ভোক্তা পেয়ে যাচ্ছে আকাশ ও বাজার দখলকারীরা । বাতাসেও দখলের হাত বসিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ । এদেশের বাতাস বেঁচে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা এদেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে তস্করের দল ।

এদেশের ভূগোলও এদেশের কম শত্রু নয় । শিলিগুড়ি করিডোর ছাড়া ভারত তার সপ্তকন্যার বাড়িতে পুজা-পার্বনে বেড়াতে যেতে পারেনা-যেটা নাকি চীনের বেশ কাছাকাছি এবং স্পর্শকাতরও বটে । এজন্য বাংলাদেশের উপর দিয়ে চাই সোজা পথের ট্রানজিট । হয়তো একটা বড়সর নদী কেটে যোগাযোগের রাস্তাটা আরও সহজ করে নেয়ার আব্দারও ভারত করবে অদূর ভবিষ্যতে । চীন যদি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহারই না করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ চীনের কিসের বন্ধু ? যেভাবেই হোক চট্টগ্রাম বন্দর চীনের ব্যবহার করা চাই । তাহলে যে তাদের অনেক সময় আর অর্থ বেঁচে যায় । আর বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা ? এদেশের ভূগোলে কি তার কোন স্বার্থ নাই । দু-পাশে দু-দুটো বর্তমান আর হবু পরাশক্তি । এমন একটা অবস্থান কি সহজে ছাড়া যায় । বাংলাদেশের ভূখন্ডে তাই আমেরিকার স্বার্থ সবচেয়ে বেশী ।

বাংলাদেশ কি হাজার বছরের গোলামীর ঐতিহ্য ধরে রাখবে ? অতীতের মত এখনো যাপন করবে গোলামীর জীবন ? এখনও ডাকাতের ভয়ে তটস্থ থাকবে সবসময় ? গায়ে যদি থাকে হরিণের সুস্বাদু মাংস আর হাতে আর মুখে যদি না থাকে হায়েনার হিংস্রতা প্রকাশের মাধ্যম- কিভাবে বাঁচাবেন নিজের সম্ভ্রম ? মায়ানমারও দেখেন কত অবলিলায় আঁচড় কাটছে এদেশের মানচিত্রে । আর আমরা ভীরুর ডিমরা শুধু আলোচনা আর আলোচনা ছাড়া কিছুই বুঝিনা । এদেশের আকাশ,বাতাস, অন্তরীক্ষ, জল, স্থল, অরণ্য সর্বত্রই হায়েনার লোলুপ চাহনি- যা থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য আত্মরক্ষামূলক পররাষ্ট্রনীতি মোটেই যথেষ্ঠ নয় ।

আগামীতে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক একটি আগ্রাসী দেশ । অন্য দেশে শুরু করুক আগ্রাসী ফন্দি । যে দেশগুলো এদেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী সেইসব দেশে ঘটিয়ে চলুক একের পর এক বিশৃংখলা। সকল দেশেই নিজস্ব লবি গড়ে তুলুক । মুলা আর মুগুর তুলে নিক হাতে । ন্যায় বিচার করার ক্ষমতা কেবল শক্তিমানেরই থাকে । দুর্বলের থাকে কেবল বিচার চাইবার ক্ষমতা । বাংলাদেশ ইতিহাসের চক্র থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতাবান হয়ে উঠুক । বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হয়ে উঠুক আত্মরক্ষামূলক থেকে আক্রমনাত্মক ।

আক্রমনই উৎকৃষ্ট আত্মরক্ষা ।

(অবশ্য সবার আগে এদেশকে যারা তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে রাখছে তাদেরকেই দেশ থেকে উৎখাত করতে হবে । কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ?)
৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×