somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানকু ও তার বন্ধুরা

১৫ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অলঙ্করণ : রকি
প্রকাশ : যায় যায় দিন কিডস, ১৫ আগস্ট ২০০৭

গত পাচদিন হলো মানকুর কোনো খোজ নেই। স্কুলের আশপাশে ওর ছায়া পর্যন্ত পড়েনি। অথচ অন্যরা সবাই মিলে স্কুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। হেড স্যার বলেছেন, সবাই মিলে কোনো কাজ করলে কোনো কাজই ছোট না। ইবু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে দল নেতা হয়ে। কারণ সে ফার্স্ট বয় ও ক্লাস ক্যাপ্টেন।
বন্যাতে স্কুলে পানি উঠেছিল। স্কুলের ছাদে আশ্রয় নিয়েছিল এলাকার বন্যার্তরা। স্কুল খোলার পর ক্লাস নেয়ার মতো অবস্থা ছিল না। তাই সবার দায়িত্ব বেড়েছে। ছাত্র- শিক্ষক-কর্মচারী সবাই মিলে নেমে পড়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। এমনিতেই বন্যাতে অনেকদিন ক্লাস হয়নি। তাই যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল পরিষ্কার করা দরকার। কিন্তু ইবু দেখতে পেল, ক্লাসের সব ছাত্র থাকলেও মানকুর কোনো খোজ নেই। ও কাজের ভয়ে পালিয়েছে। ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। কুদজাত স্যারকে বিচার দিতে হবে। ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে তার একটা দায়িত্ব আছে।
ইবু অবশ্য অনেক আগে থেকেই মানকুকে দেখতে পারে না। গতবার রেজাল্ট বের হওয়ার পর সে জাম গাছের নিচে বসে ছিল। ইবু এগিয়ে গিয়ে বললো, দেখলি তো এবারও তুই প্রথম হতে পারলি না! আমিই প্রথম হলাম।
মানকু ওর কথায় হেসে বলে, তুই প্রথম হইছস, আমি খুশি। আমার রোল দুই হইছে তাতে আমার কোনো দুখ নাই। আমরা দুই নম্বর মানুষ।
মানকুর উত্তর শুনে খুব রাগ উঠেছিল ইবুর। রোল দুই তার সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারে না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া ফার্স্ট বয় হয়ে কোনো মজা আছে নাকি? তাছাড়া ও প্রায়ই স্কুলে ময়লা জামা গায়ে দিয়ে আসে। একদিন শার্টের হাতায় হলুদের দাগ লাগিয়ে এলো। কি হাস্যকর! এখন আবার কাজের ভয়ে পালিয়েছে। কোনো মানে হয়?
ইবু মানকুর ব্যাপারটা নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে। শাকিল বললো, ঠিক বলেছিস, ওই ব্যাটা আমাদের এড়িয়ে চলে। ব্যাটা পেয়েছে কি?
সোহাগ বললো, চল, ব্যাটাকে বাড়ি গিয়ে ধরে আনি।
কিন্তু ওর বাড়ি কোথায়?Ñ ইবু বললো।
হিরণ বললো, আমি চিনি। বাশের পুলের ওপাড়ে থাকে।
সোহাগ বললো, কিন্তু বন্যায় তো পুল ভেঙে গেছে। বাশের পুল তো পানির চাপ সহ্য করতে পারেনি।
সবাই স্কুল ছুটির পর পুলের কাছে পৌছাল। বাশের পুলটা নেই। কলাগাছের ভেলায় এলাকার মানুষ পার হচ্ছে। একবার পার হতে দুই টাকা লাগে। সবাই মিলে সেই ভেলাতেই পার হলো। ইবু বললো, কলাগাছের ভেলায় চড়তে তো খুব মজা!
হিরণ বললো, মজা না ছাই। উল্টে গেলেই বুঝবি। পচা পানিতে গা ভিজবে। গায়ে চুলকানি হবে।
কলাগাছের ভেলাটা অবশ্য উল্টে যায়নি। মানকুদের বাড়িও খুজে পাওয়া গেল না। তবে দূরে একটা বকন গাছের নিচে তাকে পাওয়া গেল। হেলান দিয়ে বসে আছে সে। সবাইকে একসঙ্গে দেখে বললো, তোরা?
ক্লাসের দুই রোল তোর। অথচ কাজের ভয়ে পালিয়েছিস?Ñ বললো ইবু।
না বন্ধু, পালাইনি। কিন্তু আমি কি পরে স্কুলে যামু। বাশের পুলটাও ভেঙেছে। দুই টেকা লাগে পার হতে।
মানে?Ñ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে রবিন।
ঘর বানে ভাইস্যা গেছে। ফসল নাই। এখন আমরা কি খাই, কোথায় থাকি?
মানকুর বন্ধুরা চুপ করে থাকে। ইবু এগিয়ে এসে বললো, তোর বই-খাতা?
বই খাতা নাই। বানের পানির টানে ভাইস্যা গেছে। আমার মনে হয় আর পড়াশোনা হবে না। তোরা প্রাইভেট পড়িস, নোটবই পড়িস, আমি ওগুলো জন্মেও দেখিনি। রাতে ঘরে কেরোসিন না থাকলে কুপি জলত না। শেষরাতে উঠে পড়তাম। এখন তাও হইবো না। Ñবলতে বলতে কেদে ওঠে সে।
ইবু ওর কাধে হাত রেখে বললো, কেন হবে না? আমরা আছি না! তুই আর দুই নাম্বার মানুষ থাকবি না। স্কুলের সবাই মিলে আমরা একটা ব্যবস্থা করবোই। বন্ধুর জন্য আমরা এতোটুকুই যদি না করতে পারি তাহলে আমরা কিসের বন্ধু?
সবাই একবাক্যে হ্যা বলে উঠলো।
রবিন বললো, শফিকের বাবা বাজার কমিটির চেয়ারম্যান। তাকে বলে তোদের জন্য একটা বাড়ি ঠিক করার ব্যবস্থা করবো।
মাহফুজ বললো, স্কুলেরও তো একটা ফান্ড আছে। হেড স্যারকে বললে নিশ্চয়ই ওখান থেকে সাহায্য করবেন।
কাল স্কুলে গিয়ে ঘোষণা দেবো, যেন সবাই একদিনের টিফিনের পয়সা মানকুর জন্য দেয়।Ñ ইবু বললো।
রবিন বললো, আমরা সবাই এগিয়ে আসবো। আমরা ছোট বলে পিছিয়ে থাকবো কেন? ছোট-বড় সবারই দায়িত্ব সমান।
সবাই মাথা দুলিয়ে হ্যা বললো। মানকু এগিয়ে এসে বন্ধুদের জড়িয়ে ধরলো। মেঘের আড়াল থেকে সূর্যমামা বেরিয়ে এলো। হলুদ রোদে ওদের শরীর উজ্জ্বল হচ্ছে। একঝাক সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে নীল আকাশে...।



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×