বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন,একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম,রাজনীতি,আইন,ব্যবসা-বণিজ্য কিংবা খেলাধুলা সব জায়গাতেই আমাদের নারীরা রেখেছেন বিজয়ের ছাপ। ভয়কে করেছেন জয়। দেখিয়েছেন সাহসিকতা।এনেছেন নতুন দিন। বলা যায় সর্বত্রই এখন নারীদের পদচারণা। আর এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই ছলছে। এক সময় আমরা যেখানে নারীদের কথা ভাবতেও পারতাম না , আজ তারাই সেখানে সফলতার সাথে বিচরণ করছে। তেমনই একটি ক্ষেত্র সাংবাদিকতা। যেখানে সব সময় নিজেকে উপস্থাপন করতে হয় সাহসি পদক্ষেপে। মুন্নি সাহা কিংবা শাহানাজ মন্নিদের মতো এমন অনেক নারী সাংবাদিকদের সাহসিকতা ইতোমধ্যেই আমরা কম বেশি সবাই দেখেছি বা দেখছি। সামনে তাদের মতো আরো অনেকেই আসছে আমাদের সামনে। এখন তারা প্রশিক্ষন নিচ্ছেন জাতীয় গনমাধ্যম ইনস্টিটিউটে। টিভি নিউজ রিপোটিং বিষয়ে এবার জাতীয় গনমাধ্যম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষন নিচ্ছেন মোট ১৬ জন প্রশিক্ষনার্থী। তার মধ্যে ৯ জনই নারী। সারা দেশ থেকে আসা ২৬৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে লিখিত এবং মৌখিক পরিক্ষায় এই ১৬ জন টিভি নিউজ রিপোটিং বিষয়ে মাসব্যাপী প্রশিক্ষনের জন্য নির্বাচিত হোন। নির্বাচিত আগামী দিনের এই ৯ কণ্ঠশ্বর হলেন- ফরিদা বক্তেয়ার,সৈয়দা শাহান আরা শহীদ জয়া,এস এম নার্গিস পারভীন,আছফিয়া আক্তার জাহান,আশরাফুন নাহার,শাহানা চৌধুরী,আনজুমান আরা,মিসেস ফারহানা নাজনীন এবং বানী সরকার। গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষন চলবে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। মাত্র এক জন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত ছাড়া নির্বাচিত এই প্রশিক্ষনার্থীরা ঢাকা,চট্রগাম,রাজশাহী,জাহাঙ্গীর নগর,খুলনা,জগন্নাথ,ময়মনসিংহ কৃষিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পড়াশোনা শেষ করেছেন। খাতা কলম এবং কারিগরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষনার্থীদের টিভি নিউজ রিপোটিং বিষয়ে বিভিন্ন কলা কৌশল সম্পর্কে মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষনে পাঠদান করছেন দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। জাতীয় গনমাধ্যম ইনস্টিটিউটের টিভি নিউজ রিপোটিংয়ের পাঠ্যধারার পরিচালক মঈনুর রহমান মোল্লা বলেন,আমাদের দেশের নারীরা এখন সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে,তাই সাংবাদিকতা পেশাকেও তারা এখন বেছে নিচ্ছে সাহসিকতার সাথে,তারই প্রমান আমাদের এই পাঠ্যধারা। ফৌজদার মো.শরিফুল বারী(টুটুল) এই পাঠ্যধারার একজন প্রশিক্ষনার্থী। তিনি বলেন,আমাদের এই প্রশিক্ষনে নারীদের সংখ্যা বেশি প্রমাণ করে তারা আমাদের চইতে এগিয়ে এবং সমানতালে তারা সফলও হচ্ছেন,অবশ্য এখন আর আমরা ভাবতে চাইনা নারী পুরুষ ভেদাবেদ,বরং এটাই সবার ভাবা উচিৎ সবাই মানুষ। পাঠ্যধারার প্রশিক্ষনার্থী শাহানা চৌধুরী বলেন,ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিলো সাংবাদিকতা করবো,তাই এই প্রশিক্ষনে অংশ নেওয়া,আর এখনতো রীতিমতো মেয়েদের যুগ,তাছাড়া গনমাধ্যম সংস্থা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি, সুবিধাও ভালো। আছফিয়া আক্তার জাহান বলেন,সম্মানজনক পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা আমার খুব পছন্দের,আর এ কাজে নিজের সৃজনশীলতা যেমন ফুটিয়ে তোলা যায় তেমনি দেশের জন্যও অনেক কিছু করার থাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

