somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈশ্বিক পানি সংকটঃ স্পটলাইট বাংলাদেশ

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পানির অপর নাম জীবন!!!

সারা বিশ্বের প্রানী ও উদ্ভিদকুলের বেঁচে থাকবার প্রথম এবং প্রধান অনুষঙ্গটিই হল পানি আর এই পানির বিকল্প একমাত্র পানি। একারনেই হয়তোবা পুরো সৌরজগতে পৃথিবী-ই একমাত্র পানিপূর্ন গ্রহ যেখানে প্রানের সঞ্চারন হয়েছে। একজন মানুষ পানি ছাড়া গড়ে মাত্র তিনদিন বেঁচে থাকতে পারে। যদিও পানি, প্রতিনিয়তই বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, বাষ্পত্যাগ, ইত্যাদি বিশিষ্ট পানিচক্রের মাধ্যমে ঘূর্ণমান হয়ে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত পানি সরবরাহ করেই চলেছে তথাপি প্রতি বিশ বছরে মানবকুলের পানি ব্যবহারের হার দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পাওয়া এবং পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে যাবার কারনে খুব দ্রুত সারা বিশ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর পানি সংকট সমস্যার মুখোমুখি হতে চলেছে।

চিত্রঃ পানিচক্র

বলা হচ্ছে যে, এই গ্রহের ভূ-গর্ভের প্রায় ৭১ ভাগ অংশই পানি দ্বারা পূর্ন এবং পৃষ্ঠ তলের মোট পানির ৯৬.৫ ভাগ হল লবনাক্ত পানি (যেগুলো মূলত সমুদ্রে রক্ষিত) আর বাকী ২.৫ ভাগকে বিবেচনা করা হয় বিশুদ্ধ পানি হিসেবে। যদিও পৃথিবীতে মোট বিশুদ্ধ পানির পরিমানের কথা ২.৫ ভাগ বলা হচ্ছে কিন্তু তার বেশীর ভাগই বরফ এবং হিমবাহ দ্বারা আচ্ছাদিত।

চিত্রঃ পৃথিবীর সাপেক্ষে মোট পানি, ভূর্গভস্থ-লেক-জলাভূমি-নদী-অন্যান্য বিশুদ্ধ পানি, হ্রদ এবং নদীর বিশুদ্ধ পানির পরিমান

আসেন উপরের ছবিটার দিকে মনযোগ দেই। ছবিতে খুব খেয়াল করলে পৃথিবীর উপরে পাশাপাশি তিনটি নীলরঙ্গা বাবল দেখা যায় (একটি মার্বেলাকৃতির এবং বাকী দুটো বিন্দু আকৃতির)। মার্বেলাকৃতির বড় বাবলটি আসলে সারা বিশ্বের সকল পানির পরিমানকে (৯৬.৫%) নির্দেশ করছে। ছোট বিন্দুটি নির্দেশ করছে ভূগর্ভস্থ, লেক, জলাভূমি, নদী এবং অন্যান্য সকল বিশুদ্ধ পানির পরিমানকে। এবং ক্ষুদ্র বিন্দুটি নির্দেশ করছে সারা বিশ্বের সকল নদী এবং লেকের মোট বিশুদ্ধ পানির পরিমানকে। সূতারাং এটা পরিস্কার যে, পানিচক্র যে পরিমান পানি পৃথিবীতে সরবরাহ করছে কিংবা পৃথিবীতে মজুদ মোট পানি পৃথিবীর সাপেক্ষে যথেষ্ঠ নয়। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ১১০ কোটি মানুষ সুপেয় পানির অধিকার হতে বঞ্চিত আর ৮০ কোটি মানুষ প্রতিদিন দূষিত পানি পান করছে। জাতিসংঘ বলছে ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মানুষের এলাকা গুলো পানি বঞ্চিত এলাকায় পরিণত হবে।

পুরো পৃথিবী ভর্তি পানি হলেও সারা বিশ্বে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা আজকের নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ দিনের এই সমস্যা আজ প্রকট হতে প্রকটতর হতে চলেছে। আর এই পানিকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে নানান রাজনীতি আর দ্বন্দ্ব। উদাহরন হিসেবে সিরিয়ার সাম্প্রতিক যে সংকট তার সূচনাটিকে সামনে নিয়ে আসা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন সেটির সূত্রপাত কিন্তু সিরিয়ার শহর দারাতে এই পানির বরাদ্দে নানান অনিয়ম আর দূর্নিতির মধ্য দিয়ে, একই ঘটনা ইয়েমেনেও। পানি নিয়ে ঝামেলা চলছে নীল নদে, তুরস্কে, কঙ্গোতে নীল নদ নিয়ে, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে, ইন্ডিয়া-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে। সূতারাং এটা পরিস্কার যে, পানি-ই হল আগামী দিনের পেট্রোলিয়াম এবং এই পানির উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতেই বিশ্ব আরেকটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশুদ্ধ পানির এই চাহিদাগত সমস্যা হতে বাংলাদেশ যে মুক্ত বিষয়টা তেমন নয় বরং অধিক জনসখ্যার ছোট্ট এই দেশটায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। বাংলাদেশের পানি সংকট সমস্যার কারন কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

১। নদীগুলো পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পুরোপুরি ব্যার্থ এবং পানি বন্টনের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থপর আচরন
২। ভূর্গভস্থ পানির উপর চাপ এবং পানিতে আর্সেনিকের পরিমান বৃদ্ধি
৩। উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে লবনের পরিমান বৃদ্ধি
৪। অভ্যন্তরীণ পানির উৎস ধ্বংস অথবা চাপ বৃদ্ধি
৫। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত

১। নদীগুলো পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পুরোপুরি ব্যার্থ এবং পানি বন্টনের ক্ষেত্রে ভারতের একচোখা নীতিঃ যদিও বলা হচ্ছে নদী মার্তৃক বাংলাদেশ তথাপি এই নদীগুলো পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে এখন পুরোই ব্যার্থ। কারন, বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃ নদী সংযোগ রয়েছে মোট ৫৪ টি যার ৫৩ টি-ই ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মাত্র একটি নদী তথা গঙ্গা-পদ্মার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে ভারতের সাথে চুক্তি রয়েছে৷ বাকি ৫২টি নদীর ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের চুক্তি নেই। গঙ্গা-পদ্মার পানির হিস্যা নিয়ে চুক্তি থাকলেও ভারত বাংলাদেশকে তার ন্যায্য হিস্যা প্রদান করছে না। তারা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দূরে ফারাক্কায় বাধ নির্মাণ করে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে যা তীব্র পানি সংকট তৈরির পাশাপাশি উপকুল অঞ্চলের পানিতে লবনের পরিমান বাড়িয়ে তুলছে।

২। ভূর্গভস্থ পানির উপর চাপ এবং পানিতে আর্সেনিকের পরিমান বৃদ্ধিঃ দেশের নদী-নালাগুলো শুকিয়ে যাবার দরুন ভূর্গভস্থ পানির উপর চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মতে বোরো মৌসুমে মাত্র এক কেজি ধান উৎপাদনের জন্য ৩-৫ হাজার লিটার পানি খরচ হয়। CSISA Bangladesh এর ২০১৩ এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ৩৫৩২২ টি ডিপ টিউবওয়েল, ১,৫২৩,৩২২ শ্যালো টিউবওয়েল, ১৭০,৫৭০ টি অন্যান্য পাম্পের সাহাজ্যে প্রায় ৭০% কৃষি এরিয়াতে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ প্রদান করা হয়। ভূর্গভস্থ পানির উপর এই চাপ শুধু গ্রাম এলাকাগুলোতে নয় বরং শহর এলাকাগুলোতে আরো প্রকট। ঢাকা শহরের প্রায় ৯০% পানি উৎপাদন করা হয় ভূগর্ভস্থ উৎস হতে। অন্যান্য উৎস গুলো বিলুপ্ত প্রায়। প্রায় ১৫ মিলিয়ন মানুষের জন্য শুধুমাত্র ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা হল ২.২ বিলিয়ন লিটার যেখানে ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন ১.৯ থেকে ২ বিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। এই ওভার পাম্পিং এর কারনে এই ভূগর্ভস্থ পানি পর্যন্ত আজ হুমকির মধ্যে। এপ্রিলের শুরুর দিকটায় ঢাকা শহরে পানি সংকট এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায় যে অনেকেই পানি পর্যন্ত পান না। বিএডিসি বলছে ২০১১ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল সমুদ্র লেভেল থেকে ৫২ মিটার নিচে নেমে গিয়েছে যেটি কিনা ২০০৪ সালে ছিল ৪৬ মিটার নিচে। আর এসবের পরিনামটা হল পানিতে ভয়াবহ ভাবে আর্সেনিকের উপস্থিতি। সাম্প্রতিক সময়ে আর্সেনিক সমস্যাটা প্রায় বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক জেলার গ্রামগুলোতে পরিলক্ষিত হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটা রিপোর্ট বলছে বাংলাদেশে প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ এখনো আর্সেনিক যুক্ত দূষিত পানি পান করছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৩০০০ মানুষ মৃত্যু বরন করছে শুধুমাত্র আর্সেনিক নামক বিষ পান করবার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের প্রায় ১১ মিলিয়ন টিউবওয়েলের মধ্যে ৫ মিলিয়ন টিউবওয়েলই আর্সেনিক আক্রান্ত।

৩। উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে লবনের পরিমান বৃদ্ধিঃ বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম উপকুলবর্তী অঞ্চলের পানিতে স্যালাইনিটির পরিমান দিনদিন বেড়েই চলছে। সমুদ্র লেভেলের উচ্চতা বৃদ্ধি এই স্যালাইনিটি বৃদ্ধির অন্যতম কারন হিসেবে বিবেচিত হলেও বড় আরেকটা কারন হল গড়াই নদী গতিপথ পরিবর্তন এবং তুলনামুলক কম বৃষ্টিপাত। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একমাত্র ফ্রেস পানির উৎস ছিল গড়াই নদী যেটি কিনা গঙ্গা হতে আসা। ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মান করবার মধ্য দিয়ে গঙ্গা নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়ার কারনে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে স্যালানিটি বৃদ্ধি পেয়েছে চরম আকারে। পানিতে লবন বৃদ্ধি পাবার আরেকটি অন্যতম কারন হল ব্যাপক হারে চিংড়ি চাষ। ক্রমবর্ধমান লাভের আশায় চাষীরা তাদের স্বাদু পানির পুকুর গুলোতে লবনাক্ত পানি ভরাট করে শুরু করল চিংড়ি ঘের তৈরি। আর এখন উত্তরাঞ্চলের মাঠগুলোর যেদিকে চোখ যায় শুধু ঘের আর ঘের। সবুজের চিহ্নটুকু নেই কোথাও। অবস্থা আজ এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে শুষ্ক মৌসুমে খুলনা, বাগের হাট এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলে পানিতে স্যালাইনের মাত্রা ৪ পিপিটির বেশি থাকে যেখানে পানিতে স্যালাইনের মাত্রা যদি ১ পিপিটির বেশি হয় তবে তা গৃহস্থালী কাজের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।


৪। অভ্যন্তরীণ পানির উৎস ধ্বংস অথবা চাপ বৃদ্ধিঃ
উপরোক্ত তিনটি কারনে যদিও অভ্যন্তরীণ পানির উৎসগুলোর উপর চাপ বাড়ছে তথাপি ক্রমবর্ধমান নগরায়ন, মনুষ্য বসতি নির্মান, কলকারখানার অথবা রাসায়নিক বর্জ্য নিক্ষেপ ইত্যাদির মাধ্যমে অসচেতনতার বশবর্তী হয়ে মানুষ পানির অভ্যন্তরীণ উৎস গুলোও নষ্ট করে দিচ্ছে। যার ফলাফল হিসেবে আমরা বুড়িগঙ্গা নদীর কথা ভাবতে পারি। বুড়িগঙ্গা আজ বিপর্যয়ের এমন দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে যে, নদীর পানির নিকটবর্তী হলে ঠিকমত নিঃশ্বাস নেয়া যায় না এবং কি সেটিকে আর নদী বলে বিবেচনা করলে বড় হাস্যকর ঠেকে।

৫। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতঃ জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পানি সমস্যার আরেকটা কারন। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারনের মধ্যে মানব সৃষ্ট কারন অন্যতম। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছর দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমছে। ২০০৪ সালে বর্ষা মৌসুমে (জুন-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের উপরে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৯ হাজার ৯০৫ মিলিমিটার। ধারাবাহিক ভাবে দেখলে দেখা যায়, ২০০৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৮,৪৫৮ মিলিমিটার, ২০০৬ সালে ৫৩,৩৭২ মিলিমিটার, ২০০৭ সালে ৬৬,৫২০ মিলিমিটার, ২০০৮ সালে ৬০,৫৫১ মিলিমিটার, ২০০৯ সালে ৫৬,১৬৩ মিলিমিটার, ২০১০ সালে ৪৭,৪৪৭ মিলিমিটার ও ২০১১ সালে ৪৩,৫৭২ মিলিমিটার।

সূতারাং উপরোক্ত আলোচনা হতে এটা পরিস্কার যে বাংলাদেশের পানি সংকট সমস্যার মূল কারনের অন্যতম প্রধান কারন হল ভারতের আন্তঃ নদী সংযোগ প্রকল্প। যেখানে আন্তর্জাতিক আইনে, কোন আন্তর্জাতিক নদীর উপর কোন দেশের একক ভাবে বাঁধ নির্মান কিংবা পানি প্রত্যাহারের কোন সুযোগ নেই সেখানে বাংলাদেশ ভারতের এই পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিস্ময়করভাবে নীরব। আন্তঃ নদী সংযোগের নামে ভারত বাংলাদেশের সাথে অভিন্ন ৫৪ টি নদীতে বাঁধ নির্মান করে যে জাতীয় পানিগ্রীডের পরিকল্পনা করছে তা বাংলাদেশের জন্য মরন ফাঁদ বটে। দেশের তীব্র পানি সংকট মোকাবিলায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহন করা যেতে পারেঃ

১। ভারতের সাথে পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান তথা ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সোচ্চার হওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চাপ অব্যহত রাখা।
২। কৃষিখাতে পানির অপচয় রোধকল্পে নতুন নতুন পদ্ধতির আবিস্কার।
৩। ভূর্গভস্থ পানির উপর চাপ কমিয়ে পানির অন্যান্য উৎসের ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হওয়া।
৪। পানির অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোর রক্ষন এবং দূষন মুক্ত রাখা
৫। বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক পানি যথাযথ সংরক্ষন ও ব্যবহার
৬। পানির সব ধরনের অপচয় রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া
৭। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করে কিংবা রাবার ড্যাম নির্মান করে পানি ধরে রাখা
৮। পানিকে কিভাবে রিসাইক্লিং করবার মধ্য দিয়ে পুনঃ ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা।
৯। স্বাদু পানির পুকুর নষ্ট করে চিংড়ি ঘের তৈরি বন্ধ করা।
১০। পানির অপচয় রোধে, ব্যবহারে অথবা পানির উৎস বিনষ্টে কঠোর আইন প্রনয়ন করা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন
১১। গনমানুষের মধ্যে পানির অপচয় রোধে ব্যাপক গন সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজনে পানিশিক্ষা বাধ্যতামুলক করা।

ভারত কিংবা চীন তথা বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর মধ্যে পানির ব্যাপারে তাদের চরম সতর্ক অবস্থান পরিলক্ষিত হলেও পানির চরম সংকটময় মুহুর্তেও বাংলাদেশের মধ্যে এই বোধ এখন পর্যন্ত জাগ্রত হয় নাই। আর তাইতো পানির ন্যায্য হিস্যা প্রশ্নে সরকার বাহাদুর বিস্ময়কর ভাবে নীরব আর জনতা করে চলেছে পানির যত্রতত্র অপচয় আর অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোর ক্ষয় সাধন। আমার মনে হয় আমাদের আর চুপ করে বসে থাকলে খুব দ্রুত এই অঞ্চল মরুতে পরিণত হবে। আমাদের সোচ্চার হতে হবে এখনই, সচেতন হতে হবে এখনই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:০৮
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

না, মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন বরং বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পাঠক

লিখেছেন নান্দনিক বুদ্ধিপ্রকর্ষ, ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ৯:২০



স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাকি মেজর জিয়া – এই নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটা অবান্তর তথা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক লেগেই রয়েছে। এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:১৮


ফয়েজ লেক (ইংরেজি: Foy's Lake) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ। এটি ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে খনন করা হয় এবং সেসময় পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অকবিতাঃ স্বাধীনতা হবে স্বাধীনতা এবং একটি কপি পেস্টের গল্প

লিখেছেন বিলিয়ার রহমান, ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৯




স্বাধীনতা হবে স্বাধীনতা??
যে স্বাধীনতা কিশোরীর চাহনির মতো কোমল,
নির্ভেজাল, কপটতাহীন, চঞ্চল
যে স্বাধীনতা মায়ের ভালোবাসার মতো সার্বজনীন
পিতার স্নেহের মতো মহান মহীয়ান।
হবে কি এমন একমুঠো স্বাধীনতা
এর জন্য না হয় তের গঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়ের সাথে, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ সাহেব থিতিয়ে গেছে!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩



১৯৫২ সাল থেকে জমে থাকা স্বপ্ন, আশা, ক্ষোভ, প্রতিবাদ, হতাশা ১৯৭১ সালে এসে বিস্ফোরিত হয়েছিল; ১৯৭২ সালের শুরুটা ছিল বিশাল আশার; অনেক কষ্টের পর, অফুরন্ত স্বপ্নের; সেই বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের মন নিয়ে কোরআন যা বলে!

লিখেছেন রিদওয়ান হাসান, ২৬ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:০৮

মন দর্শনশাস্ত্রের একটি অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। মন সাধারণত বুদ্ধি ও বিবেকবোধের এক সমষ্টিগত রূপকে বোঝায়, যা চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ, ইচ্ছা ও কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মন কি এবং কিভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×