somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরান ঢাকার দিনগুলি--- (পর্ব- হীন্দুৎসব ) ।।।

১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তখন লালবাগের হরমোহনশীল স্ট্রীটে একটা মেসে থাকি । একটা সরু গলির মুখে এসে নীচতলায় ছিল আমাদের স্বপ্নের সেই আবাসন । সেই মেসের অনেক মেস মেম্বার-ই এখন ব্যক্তিগত জীবনে অনেক প্রতিষ্ঠিত; অনেকেই এখন লসএন্জেলস বা মেলবোর্নের মত সৌখিন শহরে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। সেই সব কথা আগামী পর্ব গুলোতে লেখা যাবে । ------- -----
আমাদের মেসের পাশেই ছিল হীন্দু মহল্লা -রিসি পাড়া। যে কোন সনাতনী উৎসবে ঐ মহল্লার মন্দিরে বিশাল আয়োজনের ধুম পড়ে যেত ।আমরা মোট ১২/১৪ জন এক সাথে থাকতাম । এর মধ্যে বেশ কয়জন হীন্দু-ও ছিল।আমরা সবাই মিলে মহল্লায় একটা কোচিং সেন্টার চালাতাম । অনেক জনপ্রিয় ছিল সেই কোচিং সেন্টার । তার পাশেই কবি নির্মেলেন্দু গুণ থাকতেন । আমরা প্রায়-ই হুট-হাট করে উনার ঘরে চলে যেতাম বিশেষ করে কোন উৎসবের দিন হলে । মনে আছে একবার জন্মাষ্টমীর দিনে সকালে আমরা কয় বন্ধু উনার ঘরে গিয়ে ফুল সাজিয়ে রেখে এসে ছিলাম । উনি কি যে খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন-- "দ্যাখ ,, এত বড় মহামানবের জন্মদিনে আমাদের মাঝে কি নিদারূন দৈন্যতা অথচ অনেক সাধারণ মানুষের জন্মদিন-ও অনেক ঘটা করে পালন করা হয়। তোরা যে এই দিনটিকে স্বরণ করে এসেছিস তাতে আমি অনেক খুশি।"
এরকম অনেক সনাতনী উৎসবে আমাদের ভীষন আনন্দ হতো । দিনের প্রথম প্রহরে মহল্লার মন্দির ঘুরে আমরা চলে যেতাম ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ।সবাই একযোগে পরিপাটি হয়ে বের হতাম। সাজসজ্জা দেখে বোঝা যেতনা কে হীন্দু আর কে বা মুসলিম অথবা অন্য ধর্মালম্বী । তখন ঢাকেশ্বরী এত ছিম-ছাম ছিলনা । কিন্তু উৎসবে ছিল হৃদয়াবেগ। বিভিন্ন স্থান হতে কীর্তন করার জন্য অনেক বড় বড় শিল্পী আসতেন। কলকাতার শ্যমলীমা দাসীর নাম কীর্তন মানুষের দেহমন ছুয়ে যেত । আমরা সারারাত ধরে সেই কীর্তন দেখতাম আর প্রতিটা বাণী শুনতাম মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতার মত।এখন-ও মনেপড়ে গভীর রাতে কীর্তনের বিচ্ছেদ পর্বে শিল্পী যখন তার যাদুকরী কন্ঠে রাধা হয়ে গাইতেন----
"সখী সে হরী কেমনে বল ??
নাম শুনে যার এত প্রেম জাগে
চোখে আসে এত জল------"
তখন সবার মনে রাধা সম বিরহ যেন উপচে পড়তো । আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল ঐ মহল্লার-ই ছেলে লিংকন।আমি আর ও আর ম্যাচের স্বরুপ দা, রিপন দা সবাই মিলে ঐ রাতেই ঢাকা ভার্সিটির জগন্নাথ হলে যেতাম , সেখানে আমাদের আরেকটা সার্কেল ছিল। জগন্নাথ হলের অনুষ্ঠান-ও অনেক প্রাণবন্ত ছিল । প্রকাশ দা , অখিল দা আরো অনেকে সারারাত ধরে গান গাইতো । হলের পুকুর ঘাটে বাধানো সিড়িতে আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিতাম । কোন কোন সময় ভোর পর্যন্ত চলতো সেই আড্ডা। কত জন যে আসতো তাদের মধ্যে কেউ কেউ আজ ষ্টার [ আশুতোষ সুজন (অভিনেতা), বিপ্লব দা, প্রকাশ দা (ধ্রুপদী শিল্পী ), খোকা ভাই (কবি)], কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন আবার কত মুখ আর মনেই পড়েনা । এক বছর জন্মাষ্টমীর দিনে প্লান করলাম সবাই মিলে বুড়িগঙগায় গোসল করবো যে কথা সেই কাজ । রাত ১ টার দিকে গোসল শেষে আমরা সবাই ভেজা শরীরে ম্যাচে ফিরলাম । আরেকবার ষরসতী পূজার দিন সবাই সারা রাত শাখারী বাজারে রাস্তার উপর গান গেয়ে কাটিয়ে দিয়েছিলাম । একবার দুর্গাপূজায় ঝামেলা হয়ে গেল ।। পূজার ১ দিন পড়েই আমার আই,সি,এম,এ পরীক্ষা ; স্বরুপ দা তখন কোন একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে ট্রেনিং করছে কোন ছুটি নেই, বিকাশ-ও যেন কি নিয়ে ব্যস্ত অর্থাৎ পুজায় কারো বাড়ী যাওয়া হবেনা । বিকাশের মন খারাপ হয়ে গেল কিন্তু স্বরূপ দা বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফেল্রেন।বল্রেন এবারের পূজা হবে আমাদের জীবনের সেরা পূজা । মেসেই সমস্ত আয়োজন হলো।
সবাইকে নিমন্ত্রন করা হলো । চিপা চিপা ৪ রূমে প্রায় ৫০ জনের আগমন। এর মধ্যেও চল্রো গান বাজনা ।মনে পড়ে,,, ৫ কেজি ময়দার লুচি বানাতে গিয়ে বিকাশ কি বিপদেই না পড়েছিল । ওর জানা ছিল না ৫ কেজি ময়দার এত লুচি হয় ।খাসির মাংস কষাতে গিয়ে গেল পুড়ে। শেষে আরিফ ভাই-এর পরামর্শ মোতাবেক আমরা যে সব ছাত্রীদের পড়াতাম তাদের খবর দিয়ে শেষ রক্ষা হয়।তারপর-ও খাসীর মাংস দিয়ে সেই লুচির স্বাদ এখনো সবার মুখে লেগে আছে। কিছুদিন আগে আমার এক ছাত্রী ইতালী থেকে (স্বামী সহ ইতালি থাকে) মেইল করেছে---
'
sir,
Today we eaten luchee with mutton bt cant get that test...
My husbend "protul" said ,, ‍ for getting that teste u comeback teenage..‍
ha ha ha..

------
সময়ের সিড়ি বেয়ে আজ সব কিছু আলাদা । এরকম একটি দিনে আজ আমি অফিসের ঘানি টানছি।লিংকন দেশের বাইরে।মেহেদী আমেরিকায়।স্বরুপ দা গ্রামে এক কলেজে পড়ায়।বিকাশের সাথে যোগাযোগ নেই অনেকদিন। দেবু দা বেচে আছে কিনা তাও জানি না । তবুও মনে উকি দেয় ফিকে হয়ে আসা সেইসব স্মৃতি হঠাৎ কানে বেজে ওঠে শংখধ্বনীর সাথে নষ্ট্রালজিক সেই সুর-------- ----- ---

"গাহ নাম অবিরাম---- ----
কৃষ্ণ নাম,,কৃষ্ণ নাম,কৃষ্ণ নাম,
মহাকাল যে কালের করে প্রণাম ---
যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার--
বসুধা যে নামের যমুনা হলো পার
কৃষ্ণ নাম,কৃষ্ণ নাম,কৃষ্ণ নাম।।।।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৯
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×