বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই একটি আক্রান্ত জনপদের ইতিহাস । আর্য, হুন, বর্গী, মোঘল, আফগান, ইংরেজ আর পাকিদের শোষন, নির্যাতন আর লুন্ঠনের কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি । ইতিহাস বলে একটি প্রাচুর্যময় দেশ ছিল এই জনপদ । কিন্তু হাজার বছরের লুন্ঠন আমাদেরকে পরিনত করেছে বিশ্বের তলাবিহীন ঝুড়িতে । ঝুড়িটা যদি শূণ্য হত আর তলা ঠিক থাকত তাও আশা থাকত যে একদিন আবার ঝুড়িটা ভরে উঠবে । কিন্তু কিছু জারজ রাজনীতিক আর বেপথু ধনশালীরা দেশের সম্পদ লুন্ঠনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব আজো নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছে । আমার দেশের গরীবের কাপড় কেনার টাকা উধাও হয়ে বাড়াচ্ছে বিদেশী ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা । আর সেই ঋণ গ্রহণ করে আমরা নিস্ব থেকে নিস্ব হয়ে যাচ্ছি ।
ইতিহাস আরো বলে এ অঞ্চলের মানুষ কখনোই অপর রাষ্ট্র আক্রমন করেনি । অন্যের সম্পদ কেড়ে এনে এদেশের গোলা ভরার ইতিহাসও নাই । আমরা শুধু আজীবন আক্রমনের শিকার । দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার পর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং বিদেশী প্রভুরা ততদিনে বুঝে গেছে লুন্ঠনের আর বাকী নেই কিছু- তারা আমাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দিয়ে চলে গেছে; আমরা হয়ে উঠেছি বীরের জাতি ! যে জাতি কখনো অন্য দেশ আক্রমন করে শত্রুর রক্তে নিজের হাত রাঙ্গায়নি সে জাতি আবার বীরের জাতি ? নিজের জীবন বাঁচাতে মরিয়া মানুষ অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে, কিন্তু তাকে কি বীরত্ব বলা যায় ?
রপ্তানী, রেমিটেন্স আর পরদেশী দানের সাহায্যে তলাবিহীন ঝুড়ির তলা মেরামতের কাজ চলছে অনেক আগে থেকেই । কিন্তু তা কোনভাবেই যথেষ্ঠ নয় । কলোনীর যুগ শেষ হয়েছে বহু আগেই । চলছে নয়া উপনিবেশবাদ । এখন আর মানচিত্র দখল করেনা কেউ । দখল করে বাজার আর আকাশ । কৃষ্টি আর সভ্যতা । আকাশ সংস্কৃতি বলে দেবে আমাদের চাহিদা । বদলে দেবে অভ্যাস আর কৃষ্টি । আমাদের নতুন অভ্যাস আর নতুন চাহিদার যোগান দিতে ইতোমধ্যে বাজার প্রস্তুত । আমরা এখন দাস । গ্লোবাল দাস । আগের দাসেরা বিদ্রোহ করতে পারত । আমরা তাও পারিনা । কারন আমরা তাই চাই, যা আমাদের প্রভু চান ।
বাংলাদেশ কখনো ভারত, চীন কিংবা আমেরিকার আকাশ অথবা বাজার কোনটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা । আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন যে, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এই তিনটি বৃহৎ দেশেরই টার্গেট বিন্দু । মাটির উপরের সোনা ফসল খেয়ে গেছে ঔপনিবেশিক প্রভু । মাটির তলের সম্পদে হিস্যা বসিয়েছে নয়া উপনিবেশের দোসর কর্পোরেটরা । ঘনবসতির কল্যাণে সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বেশী ভোক্তা পেয়ে যাচ্ছে আকাশ ও বাজার দখলকারীরা । বাতাসেও দখলের হাত বসিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ । এদেশের বাতাস বেঁচে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা এদেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে তস্করের দল ।
এদেশের ভূগোলও এদেশের কম শত্রু নয় । শিলিগুড়ি করিডোর ছাড়া ভারত তার সপ্তকন্যার বাড়িতে পুজা-পার্বনে বেড়াতে যেতে পারেনা-যেটা নাকি চীনের বেশ কাছাকাছি এবং স্পর্শকাতরও বটে । এজন্য বাংলাদেশের উপর দিয়ে চাই সোজা পথের ট্রানজিট । হয়তো একটা বড়সর নদী কেটে যোগাযোগের রাস্তাটা আরও সহজ করে নেয়ার আব্দারও ভারত করবে অদূর ভবিষ্যতে । চীন যদি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহারই না করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ চীনের কিসের বন্ধু ? যেভাবেই হোক চট্টগ্রাম বন্দর চীনের ব্যবহার করা চাই । তাহলে যে তাদের অনেক সময় আর অর্থ বেঁচে যায় । আর বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা ? এদেশের ভূগোলে কি তার কোন স্বার্থ নাই । দু-পাশে দু-দুটো বর্তমান আর হবু পরাশক্তি । এমন একটা অবস্থান কি সহজে ছাড়া যায় । বাংলাদেশের ভূখন্ডে তাই আমেরিকার স্বার্থ সবচেয়ে বেশী ।
বাংলাদেশ কি হাজার বছরের গোলামীর ঐতিহ্য ধরে রাখবে ? অতীতের মত এখনো যাপন করবে গোলামীর জীবন ? এখনও ডাকাতের ভয়ে তটস্থ থাকবে সবসময় ? গায়ে যদি থাকে হরিণের সুস্বাদু মাংস আর হাতে আর মুখে যদি না থাকে হায়েনার হিংস্রতা প্রকাশের মাধ্যম- কিভাবে বাঁচাবেন নিজের সম্ভ্রম ? মায়ানমারও দেখেন কত অবলিলায় আঁচড় কাটছে এদেশের মানচিত্রে । আর আমরা ভীরুর ডিমরা শুধু আলোচনা আর আলোচনা ছাড়া কিছুই বুঝিনা । এদেশের আকাশ,বাতাস, অন্তরীক্ষ, জল, স্থল, অরণ্য সর্বত্রই হায়েনার লোলুপ চাহনি- যা থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য আত্মরক্ষামূলক পররাষ্ট্রনীতি মোটেই যথেষ্ঠ নয় ।
আগামীতে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক একটি আগ্রাসী দেশ । অন্য দেশে শুরু করুক আগ্রাসী ফন্দি । যে দেশগুলো এদেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী সেইসব দেশে ঘটিয়ে চলুক একের পর এক বিশৃংখলা। সকল দেশেই নিজস্ব লবি গড়ে তুলুক । মুলা আর মুগুর তুলে নিক হাতে । ন্যায় বিচার করার ক্ষমতা কেবল শক্তিমানেরই থাকে । দুর্বলের থাকে কেবল বিচার চাইবার ক্ষমতা । বাংলাদেশ ইতিহাসের চক্র থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতাবান হয়ে উঠুক । বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হয়ে উঠুক আত্মরক্ষামূলক থেকে আক্রমনাত্মক ।
আক্রমনই উৎকৃষ্ট আত্মরক্ষা ।
(অবশ্য সবার আগে এদেশকে যারা তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে রাখছে তাদেরকেই দেশ থেকে উৎখাত করতে হবে । কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ?)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

