মাগরীবের নামাজ শেষ হলেই সবার মাঝে প্রস্তুতি শুরু হবে তারাবীহ নামাজ পড়ার । পুরান ঢাকার হোটেল গুলোতে-ও সাজ সাজ রব । হোটেলের কর্মচারী ও কারীগর যারা এতদিন ময়লা জামা কাপড় পড়ে থাকতো আজ তাদের গায়ে পরিচ্ছন্ন পান্জাবী এবং টুপি । আগামী কালের ইফতারীর প্রস্তুতী চলছে এখন থেকেই । অন্দর মহলেও চলে নানা আয়োজন। মহিলা ও মেয়েরা ফ্লাস্ক ভরে চা করে রাখে যাতে ইবাদতের সময় ঘুম না আসে । মাঝে মাঝে এসব চা খান মো: মসজিদ পযন্ত চলে আসে। মসজিদের বারাণ্দায় বড় বড় ফ্লাস্কে চা রাখা হয় , মুসল্লি গণ এসব চা পান করে তৃপ্ত হন। মাহে রমজানের প্রখম রাত নেমে আসে পুরান ঢাকায় উৎসবের আমেজে আর নানা রকম তরকারী রান্না করার সু গন্ধে । এক সময় সেহরী খাবার সময় হয়। মহল্লায় মহল্লায় উর্দূ মাখা দরাজ কন্ঠের হাক শোনা যায় ----" ওহে মুসাফির ; উঠো -জাগো সেহরী খীলাও সাড়ে তিনটা বাজগয়া""
--সেহরীতেও কিন্তু পুরান ঢাকাবাসী শাহী খাবার খেতেই পছন্দ করে । ঢাকার গতানুগতিক নাগরিকদের মত এরা অতটা স্বাস্খ সচেতন নয়। আমি এদের সাখে অনেকদিন সেহরী খেয়েছি আর তাতে করে আমার কাছে মনে হয়েছে এদের পাকস্থলি বোধ করি সৃষ্টিকর্তা একটু আলাদা করেই তৈরী করেছেন। সেহরীর সময় পুরান ঢাকার রাস্তায় বের হলে মনে হবে যেন দিনের বেলা। প্রায় সকল দোকান খোলা বরং যে সকল চায়ের দোকান এতদিন মরা হয়ে ছিল মাহে রমজানের আগমনে এখন সেগুলো জম-জমাট। পোস্তার মোড়. শেথ সাহেব বাজার, উর্দু রোড, কেল্লার মোড়, চৌরাস্তা, নবাব গন্জ সর্বত্র মাহে রমজানের আমেজে সেহরীর সময় জনবহুল রুপ ধারণ করে। অনেকেই শেষ বারের মত চা বা কফির মগে শেষ চুমুক টুকু দিতে এসব স্থানে এসে জড় হয়।
----------- (চলবে ---আগামী পর্বে থাকছে --পুরান ঢাকার ইফতারী )
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


