somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘জটিল প্রেম’ এর সহজ রিভিউ

০২ রা জুন, ২০১৩ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহীন-সুমন; আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ছবির ব্যস্ত পরিচালক জুটি । তাদের অবিষ্কার বাপ্পি ও ‘বেইলি রোড’ দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা আঁচল অভিনীত ছবি ‘জটিল প্রেম’ গত ১৭ মে মুক্তি পেয়েছে সারাদেশের প্রায় ৮০টির মত হলে । সব কয়টি হলে মোটামুটি ভালভাবেই চলছে ছবিটি ।

প্রতাবশালী বাবা ফরহাদ হোসেন (কাজী হায়াত) ও ভাই আজাদ (মিশা সওদাগর) রুমকি (আঁচল) কে জোড় করে বিয়ে দিতে চায় । কিন্তু নানা ফন্দি করেও বাঁচার উপায় খুঁজে না পেয়ে বলে তার ‘জীবন’র সাথে প্রেম আছে । অন্যদিকে বাপ-মা হারা জীবন(বাপ্পি) ভাই-ভাবী(ইলিয়াস কাঞ্চন-চম্পা)-র সংসারে মানুষ । ঘটনাচক্রে তার সাথে রুমকির পরিচয় ঘটে । রুমকি তাকে ভালবাসতে চায় । কিন্তু সে ভাইয়ের কারনে কোন মেয়েকে তার জীবনে আসতে দিতে চায় না । তাদের এই চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মিলাতে আর ছবির আরেক ভিলেন ফরহাদ হোসেনের সাথে সাজ্জাদ খানের (নানা শাহ) দ্বন্দ্ব নিয়ে এগিয়ে চলে ছবির কাহিনী ।

ছবির কাহিনী আহামরি টাইপের কিছু না হলেও গল্পের বর্ণনা মোটামুটি গতিশীল । যার ফলে দর্শকরা বিরক্ত হন নাই । যার প্রমাণ ছিল ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে তাদের হাততালি,শিস বাজানো ও শব্দ করার মাধ্যমে ।

ছবির সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে বাপ্পি তার অভিনয়ের যে জড়তা ছিল অনেকাংশেই কাটিয়ে উঠতে পারছে । যা কিনা তার জন্য খুবই ভাল দিক । দুই-একটা জায়গা ছাড়া তার অভিনয় সপ্রতিভ ছিল । সে ভাল নাচেও । তবে তাকে আরও উন্নতি করতে হবে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়তে হলে ।



ছবির নায়িকা আঁচল ভাল ও সাবলীল অভিনয় করেছেন । নির্মাতারা যদি তাকে সঠিক ব্যবহার করতে পারে তবে সে অনেক দূর যাবে ।



পুরো ছবি জুরে দর্শকদের যিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি আজাদ রূপী মিশা সওদাগর । “কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে সব নষ্ট করে দেয় । আমার মাথায় এখন ভাইরাস ঢুকছে”। এই সংলাপের মাধ্যমে সিগারেট খুঁজার অভিনয় অনবদ্য করেছেন যা দর্শকরা হাততালি দিয়ে অভিন্দন জানিয়েছে ।
ইলিয়াস কাঞ্চন-চম্পা জুটি বহু বছর পরে তারা একসাথে অভিনয় করেছেন । তারা তাদের চরিত্রানুযায়ী ভাল করেছেন ।

দিলদার মরে যাবার পরে আমাদের চলচ্চিত্র ভাল কৌতুকাভিনেতার অভাববোধ করছিল । কেউ খুব একটা সাড়া জাগাতে পারেনি । তবে কাবিলা সে জায়গা কিছুটা হলেও দখল করতে পারছে ইদার্নিং । যথারীতি এই ছবিতে তিনি দর্শকদের মজা দিয়েছেন যথেষ্ট ।

তবে কাজী হায়াত আবারো প্রমাণ করলেন তিনি পরিচালক হিসাবে যতটা দক্ষ অভিনেতা হিসাবে ততটা দক্ষ নন । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মনে হয়েছে উনি কবিতা আবৃত্তি করছেন । উনার চেয়ে শিশুশিল্পী সারিকা অনেক সুন্দর অভিনয় করছে । এইছাড়া ভিলেন চরিত্রে বহুদিন পরে চলচ্চিত্রে ফিরে আসা নানা শাহ ‘সাজ্জাদ খান’ চরিত্রে ভাল অভিনয় করছেন ।

ছবিতে গান আছে আইটেম গান সহ গান আছে মোট ৫টা । এর মাঝে “গোপনে গোপনে”, “জটিল প্রেম” সবচেয়ে ভাল করেছে । ছবির শুরুতে কোন কারন ছাড়া যেমনি আইটেম গানটি আসে তেমনি হঠাৎ করেও গানটি ভাল লাগে না । এইছাড়া “জটিল প্রেম” গানটিতে শুরুতে বাপ্পি কলকাতার দেবকে নকল করেছে যা কিনা দৃষ্টিকটু । যদিও গানটি ভাল লাগছে সবার ।

ছবির কালার কারেকশন, এডিটিং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালছিল দু’একটি জায়গা ছাড়া । ছবির শুরুতেই একটি দৃশ্যে ক্যামেরার কাঁপুনির কারনে পর্দা ঘোলা হয়ে যায় । এইছাড়া “গায়ে হলুদ” গানে রুমকি’র বড় ভাবী হাসপাতাল থেকে ফোন আসার পর দেখানো হয় সে তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে উপরে চলে যায় । কিন্তু পরের দৃশ্যে দেখায় সে গায়ে হলুদের স্টেজে এবং সে তার শ্বশুর ফরহাদ হোসেনের কাছ থেকে সে জানতে পারে তার স্বামীর জ্ঞান ফিরছে । যা কিনা দৃষ্টি এড়ায় না ।

এই ছবির একটা জিনিস না বললে নয়, তা হচ্ছে ওয়াল্টন ও স্ট্রিং এনার্জি ডিঙ্ক্রসের বিজ্ঞাপন ঢুকানো । রীতিমত “স্ট্রিং এনার্জি ডিঙ্ক্রস খাব আর মারব” বলে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন । এবং ছবির নায়ককে ওয়াল্টন হোন্ডায় ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যে দেখানোর সময় ‘ওয়াল্টন’ কে হাইলাইট করা হয়ছিল । যা কিনা আমাদের দেশের ছবির প্রযোজকদের খালি হলের আয় থেকে ছবির খরচ তুলে আনার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে নতুন করে ভাবাবে ।
সর্বোপরি যদি এক কথায় বলা হয় এই ছবি কেমন ? তাহলে বলা যাবে কিছু ছোট খাট ভুল-ত্রুটি বাদ দিলে এই ছবি ভাল বিনোদনে ভরপুর একটি বাণিজ্যিক ছবি । আপনি ছবিটি থেকে হয়ত শিক্ষামূলককিছু নিয়ে যেতে পারবেন না কিন্তু কিছু নির্মল আনন্দ নিয়ে যেতে পারবেন সাথে করে ।
এক নজরে ছবির সকল তথ্যঃ
চলচ্চিত্রের নামঃ জটিল প্রেম
পরিচালকঃ শাহীন সুমন
কাহিনীঃ আব্দুল্লাহ জহির বাবু
শ্রেষ্ঠাংশেঃ বাপ্পি, আঁচল, ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, কাজী হায়াত, মিশা সওদাগর, শিবা শানু, নানা শাহ,সাগর, যাদু আজাদ, সারিকা, মনি, তমা ও আইটেম গার্ল বিপাশা ।
গীতিকারঃ সুদীপ কুমার দীপ
সঙ্গীতায়োজনঃ আহমেদ হুমায়ুন
প্লেব্যাকঃ কুমার বিশ্বজিৎ, কনা, ন্যান্সি, আহমেদ হুমায়ুন, রুমা, মিমি, শাহেদ
প্রযোজনাঃ মিজানুর রহমান
পরিবেশনাঃ পুতুল কথাচিত্র
মুক্তিঃ ১৭ মে ২০১৩
রেটিং: ৩.৭/৫*
*রেটিং বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বিবেচনায় ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৩ রাত ১১:৩৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×