somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরান ঢাকার দিনগুলি (পর্ব-মাহে রমজান-১ )

১৪ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ বিকালের আলো তখনো লালবাগের কেল্লা থেকে পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি কিন্তু কেল্লার মসজিদ জুড়ে নানা বয়সী মানুষের ঢল। কারণ:- আজ মাগরীব থেকেই মাহে রমজান শুরু হবে । শুধু কেল্লার মসজিদ-ই নয় শেখ সাহেব বাজার খান মো: মসজিদ, ভাট মসজিদ, পোস্তা শাহী মসজিদ, চক বাজার জামে মসজিদ , জে, এন সাহা রোড এসি মসজিদ সহ সমস্ত মসজিদেই আজ রমজানের আয়োজন । বাহারী রং-এর পান্জাবী, ফতুয়া, আরখাল্লা আর হরেক রকমের সুগণ্ধিতে মসজিদ চত্বর বিশেষ রুপ ধারণ করেছে। মসজিদ গুলোর সামনে টুপি-আতরের দোকান গুলো যেন পবিত্রতার শোভা বর্ধনকারী।
মাগরীবের নামাজ শেষ হলেই সবার মাঝে প্রস্তুতি শুরু হবে তারাবীহ নামাজ পড়ার । পুরান ঢাকার হোটেল গুলোতে-ও সাজ সাজ রব । হোটেলের কর্মচারী ও কারীগর যারা এতদিন ময়লা জামা কাপড় পড়ে থাকতো আজ তাদের গায়ে পরিচ্ছন্ন পান্জাবী এবং টুপি । আগামী কালের ইফতারীর প্রস্তুতী চলছে এখন থেকেই । অন্দর মহলেও চলে নানা আয়োজন। মহিলা ও মেয়েরা ফ্লাস্ক ভরে চা করে রাখে যাতে ইবাদতের সময় ঘুম না আসে । মাঝে মাঝে এসব চা খান মো: মসজিদ পযন্ত চলে আসে। মসজিদের বারাণ্দায় বড় বড় ফ্লাস্কে চা রাখা হয় , মুসল্লি গণ এসব চা পান করে তৃপ্ত হন। মাহে রমজানের প্রখম রাত নেমে আসে পুরান ঢাকায় উৎসবের আমেজে আর নানা রকম তরকারী রান্না করার সু গন্ধে । এক সময় সেহরী খাবার সময় হয়। মহল্লায় মহল্লায় উর্দূ মাখা দরাজ কন্ঠের হাক শোনা যায় ----" ওহে মুসাফির ; উঠো -জাগো সেহরী খীলাও সাড়ে তিনটা বাজগয়া""
--সেহরীতেও কিন্তু পুরান ঢাকাবাসী শাহী খাবার খেতেই পছন্দ করে । ঢাকার গতানুগতিক নাগরিকদের মত এরা অতটা স্বাস্খ সচেতন নয়। আমি এদের সাখে অনেকদিন সেহরী খেয়েছি আর তাতে করে আমার কাছে মনে হয়েছে এদের পাকস্থলি বোধ করি সৃষ্টিকর্তা একটু আলাদা করেই তৈরী করেছেন। সেহরীর সময় পুরান ঢাকার রাস্তায় বের হলে মনে হবে যেন দিনের বেলা। প্রায় সকল দোকান খোলা বরং যে সকল চায়ের দোকান এতদিন মরা হয়ে ছিল মাহে রমজানের আগমনে এখন সেগুলো জম-জমাট। পোস্তার মোড়. শেথ সাহেব বাজার, উর্দু রোড, কেল্লার মোড়, চৌরাস্তা, নবাব গন্জ সর্বত্র মাহে রমজানের আমেজে সেহরীর সময় জনবহুল রুপ ধারণ করে। অনেকেই শেষ বারের মত চা বা কফির মগে শেষ চুমুক টুকু দিতে এসব স্থানে এসে জড় হয়।
----------- (চলবে ---আগামী পর্বে থাকছে --পুরান ঢাকার ইফতারী )
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:০৯
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×