যারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দু'বছরের শাসনামল পর্যবেক্ষণ করেছে তারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন যে বাংলাদেশ চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলশ্রুতিতে এক কঠিন সংকটের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। আর বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে, যে দেশ জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ।
সরকার জাতির ইসলামী চরিত্র হরণ করার জন্য যেসমস্ত অসাংবিধানিক ও নির্যাতনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইসলামী রাজনীতিকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার চক্রান্ত ও ইসলামী নাম নিশানাসমূহ পরিবর্তন করে ফেলা। যার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য হল ইসলামী দলসমূহ নিষিদ্ধ করা বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা যা বাংলাদেশের ৩য় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
হাসিনা শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকেনি বরং শীর্ষ বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দকেও গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে। বর্তমান সরকারের এ নির্যাতনের সবচেয়ে বড় শিকার ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও দেশের সেনাবাহিনী। সরকারের এ জুলুম নির্যাতনের উদ্দেশ্য হল দেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠা করা ও ১৯৭২ সালের ইসলাম বিরোধী সংবিধানের পুনঃপ্রবর্তন করা। যে সংবিধান রচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবের আমলে আর যার মূলনীতি ছিল সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। এই ষড়যন্ত্রের যাতে কেউ প্রতিবাদ না করতে পারে এ লক্ষ্যে প্রধান বিরোধীদল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির ওপর চড়াও হয়, তাদের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার, কর্মীদের ওপর নির্যাতন মামলা হামলা পরিচালনা করে। সবশেষে আদলতকে ব্যবহার করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে তার দীর্ঘ কয়েক যুগের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করে।
প্রতিশোধ নেয়া ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই শেখ হাসিনা সরকারের দেশ চালানোর মূলনীতি। তার সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তার বাবা শেখ মুজিব হত্যার অভিযোগে কিছু সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির রায় কার্যকর করে। অতঃপর সংবিধান থেকে ইসলামের নাম নিশানা মুছে ফেলতে উদ্যত হয়। যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ শব্দটি আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে উচ্ছেদ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বিশেষ করে ইসলামী দলগুলোর বিরুদ্ধে চরম দমননীতি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধান ইসলামী দল জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ডজন খানেক শীর্ষ নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন চলছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শেখ হাসিনা ইসলামী দল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে জঙ্গিবাদের আশ্রয়দান ও মদদদানের মিথ্যা অভিযোগে ধ্বংস করে তার পিতার সাথে ইসলামপন্থীদের পুরোনো শত্রুতার প্রতিশোধ নিচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে জঙ্গি মদদদানের অভিযোগে বেশ কিছু ইসলামী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষিত করেছে।
সরকারের হঠকারী আচরণের কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন সংবিধান পরিবর্তনের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে অন্যদিকে তেমন অর্থনৈতিক অব্যবস্থার কারণে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আগ্রাসী প্রতিবেশী ভারতের সাথে আওয়ামী সরকারের অতিরিক্ত মাখামাখি ও দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতকে অন্যায্য সুযোগ সুবিধা দেয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ভারতকে দেয়া অন্যায্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সে দেশের একটি বৃহৎ কোম্পানিকে দেশের সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা প্রদান যারা নাকি বঙ্গপোসাগরে তেল ও গ্যাস খাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
ভারত পাশাপাশি বাংলাদেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ও বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মাধ্যমে তারা দেশের রক্ষণশীল ও ইসলামিক চরিত্র ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। এর পাশাপাশি তারা বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্রে্য সুযোগ নিতে আওয়ামী সরকারের গ্রীন সিগনাল পেয়ে প্রচুর এনজিও খুলে বসেছে। বলা বাহুল্য বিভিন্ন খৃস্টান মিশনারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যপীড়িত এ অঞ্চলে মানুষকে ধর্মান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যখন এ সকল অনৈসলামিক এনজিওগুলো আওয়ামী সরকারি মদদে বিনা বাধায় কাজ করে যাচ্ছে তখন মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো জুলুম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেক মুসলিম ও আরব এনজিওকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের 'আল ইসলাম আল ইয়াউম' পত্রিকায় প্রকাশিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


