ছোট বেলা থেকে আমি খেলা ভক্ত । সেই ১৯৮৮ সালের কথা, আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি । একদিন এক রাতে খেয়াল করি সবার মাঝে সাজ সাজ রব । সে সময় আমাদের মহল্লায় মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি টেলিভিষন ছিল তার মধ্যে আমাদের বাড়ীর পাশেই আমার নানা বাড়ী-তে একটি সাদা কালো টিভি ছিল। তো সবার সাথে উৎসবে মেতে আমিও গেলাম খেলা দেথতে । ভাবছিলাম বুঝি ম্যারাডোনা-কে দেখা যাবে (তখন সবার মুখে মুখে ম্যারাডোনা) । কিন্তু কিছুটা টেলিভিষনের ঝির ঝির করা ছবি দেখে আর কিছুটা মানুষের মুখে শুনে বুঝে নিলাম এটা ম্যারাডোনার খেলা নয় । মনটা-ই খারাপ হয়ে গেল , বিষন্ন মুখে তিতা গলা:ধরনের মত করে খেলা দেখতে লাগলাম । কিন্তু অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই অনুভব করলাম একটি অচেনা দল ছবির মত স্বচ্ছ ফুটবল খেলছে । পরে বুঝেছিলাম এই দলটির নাম ---নেদারল্যান্ড ।।আর ঐ খেলাটি ছিল ইউরো কাপের ফাইনাল খেলা ।তার-ও পরে জেনেছিলাম এই দলটিই ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ সালের ফিফা ওয়াল্ড কাপের ফাইনাল খেলে ছিল। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ দেখতে বসেছিলাম অনেক আশা নিয়ে কিন্তু সেবার হল্যান্ড বেশীদূর যেতে পারিনি। অথচ সেবারই রুড গুলিত , মার্কো ভ্যান বাস্তিন, রাইকার্ডের মত বিশ্বমানের খেলোয়ার ছিল এই দলে। যাহোক ১৯৯৪ সালে অনেক ভালো খেলেছিল আমার এই প্রিয় দলটি । কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্ভাগ্য জনক ভাবে ব্রাজিল তথা রোমারিও-বেবেটোদের সাথে যুদ্ধ করে ২-৩ গোলে পড়াজিত হয়।ওই খেলাই বার্গক্যাম্প একটি দর্শনীয় গোল করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের কাহিনী আরো দু:খ জনক ।ফুটবলের দুই পরাশক্তির একটি আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে পড়াজিত হয় ।।আজো মনে আছে ফিলিপ কোকু পেনাল্টি মিস করেছিলেন (উনি এবার সহ: ম্যানেজার)।সেবার ৪র্থ স্থান অধিকার করেছিল হল্যান্ড। ২০০২-এ আমার দলটি কোয়ালিফাই হয়েছিল না । দু:খে সেবার ঠিকমত খেলাই দেিখিনি আমি । ২০০৬-এর লীগ পর্বে আর্জেন্টিনার সাথে ড্র করে ২য় পর্বে গিয়ে পর্তুগালের কাছে ১-০ -তে হেরে বিদায় নেয় আমার স্স্বপ্নের এই প্রিয় দলটি ।দেখাযাক এবার কি হয় ???????????????
---- টোটাল ফুটবলের জনক , যাদুকরী, ছন্দময়ী ফুটবলের পুজারী এই দলটি এবার ভালো করবে এটা আমাদের প্রাণের প্রত্যাশা ।।।
বিশ্বকাপ ফুটবল : আমি কেন নেদারল্যান্ডস-কে সাপোর্ট করি ।।।।।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২০টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।