somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেনে নেই আলঝেইমারস রোগ

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলঝেইমারস রোগ কী : ১৯০৬ সালে জার্মানির নিউরোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. এলোইস আলঝেইমারস সর্বপ্রথম এ রোগের বর্ণনা দেন। পরে তারই নাম অনুসারে রোগটির নামকরণ হয় আলঝেইমারস রোগ। আলঝেইমারস রোগ হলো একটি মারাত্মক দীর্ঘস্থায়ী ও নিঃশব্দ ঘাতক রোগ, যার ল্যস্থল হলো মস্তিষ্ক। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্রমশ স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। রোগীর অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। এমন একটা সময় আসে যখন এই রোগীরা তাদের প্রতিদিনের কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। আলঝেইমারস হচ্ছে ডিমেনসিয়া হওয়ার প্রধান কারণ। আবার অন্যান্য অসুখের জন্য ডিমেনসিয়া হতে পারে। বর্তমান পৃথিবীতে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ এ রোগে ভুগছেন। ২০২০ সালে এ রোগের রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ এবং ২০৪০ সালে এই রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ কোটি ৪০ লাখ এবং প্রতি ৭ সেকেন্ডে একজন করে নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
আলঝেইমারস রোগের কারণ : আলঝেইমারস রোগের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। এটা কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয়। কিছু কিছু ফ্যাক্টর এ রোগের েেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়সই এ রোগের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও আলঝেইমারস রোগ হতে পারে। সাধারণত ৬৫ বছরের নিচে ১ হাজার জনের মধ্যে ১ জন এবং ৬৫ বছরের ওপর শতকরা ৫ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়। ৮০ বছরের ওপর ৫ জনের মধ্যে ১ জনের এ রোগটি হয়। কখনো কখনো ৪০-৪৫ বছরের মানুষেরও রোগটি হতে পারে। তা ছাড়া বংশগত ফ্যাক্টর আলঝেইমারস রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
আলঝেইমারস রোগের লণ : আলঝেইমারস রোগের প্রধান লণগুলো হলো : স্মৃৃতিশক্তি লোপ : স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে লোপ পায়, যা স্বাভাবিক কর্মমতার ব্যাঘাত ঘটায়। যেমনÑ চেনা মানুষের নাম, জায়গার নাম, চেনা মুখ, পরিচিত টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি ভুলে যাওয়া।
প্রতিদিনের কাজের বিভ্রান্তি : প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ করতে গিয়ে করতে না পারা যেমনÑ রান্না, বাতি জ্বালানো, টিভি চালানো ইত্যাদি করতে না পারা।
ভাষাগত সমস্যা : শিশুদের মতো এলোমেলো করে কথা বলা। ফলে কথা অনেক সময় বোধগম্য হয় না।
সময় ও স্থান চিহ্নিত করতে অপারগ : সময়জ্ঞান না থাকা। পরিচিত জায়গায় এসেও সে জায়গা চিনতে না পারা।
বিচার বিবেচনার মতা কমে যাওয়া : নিজের অবস্থানে থেকে কী কাজ করতে হবে, তা অনেক সময় বুঝতে না পারা। যেমন কোন অবস্থায় কোন পোশাক পরবে বা রিকশায় উঠে কত ভাড়া দেবে, তা বুঝতে না পারা।
অন্যমনস্ক হওয়া : নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো একটা জিনিস দিয়ে কী কাজ করতে হবে তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না।
জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা : নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র অদ্ভুত সব জায়গায় রেখে তা বেমালুম ভুলে যাওয়া।
মেজাজ ও স্বাভাবিক আচার-আচরণে পরিবর্তন : যখন তখন মন-মেজাজ পরিবর্তন হওয়া।
ব্যক্তিত্ববোধের পরিবর্তন : বয়সের সাথে সাথে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক, তবে আলঝেইমারস রোগে ভুগছে এমন ব্যক্তির েেত্র তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। যেমনÑ অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও সন্দেহপ্রবণতা বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়া। ক্রমেই তার ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলেন।
কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলা : বয়সের সাথে সাথে কান্তিবোধ আসা স্বাভাবিক, তবে এ েেত্র যেকোনো কাজের প্রতিই আকর্ষণ কমে যায়। ক্রমেই ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং কোনো কাজ করার সামর্থ্য তার থাকে না।
বাংলাদেশে আলঝেইমারস রোগের অবস্থান : বাংলাদেশে এজাতীয় রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে যারা বর্তমানে এজাতীয় রোগে ভুগছেন, তাদের বিবরণ নিম্নরূপ :
২০০৫ সালে ডিমেনসিয়ায় ভুগছেন এমন রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার। ২০২০ সালে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার। ২০৪০ সালে এর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৬ লাখ।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মনে করে, এটা বয়স বাড়ার কারণে হয়ে থাকে। তাই রোগীকে অবহেলা করা হয়। অনেক পরিবারে এজাতীয় রোগী থাকলেও পরিবারের লোকজন জানেন না, তাদের প্রিয়জন আলঝেইমারস রোগে ভুগছেন। তাই দেশে এ ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। একই সাথে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে এই রোগটিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার।
আলঝেইমারস রোগের চিকিৎসা : আলঝেইমারস রোগের সুনির্দিষ্ট বা ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। তবে বাজারে কিছু কিছু ওষুধ আছে যা দিয়ে এই রোগের লণগুলো অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু এতে রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। শেষ পর্যায়ে এসে ওষুধ আলঝেইমারস রোগের কোনো উপকারে আসে না। তাই এ রোগের ব্যবস্থাপনা মূলত রোগীর জন্য নিরাপদ, সহায়ক ও সুন্দর পরিবেশ। তবে যখনই রোগ সন্দেহ করা হবে তখনই সম্পূর্ণ মেডিক্যাল ও নিউরোলজিক্যাল পরীা করা আবশ্যক। তাই রোগীর সার্বণিক পরিচর্যাকারীদের রোগীর সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলে রোগটির মোকাবেলা করতে হবে।
আলঝেইমারস রোগীদের পরিচর্যাকারীদের জন্য করণীয় : ১. প্রতিদিনের কাজগুলো সহজ করে দিন। ২. রোগীকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করুন। ৩. রোগী যাতে ব্যথা না পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ৪. দৈনিক ব্যায়াম করতে সহযোগিতা করুন। ৫. সব সময় রোগীর সাথে যোগাযোগ রাখুন। ৬. রোগীর গোসল, পোশাক পরিধান এবং বাথরুম ব্যবহারের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখুন।
এটা হয়তো হতে পারে আপনার কাছে অনেক দীর্ঘ একটা পথ। যখন আপনার কাছের কেউ তার জীবন সায়াহ্নে আলঝেইমারস রোগে ভুগছেন এই বার্ধ্যকে এসে, তিনি হয়তো আপনার ওপর শিশুর মতো নির্ভরশীল। এই দুঃসময়ে রোগীর আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আপনি হয়তো আপনার প্রিয় মানুষটিকে আর আগের অবস্থায় পাবেন না। কিন্তু আপনার সেবা হয়তো তাকে দেবে বেঁচে থাকার কিছু সুন্দর মুহূর্ত।
এবারের আলঝেইমারস দিবস উপলে প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ঘড় ঞরসব ঞড় খড়ংব! অর্থাৎ, ‘আর কালপেণ নয়।’ আসুন আলঝেইমারস রোগীদের পাশে এসে দাঁড়াই। প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আলঝেইমারস দিবস উদযাপন করি। আলঝেইমারস রোগীদের সেবা দিয়ে তাদের জীবনের গুণগত মান উন্নত করি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×