somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প_ কবর

০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইত্তেফাক (০২-০১-২০০৯)
সুলতান কোদাল দিয়ে একটা কোপ বসাল মাটিতে। মাটির ভিতরে কোদালরে মাথাটা ঢুকে গলে সহজই। কিন্তু মাটি কী সত্যিই নরম? নাকি এ মাটিতেই মিশে যাবে অনকে গল্প, অনেক কান্নার জল।

প্রথম কোপ দেয়ার পরই সুলতান থামল। গত বত্রিশ বছরে যা হয়নি তাই হলো তার। তার চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছে। ছেড়া গামছা দিয়ে চোখ মুছল সুলতান। তার বয়স এখন চল্লিশ। সেই আট বছর বয়সে প্রথম কবর খুঁড়েছিল সে। কবরটা ছিল তার বড় কাকার। সেদিন ফজল চাচার সাথে কবরটা খুঁড়েছিল। সে কী ভয় তার! বারবার গা শরি শরর্ িকর উঠছলে। অপাথবিি এক ভয়। এ ভয়রে সাথে পৃথবীরি কোন ভয়রে কোন মলি নই।ে

বড় কাকার কবর খুঁড়তে খুঁড়তে গভীর রাত হয়ে যায়। কুপরি আলোয় কবরটায় অভূত অন্ধকার হয়ে ছল।ি অথচ এখানইে শুয়ে থাকবে একটা মানুষ। আর কখনো ফরিে আসবে না। ভাবলইে মন ভারী হয়ে যায়। অথচ এটাই সত্য।ি এটাই চরন্তনি নয়ম।ি

সুলতানরে মা-বাবা ছলি না। জন্মরে পরই মারা যায় তারা। তারা দখতেে কমনে ছলি সুলতান তা জানে না। তাদরে কোন স্মৃতওি নই।ে

এতমি সুলতানকে মানুষ করে বড়কাকা। সুলতানকে কখনো বাপরে অভাব বুঝতে দনন।েি সম্ভবত এ কারণে মায়রে কথা অনকে মনে পড়লওে বাপরে কথা মনে পড়ত কম। সইে কাকাও হঠাৎ করে মারা গল।ে

আট বছররে সুলতান কবর খাঁড়োর সময় হাউমাউ করে কঁদছল।েেি একটা অভূত শূন্যতায় ভরে গয়ছলিিে তার মন। জীবনরে এক সুক্ষ¦ ভালোবাসা হারয়িে ফলেে স।ে তারপর বত্রশি বছর পার হয়ছ।েে কোদাল হাতে সুলতান কবর খুঁড়ে বড়য়ছেেিে এ গ্রাম সে গ্রাম।ে রাত হলে বলগাঁও গোরস্থানে শুয়ে থাকত। রোজই একটা-দুইটা কবর খুঁড়তে হতো। লাশ আসত। সাথে আসত একদল মানুষ। তারা অঝোরে কাঁদত। এসব কান্না সুলতানকে ছুঁয়ে যতে না।

সুলতান মানুষরে হৃদয়রে কান্না দখছ।েেে দখছেেে থরথর হাতে কোনো বাবার ছলরেে লাশ কবরে নামানোর দৃশ্য অথবা মায়রে কবররে সামনে দাঁড়য়িে নীরবে কাঁদছে ছল।েে

মানুষরে কোন কান্নাটা আত্মার, কোন কান্নাটা সবচয়েে বশেি শুদ্ধ তা সুলতান জানে না। কন্তুি সে বুঝতে পারে চোখরে ভাষা দখ।েে মাঝে মাঝে সে যনে মানুষরে প্রকৃত আতœার প্রকৃত র্রূপ দখতেে পায়। সৃর্ষ্টকতা মানিুষক একে পাথবি আবরণে ঢকেে রাখ।ে মানুষ সে ঢাকনা খুলে বরে হতে চায় না। তারপরও বরে হয়ে আস।ে কবররে সামনে তমনিে ঢাকনাহীন মানুষ দখছেেে সুলতান। দখছেেে মানুষরে আত্মা গলে যাওয়ার দৃশ্য। এ এক অনুভূত,ি কখনো কাউকে বোঝানো যায় না।

কত শত মানুষরে কবর যে সে এ জীবনে খুঁড়ছেে তা সে নজওেি জানে না। তারপরও প্রতটাি মৃত্যুরই যনে আলাদা গন্ধ আছ।ে আলাদা একটা রূপ আছ।ে

কবর খাঁড়োটা সহজ কোনো কাজ নয়। বশে কষ্টসাধ্য। সাড়ে তনি হাত মাটি খুঁড়তে হব।ে সুন্দর করে চারকোণা বানাতে হব।ে মৃত মানুষটার আকার-আকৃতরি ওপর ছোট-বড় হয়। তার সাথে সুন্দর করে কাটতে হবে বাঁশ। লাগবে চাটাই। পাশরে মাটগুলোি আলগা করে রাখতে হব।ে সুলতান দক্ষ হাতে এসব কাজ কর।ে

মানুষরে পাপ-পুণ্যরে হসাবি বোঝার ক্ষমতা তার নই।ে তারপরও কভাবিে যনে সে বুঝতে পারে ভতররেে অজানা রহস্য। কারো কারো কবর চট করে খুঁড়ে ফলেে স।ে আবার কারো কারো কবর খুঁড়তে গয়িে হাঁপয়িে ওঠ।ে এমন কনে হয় সুলতান তা জানে না।

দক্ষণপাড়ায়ি একবার কবর খুঁড়তে গয়িে এমন হয়ছল।েি গভীর রাতে মারা যায় লোকটা। শোনা যায় লোকটা নাকি প্রথম জীবনে ডাকাত ছল।ি কত মানুষকে খুন করছেে তা নজওেি জানত না।

গভীর রাতে বাড়রি পছনেে কবর খুঁড়ছলি সুলতান। সাথে একটা হারকনেির্ আর তন ব্যাটাররি টচি লাইট। হঠাৎ মনে হলো কউে একজন পছনেে দাঁড়য়িে আছ।ে তার ছায়া স্পষ্ট দখতেে পায় স।ে অবশ্য মনরে ভুলও হতে পার্র। সে চটে কর টচে লার্ইটটা বর কর।ে আশ্চযে লাইট জ্বলছে না। সুলতানরে পানি পপাসাি পায়। সে কবররে পাশে বসে পড়।ে

সবই হয়তো মনরে ভুল। অমাবস্যার রাতে নাকি মানুষরে শরীর টান।ে হয়তো এ কারণইে এমন হচ্ছ।ে আর কবর খুঁড়তে গলেে এত ছোট আত্মা হলে চলে না। সাহস থাকতে হয়র্ বুক। জোরে একটো দীঘশ্বাস ফলেে সুলতান কবর খুঁড়।ে তারপরও সে বুঝতে পারে অজানা এক রহস্য। মাটটাি শক্ত হয়ে ছল।ি শরীররে পুরো শক্তি দয়ওেি কবরটা খাঁড়ো যাচ্ছলি না।

সুলতান মারা গলেে কে তার কবর খুঁড়ব?ে তার কবররে মাটওি কি এভাবে শক্ত হয়ে যাব?ে নাকি নরম হয়ে যাবে সহজই।ে কউে কি এমন অদৃশ্য ছায়া দখতেে পাব?ে না কি দখবেে অন্যকছু?ি ঠকি বুঝতে পারে না স।ে

বত্রশি বছর পর সুলতান কাঁদছ।ে তার চোখ বয়েে পানি পড়ছ।ে সে কবরে দ্বতীয়ি কোপ বসাল। একটা মাটরি চাপ তুলে ফললে সহজই।ে মাটটাি নরম। বশে নরম। সুলতান পছনরেে দকিে তাকাল।

দূরে বাড়টাি দখো যাচ্ছ।ে বাড়টারি নাম স্বপ্নঘর। গতকাল রাতে এ বাড়তইেি র্মারা গছেে বাড়র গৃহকত্রীি রোখসানা বগম।ে

মানুষ মারা যায় এটাই স্বাভাবক।ি এ চরন্তনি সত্য কউে বদলে ফলতেে পারবে না। বদলে ফলো সম্ভব না। কন্তুি রোখসানা বগমরেে মৃত্যুটা মনেে নয়ো কঠন।ি সম্ভবত এ কারণইে তনি গ্রামরে মানুষ দখতেে এসছেে তাক।ে

রোখসানা বগমরেে বয়িে হয়ছলিে আজ থকেে চৌদ্দ বছর আগে ডাক্তার জাহদুলি ইসলামরে সাথ।ে বয়রেি পর সুখরে দনি শুরু হয়। ডাক্তার হসবেিে জাহদুলি ইসলামরে নামডাকও ছড়য়িে পড়।ে মানুষরে বপদ-আপদেিে তনিি ছুটে যান। গ্রামইে গড়ে তুলনে রোখসানা মা ও শশুি কনক।িি

চার বছররে মাথায় তারা ঝলরেি ধারে বাড়ি বানায়। বাড়রি নাম দয়ে ‘স্বপ্নঘর’। তাদরে স্বপ্নঘরে বছর না ঘুরতইে রোখসানার কোল জুড়ে আসে জমজ সন্তান। দুটোই ময়।েে ডাক্তার সাহবে বড় ময়রেে নাম রাখনে সূচনা। ছোটটার নাম রাখনে অনন্যা।

দুই ময়েে বড় হতে থাক।ে কন্তুি মনরে কোথায় যনে এক কমতি অনুভব করনে তারা। আমরা যত সভ্যই হই না কন,ে মানুষরে দুটো ধারার মধ্যে চরন্তনি সত্য এক প্রভদে লার্লন কর। মানুষি সৃষ্টকতাকেি ভাব,ে কন্তুি অধকাংশি মানুষ তাকে বুকে ধারণ করে না।

ডাক্তার সাহবরেে বংশ উজ্জ্বল করতে হব।ে ছলেে সন্তান না হলে সমাজরে অদৃশ্য কালো মঘে দূর করা যায় না। ইতহাসরেি পাতায় এমন কান্ত গল্প অনকে আছ।ে

তনি বছর পর ডাক্তার সাহবে আরো এক মর্য়রেে পতা হন।ি সৃষ্টকতারি এমন সদ্ধান্তিে ডাক্তার সাহবরেে বাস্তবকি দৃশ্যগুলো রঙনি হয়র্ না। যর্ আলোতে সৃষ্টকতোরি আশীবাদ খলো কর,ে সে আলো দখোর ক্ষমতা হয়তো তার ছলি না।

বছর না ঘুরতইে রোখসানা বগমে আবারো মা হতে চল।ে এবার প্রতীক্ষার পালা। যে করইে হোক অন্ধকার থকেে এবার পুত্র সন্তান ছনয়েিি আনতে হব।ে আলোকতি করে তুলতে হবে সামাজকি বন্ধন।

প্রতীক্ষার প্রহর শষে হলো। রোখসানা বগমে আবার জমজ সন্তান জন্ম দলন।িে একটা ছল,েে একটা ময়।েের্ কন্তু ভাগ্যির কে নমমিি পরহাস।ি জমজ সন্তানরে মুখ দখো হলো না তার। সন্তানরে মুখে তুলে দয়ো হলো না পৃথবীরি সবচয়েে পবত্রি দুধ। তারও অনকে আগইে তনিি চলে গলন।েে কাউকে কছুি না বলে নীরবে হাঁটলনে অজানার উদ্দশ্য।েে

রাতইে সুলতান খবর পায়। ফজররে নামাজরে পরপরই মরা বাড়তিে এসে পৗঁছোয় স।ে চৎকারি করে কাঁদছে অনাথ শশুগুলো।ি কোদাল হাতে সুলতান শুধু দাঁড়য়িে ছলি বাড়রি আঙ্গনায়।ি এত মানুষরে র্ভড়। এতি মানুষর আতনোদ সবই দখছেে স।ে

মানুষগুলো কাঁদছ।ে সুলতান তাকয়িে আছে তাদরে চোখরে দক।েি এদরে অনকইেে রোখসানা বগমরেে আত্মীয় না,র্ নই কোনেো রক্তর সম্পক।ে তারপরও তারা কাঁদছ।ে তাদরে কান্নায় কোনো কৃত্রমতাি নই।ে

সুলতান কোদাল হাতে বসে বসে তাকয়িে থাকে বাড়টারি দক।েি স্বপ্নঘরে জন্ম নয়ছেিে দুটো শশু।ি তারা জানে না তাদরে মা নই।ে মায়রে বুকরে উষ্ণতা তারা পায়ন।ি পায়নি পৃথবীরি সবচয়েে পবত্রি আদর। তবে কি এই শশুি দুটওি এক সময় অন্ধকার এক জগতে তার মায়রে ছায়া খুঁজব?ে কন্তুি এ শশুদুটরিি জন্য কোন স্মৃতি রখেে গলে তার মা? তাদরে জন্ম দতিে গয়িে নজরেি আত্মত্যাগরে কথা কভাবিে স্বরণ করবে তারা? নাকি দুজোড়া চোখ আজীবন খুঁজে বড়োবে মাকে না দখোর স্মৃত।ি মা বলে ডাকতে না পারার বদনোয় কি কাঁদবে নীল আকাশ?

সুলতান কবর খুঁড়তে শুরু করল। মাটটাি অনকে নরম। ছমছামি একটা কবর তরৈি করে ফললে নমষই।েিি এখানইে চরনদ্রায়িি শুয়ে যাবে একজন মা। শুধু দূরে বড় হতে থাকবে অনাথ শশুগুলো।ি

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×