বাসার ঠিক ৫০ গজ সামনেই ওরা বসে থাকে। ওরা মানে বখাটে রফিক আর তার সাঙ্গপাঙ্গ। রাস্তায় তিনি হেঁটে গেলেই ‘শিস’ মারে। আজও বসে আছে।
তমিজ সাহেব নীলুকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এমন সময় রফিক তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দাঁড়াল। বলল, ‘স্যার, একটু আলাপ ছিল’।
‘আমাকে বলেন।’Ñ উত্তরটা দিল নীলু। তমিজ সাহেব চুপ করে রইলেন।
রফিক বলল, ‘এই পুচকে মেয়ে। তুমি কী কনবা?’
‘আমি মোটেও পুচকে মেয়ে না। কাস ফাইভে পড়ি। আমার রোল এক।’
একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে রফিক বলল, ‘এক রোল হলে কী করতে হয়?’
‘যাদের রোল এক তাদের অনেক বুদ্ধি। নীলুরও এক রোল, ওর অনেক বুদ্ধি।’ তমিজ সাহেব বললেন।
‘তাই নাকি। তাহলে একটা বুদ্ধির খেলা হয়ে যাক।’
‘বুদ্ধির খেলায় আমি জিতলে কী হবে।’Ñ নীলু বলল।
‘তুমি যা চাইবা তাই পাইবা।’
‘তাহলে বলেন, বুদ্ধির খেলাটা কী?’
‘আমি তোমাকে একখান প্রশ্ন জিগামু। তুমি বুদ্ধি কইরা ১০ সেকেন্ডের মইধ্যে উত্তর দিবা। না পারলে হারছ।’
‘আচ্ছা বলেন।’
‘মনে কর তোমার বাবার কোনো ভাইবোন নাই। এখন তোমার দাদা আর তার ছেলে এই দুইজন এবং তুমি আর তোমার বাবা এই দুইজন, মোট কজন হইলা?’
‘তিনজন।’
উত্তর শুনে রফিক চুপ করে রইল। নীলু বলল, ‘এবার আমার পালা।’
‘ঠিক আছে কও।’
‘মনে করেন আপনার বাড়ির সামনে ১০টা আম গাছ আছে। সেই ১০টা গাছে ১০টা করে ডাল আছে। ১০টা ডালে ১০টা করে ছোট ডাল আছে। সেই ১০টা করে ছোট ডালে মোট ১০টা করে জাম ধরেছে। তাহলে মোট কতটা জাম ধরেছে?’
‘দেখ এইটা গুণ করতে হইব। ক্যালকুলেটর লাগব। এতবড় গুণ অঙ্কের মাস্টারও পারব না।’
‘ঠিকই পারবে। আপনার মতো বোকারাই পারে না।’
‘ক্যামনে?’
‘উত্তরটা খুব সহজ। কারণ আম গাছে জাম ধরে না।’
রফিক মাথা চুলকাতে লাগল। নীলুর বাবা হাসছে। নীলু বলল, ‘এখন আমি যা বলব আপনাকে তা মানতে হবে।’
‘আইচ্ছা বইন, যা কইবা মানুম। সত্যিই তুমি বুদ্ধিমান। রোল এক। তুমি আরো বেশি কইরা পড়বা। তোমার মতো আমার একখান বইন থাকলে ভালো হইত।’
‘আপনে আমারে বুদ্ধিমান বলছেন। এটা ঠিক না। মেয়েরা হয় বুদ্ধিমতী। বুদ্ধিমান হয় ছেলেরা। যেমন আপনে।’
‘আমি বুদ্ধিমান।’
‘হ্যাঁ, কিন্তু আপনে বাজে কাজে বুদ্ধি নষ্ট করেন। এখন থেকে আপনে আর পাড়ার মোড়ে বসে থাকবেন না। আর শুদ্ধ ভাষায় কথা বলবেন। এটাই আমি চাই।’
‘ঠিক আছে, তুমি যা চাও তাই হইব। কিন্তু এখন তো আর পড়াশুনার বয়স নাই।’
‘কে বলছে নাই? উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে কোন বিষয়ে পড়া যায়। একদিন বাসায় আসো সব নিয়ম কানুন শিখায়ে দিব।’
‘ঠিক আছে আসব চাচা।’
নীলু তার হাত বাড়িয়ে বলল, ‘তাইলে আমার হাত ধরেন। আজ এই ছোট বোনের বাসায় আপনাদের দাওয়াত।’
রফিক আর তার বন্ধুরা হৈ হৈ কওে উঠল। এরপর থেকে তারা আর রাস্তার পাশে আড্ডা দিত না। কাউকে দেখে শিস দিত না। তারা সবাই হয়ে গেল নীলুর বড় ভাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

