somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার পরিচালনায় ভারতীয় থিংকট্যাংকের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফতেহ আলী টিপু : বাংলাদেশের জনগণের ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ-মহাজোট সরকারের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনায় ভারতীয় থিংকট্যাংক অতি তৎপর হয়ে উঠেছেন। একইসাথে এই থিংকট্যাংক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও চারদলীয় জোটের অংশীদার জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী শক্তিকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘ভারত বিরোধী' অবস্থান ত্যাগ করার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতে শুরু করেছেন।
দিল্লীর শাসক মহল তথা গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকদের আস্থাভাজন মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ভারতীয় থিংকট্যাংক-সদস্য ভাস্কর রায় গত ১৯ জুন ২০১০ "Anatomy of Bangladesh Opposition : S K Hasina Must Act" শীর্ষক দীর্ঘ নিবন্ধে বর্তমান সরকারের করণীয় নির্ধারণ করেছেন। একই লেখক বিগত ২ নবেম্বর, ২০১০ লিখেছেন "Opposition Smearing Bangladesh's Crowing Glory." ৭ ডিসেম্বর, ২০১০ এ ভাস্কর রায় লিখেছেন "Can Fossilised Idiology Derail Bangladesh's Development?"
দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় এই সুশীল চিন্তাবিদ বাংলাদেশকে তার চিন্তা-ভাবনা ও লিখালেখির একমাত্র উপজীব্য বানিয়ে নিয়েছেন। ‘সাউথ এশিয়ান এনালিস্ট' তথা দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দানকারী ভাস্কর রায় বাংলাদেশের সচেতন পাঠকদের কাছে কমবেশি পরিচিত। বিশেষ করে বিগত ১/১১-এর ভারত প্রযোজিত সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যেসব ভারতীয় থিংকট্যাংক বাংলাদেশকে দিল্লীর ট্র্যাপে ফেলতে নানা নসিহত করেছেন, ভাস্কর রায় তাদেরই একজন। সুতরাং ভাস্কর রায়কে একজন একাডেমিশিয়ানের চেয়ে দিল্লীর সাউথব্লকের ভাড়াটে হিসেবেই বাংলাদেশের অনেক পাঠক মনে করেন। তবে ভাস্কর রায় যা লিখে আসছেন, তাতে দিল্লীর বাংলাদেশ পলিসি এবং বাংলাদেশ নিয়ে তাদের নীলনকশা উন্মোচিত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। এ কারণেই ভাস্কর রায়ের বক্তব্য আলোচনায় আসে।
বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি ও চারদলীয় জোটের রাজনীতি এবং এই সরকারের সময়কার নীতি-অবস্থানকে তুলোধুনো করে ভাস্কর রায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাফিয়া সম্রাজ্ঞী' হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছেন : "The BNP mother and son duo, Khaleda Zia and Tarek ruled Bangladesh like a Mafia kingdom- unprecedented corruption, extortion, use of terrorists and political assassinations under this cover the Jamat proceeded to- expand its own base, hoping to emerge as the dominant party by 2011-12. The people saw throug them and in the December 2008 election supervised by international observers, they were almost wiped out [Oppossition smearing Bangladesh's Crowning Glory Bhaskar Roy, 02 Nov, 2010; http://www.southasiaanalysis.org]
বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান এবং তাঁদের শাসনকাল সম্পর্কে এমন কুৎসিত ও নোংরা মন্তব্য করার কোন অধিকার কোন ভারতীয় নাগরিকের থাকার কথা নয়। এটা দ্বি-পাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং জাতিগত সহাবস্থানের নীতির পরিপন্থী। ভাস্কর রায়রা হয়তো ধরেই নিয়েছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারই বাংলাদেশের সর্বশেষ ও স্থায়ী সরকার। এই পটভূমিতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে লিখেছেন : "Bangladesh Prime Minister SK Hasina and her government have a huge challange on their hand, but to many political cases and distraction, activities by main opposition is blurring the focus on terrorism. If the terrorists and their former and current sponsors survive, there will be no time on scope to address the development by the nation. [প্রাগুক্ত]
বিএনপি ও জামায়াতকে জঙ্গিবাদের রক্ষক ও স্পন্সর কেয়ারটেকার সরকারের সময় যেসব ভারতীয় থিংকট্যাংক বাংলাদেশকে দিল্লীর ট্র্যাপে ফেলতে নানা নসিহত করেছেন, ভাস্কর রায় তাদেরই একজন। সুতরাং ভাস্কর রায়কে একজন একাডেমিশিয়ানের চেয়ে দিল্লীর সাউথব্লকের ভাড়াটে হিসেবেই বাংলাদেশের অনেক পাঠক মনে করেন। তবে ভাস্কর রায় যা লিখে আসছেন, তাতে দিল্লীর বাংলাদেশ পলিসি এবং বাংলাদেশ নিয়ে তাদের নীলনকশা উন্মোচিত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। এ কারণেই ভাস্কর রায়ের বক্তব্য আলোচনায় আসে।
বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি ও চারদলীয় জোটের রাজনীতি এবং এই সরকারের সময়কার নীতি-অবস্থানকে তুলোধুনো করে ভাস্কর রায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাফিয়া সম্রাজ্ঞী' হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছেন : "The BNP mother and son duo, Khaleda Zia and Tarek ruled Bangladesh like a Mafia kingdom- unprecedented corruption, extortion, use of terrorists and political assassinations under this cover the Jamat proceeded to- expand its own base, hoping to emerge as the dominant party by 2011-12. The people saw throug them and in the December 2008 election supervised by international observers, they were almost wiped out [Oppossition smearing Bangladesh's Crowning Glory Bhaskar Roy, 02 Nov, 2010; http://www.southasiaanalysis.org]
বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান এবং তাঁদের শাসনকাল সম্পর্কে এমন কুৎসিত ও নোংরা মন্তব্য করার কোন অধিকার কোন ভারতীয় নাগরিকের থাকার কথা নয়। এটা দ্বি-পাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং জাতিগত সহাবস্থানের নীতির পরিপন্থী। ভাস্কর রায়রা হয়তো ধরেই নিয়েছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারই বাংলাদেশের সর্বশেষ ও স্থায়ী সরকার। এই পটভূমিতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে লিখেছেন : "Bangladesh Prime Minister SK Hasina and her government have a huge challange on their hand, but to many political cases and distraction, activities by main opposition is blurring the focus on terrorism. If the terrorists and their former and current sponsors survive, there will be no time on scope to address the development by the nation. [প্রাগুক্ত]
বিএনপি ও জামায়াতকে জঙ্গিবাদের রক্ষক ও স্পন্সর হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়া চলছে কার্যতঃ ২০০১ সাল থেকে সরাসরি। ভারতীয় নীলনকশায় পরিচালিত এবং ভারতের মাটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেএমবি'র দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা ও ‘বাংলা ভাই' ইস্যুতে ভারতীয় থিংকট্যাংক ও তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসারী স্থানীয় সুশীল মিডিয়া তথ্যসন্ত্রাস চালিয়ে এ ব্যাপারে একটা ধূম্রজাল তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। এসব মিডিয়ার বানোয়াট, বিকৃত রিপোর্ট ও তথ্যাবলী ব্যবহার করে ভারতের হিরন্ময় কারলেকার বাংলাদেশকে 'Next Afganistan' বানানোর প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিদের ব্যবহার করে সরকার উৎখাত করতে চাইছে বলে ভাস্কর রায় সরাসরি সরকারকে জ্ঞানদান করেছেন। তিনি একইসাথে বিএনপি নেতা-নেত্রী ও জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার মামলাসহ শেখ হাসিনাকে কথিত হত্যা প্রচেষ্টা মামলাগুলো শক্তভাবে পরিচালনায় সরকারকে উপদেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সরকার একদলীয় ফ্যাসীবাদী দুঃশাসনে পরিণত করেছে এবং প্রতিবেশী দেশটির মদদ ও প্ররোচনায় বিএনপি ও ইসলামী শক্তির নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাজনৈতিক অধিকারটুকুও যেখানে হরণ করে নিয়েছে, সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘নাশকতা'র আতংকের কথা বলেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ দমনে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তিনি একদিকে আলেম সমাজের কাছে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ইসলামিক দল, ব্যক্তি, শীর্ষ মাদরাসা এবং খ্যাতনামা ওলামা-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অপবাদ এনে তাঁদের চরিত্র হননসহ তাঁদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেইসাথে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে ইসলামী রীতিনীতি ও চেতনার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাশীল হলেও সরকার দেশ থেকে ইসলাম উৎখাত তথা সেক্যুলার শিক্ষানীতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। ভারতীয় থিংকট্যাংক ভাস্কর বাবুদের বুদ্ধি-পরামর্শের সাথে সরকারের কার্যক্রম যখন হুবহু মিলে যাচ্ছে, তখন সরকারের ওপর দিল্লীর ডিক্টেশনের খড়গ কত ভয়ংকরভাবে চেপে বসেছে, তা বোঝা যায়।
ভাস্কর বাবু বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণের বিচারবোধ ও রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতিও কটাক্ষ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। ভাস্কর বাবু বাংলাদেশী জনগণকে শিখাতে চাইছেন যে, ভারতের প্রতি অনুগত ও সহযোগী থাকাই হচ্ছে বাস্তবতা। একইভাবে আওয়ামী লীগ সরকারও ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকামী সংগ্রামী জনগোষ্ঠীকে জঙ্গি ও পাকিস্তানী ‘অনুচর' হিসেবে চিহ্নিত করে ইন্ডিয়ান ডকট্রিনের পায়রবী করাকে সরকারি পলিসি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে।
ভাস্কর রায় লিখেছেন : "The people of Bangladesh and the Government must asses the impact of the BNP-JEI polieics on the development of the country. Any agreement with India including power purchase of an energy starved Bangladesh is propaganized by the BNP-JEI as a threat to the country's sovereignty. For these two parties, they would rather go down the hole of under development than have anything to do with India. This is a aefflection of Pakistan's policy towards India, though Islamabad has enlisted international financial support against global anti-terrorism war. The Pakistan formula will be disatrows for Bangladesh." [প্রাগুক্ত]
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব জাতীয় সম্পদ রক্ষায় বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দেশপ্রেমিক শক্তি যে অবস্থান নিয়েছে, তা যেকোন সার্বভৌম জাতির নীতি। ভারতের কাছে জাতীয় স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে যে উন্নয়ন, বাংলাদেশের জনগণ তা চায় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পিন্ডির বদলে দিল্লীর আশ্রিত কলোনী হবার কোনা ইস্যু ছিল না। ভারতের মতো প্রমাণিত ও চিহ্নিত আগ্রাসী শক্তিকে ট্রানজিট করিডোর দিয়ে বাংলাদেশ কোনভাবেই তার জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা রক্ষা করতে পারবে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের এই মূল্যায়ন বর্তমান সরকার ভারতের স্বার্থে নাকচ করলেও কোন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল জাতির সাথে গাদ্দারী করে ভারতের সাথে হাত মিলাতে পারে না। এতে যতো ঝুঁকিই থাকনা কেন, বাংলাদেশী জাতি-রাষ্ট্র রক্ষার এ ঝুঁকি অবশ্যই নিতে হবে।
পরিস্থিতির নাজকুতা উপলব্ধি করেই বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় স্বাধীনতা হরণের ব্যাপারে আগ্রাসী ‘শকুনী' শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন জনগণের প্রতি। দিল্লীর ডিক্টেশনে স্বাধীনতা বিকিয়ে দেবার নীল নকশার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গণঅভ্যুত্থানকে বিপদগামী করতে তাই দিল্লীর থিংকট্যাংক তৎপর হয়ে উঠেছে। ট্রানজিট-করিডোরের বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার কঠোর বক্তব্যে উদ্বিগ্ন দিল্লীর থিংকট্যাংক তাই বেগম জিয়ার রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশের আকাশে স্বাধীনতা হরণকারী ‘শকুনীদের' আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেগম জিয়ার এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন ভাস্কর রায়। আর এর জন্য বেগম জিয়ার রাজনীতিকে তিনি পাকিস্তানী রাজনীতির ‘বাই-প্রোডাক্ট' বলেও উপহাস করতে চেয়েছেন। আবার বেগম জিয়ার প্রতি তিনি প্রচন্ড হুকমির ভাষায় ভারতের প্রতি নমনীয় হতে প্ররোচনাও দিয়েছেন। তিনি লিখেছে : ‘Ranting against India, abusing India, projecting India as the "evil kingdom" is not going to help Begum Khaleda Zia. She has to do better. But she is on the path to do worse. She has left no room for the BNP to return to Power."
ভাস্কর রায়ের সরাসরি থ্রেট হচ্ছে, বিএনপি ভারত বিরোধী অবস্থান পরিহার না করলে কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। কিন্তু স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতা ফিরে পাবার দীক্ষা শহীদ জিয়ার রাজনীতিতে নেই। মরহুম শের-এ বাংলা একে ফজলুল হকের সেই বিখ্যাত উক্তিটি আবারও উল্লেখ করতে হয়। অবিভক্ত ভারতে কংগ্রেসের হিন্দু রাজনীতিক ও তাদের মুখপত্র আনন্দবাজার-যুগান্তর গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে শের-এ-বাংলা বলেছিলেন, ‘এ দুটি পত্রিকা যখন আমার বিপক্ষে অবস্থান নিবে, তখন বুঝবে, আমি মুসলিম জাতির পক্ষে আছি। আর যখন ওরা আমার পক্ষে প্রচারে নামবে, তখন বুঝবে, আমি মুসলমানদের স্বার্থের বিপক্ষে রয়েছি।' সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও ভারতের রাজনৈতিক দর্শনের কোন পরিবর্তন হয়নি। ভারতের মিডিয়া ও থিংকট্যাংক উচ্চকণ্ঠে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসাস্তুতি করে উপযাচক হয়ে নানা ডিক্টেশন দিয়ে প্রমাণ করছেন যে, সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছে। আর বেগম খালেদা জিয়া এবং চারদলীয় জোটের সহযোগী দলের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানী অনুচরাবৃত্তির অপবাদ উত্থাপন করে ভারতীয় থিংকট্যাংক কার্যত এ দেশের জনগণকে তাদের শত্রু-মিত্রের পরিচয় দান করে উপকারই করেছেন।
জাতীয় স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে যে উন্নয়ন, বাংলাদেশের জনগণ তা চায় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পিন্ডির বদলে দিল্লীর আশ্রিত কলোনী হবার কোনা ইস্যু ছিল না। ভারতের মতো প্রমাণিত ও চিহ্নিত আগ্রাসী শক্তিকে ট্রানজিট করিডোর দিয়ে বাংলাদেশ কোনভাবেই তার জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা রক্ষা করতে পারবে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের এই মূল্যায়ন বর্তমান সরকার ভারতের স্বার্থে নাকচ করলেও কোন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল জাতির সাথে গাদ্দারী করে ভারতের সাথে হাত মিলাতে পারে না। এতে যতো ঝুঁকিই থাকনা কেন, বাংলাদেশী জাতি-রাষ্ট্র রক্ষার এ ঝুঁকি অবশ্যই নিতে হবে।
পরিস্থিতির নাজকুতা উপলব্ধি করেই বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় স্বাধীনতা হরণের ব্যাপারে আগ্রাসী ‘শকুনী' শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন জনগণের প্রতি। দিল্লীর ডিক্টেশনে স্বাধীনতা বিকিয়ে দেবার নীল নকশার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গণঅভ্যুত্থানকে বিপদগামী করতে তাই দিল্লীর থিংকট্যাংক তৎপর হয়ে উঠেছে। ট্রানজিট-করিডোরের বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার কঠোর বক্তব্যে উদ্বিগ্ন দিল্লীর থিংকট্যাংক তাই বেগম জিয়ার রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশের আকাশে স্বাধীনতা হরণকারী ‘শকুনীদের' আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বেগম জিয়ার এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন ভাস্কর রায়। আর এর জন্য বেগম জিয়ার রাজনীতিকে তিনি পাকিস্তানী রাজনীতির ‘বাই-প্রোডাক্ট' বলেও উপহাস করতে চেয়েছেন। আবার বেগম জিয়ার প্রতি তিনি প্রচন্ড হুকমির ভাষায় ভারতের প্রতি নমনীয় হতে প্ররোচনাও দিয়েছেন। তিনি লিখেছে : ‘Ranting against India, abusing India, projecting India as the "evil kingdom" is not going to help Begum Khaleda Zia. She has to do better. But she is on the path to do worse. She has left no room for the BNP to return to Power."
ভাস্কর রায়ের সরাসরি থ্রেট হচ্ছে, বিএনপি ভারত বিরোধী অবস্থান পরিহার না করলে কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। কিন্তু স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতা ফিরে পাবার দীক্ষা শহীদ জিয়ার রাজনীতিতে নেই। মরহুম শের-এ বাংলা একে ফজলুল হকের সেই বিখ্যাত উক্তিটি আবারও উল্লেখ করতে হয়। অবিভক্ত ভারতে কংগ্রেসের হিন্দু রাজনীতিক ও তাদের মুখপত্র আনন্দবাজার-যুগান্তর গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে শের-এ-বাংলা বলেছিলেন, ‘এ দুটি পত্রিকা যখন আমার বিপক্ষে অবস্থান নিবে, তখন বুঝবে, আমি মুসলিম জাতির পক্ষে আছি। আর যখন ওরা আমার পক্ষে প্রচারে নামবে, তখন বুঝবে, আমি মুসলমানদের স্বার্থের বিপক্ষে রয়েছি।' সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও ভারতের রাজনৈতিক দর্শনের কোন পরিবর্তন হয়নি। ভারতের মিডিয়া ও থিংকট্যাংক উচ্চকণ্ঠে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসাস্তুতি করে উপযাচক হয়ে নানা ডিক্টেশন দিয়ে প্রমাণ করছেন যে, সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছে। আর বেগম খালেদা জিয়া এবং চারদলীয় জোটের সহযোগী দলের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানী অনুচরাবৃত্তির অপবাদ উত্থাপন করে ভারতীয় থিংকট্যাংক কার্যত এ দেশের জনগণকে তাদের শত্রু-মিত্রের পরিচয় দান করে উপকারই করেছেন।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×