somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগুরুত্বপূর্ণ

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ব্লগে হিট কম হয় অতএব কোনও গুরুত্বপূর্ণ লেখা আর এখানে লিখব না। আজ শুধু আরেকটা কাহিনী বলব।

দুই ব্যাক্তি। মেল এন্ড ফিমেল। একই অফিসে চাকরি করে। দুজনেই সমান পোস্টে তবু একজন পায় অফিসের গাড়ি আর অন্যজন পায় লোকাল বাস। নিশ্চই বুঝে গেছেন! অফিসের গাড়িটা জোটে কার কপালে?

তো লোকাল বাসে যেতে সমস্যা হয় না লোকটির। যেহেতু পুরুষ মানুষ , মানুষের সঙ্গে ঘেষাঘেষি, পা পাড়ানি, চেচামেচি, ধাক্কাধাক্কি, বাদুরঝোলা সবকিছুতেই অভ্যস্ত সে। কিন্তু সেদিন তার পায়ে খুব ব্যাথা পেয়েছে। অফিসে ছুটির আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। বিকল্প কেউ নেই। অতএব পা চেচিয়ে তাকে অফিসে আসতেই হয়।
ভেবেছিল আজ বেশি নড়া চড়া না করেই কাজটা শেষ করবে। কিন্তু বরাবরের মতো আজই তার ঝামেলা যেন আরও দেড়গুন বেড়েছে।
পায়ের দিকে খেয়াল করার সময় তার নেই।
এদিকে প্ল্যান করে রেখেছিল বইমেলায় যাবে, একটু শেষের দিকে। ভিড়পাট্টা আর ভালো লাগে না। লম্বা লাইনও আর সহ্য হয় না। কিন্তু আজ যাই কাল যাই করেও আর সময় বের করা হয়ে ওঠে না। এভাবেতো বাণিজ্যমেলাও শেষ হলো! যাওয়া হলো না। বইমেলায় কি আর যাওয়া হবে না?
লোকটি ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুই ভালো লাগে না তার। এরমধ্যে একটি ফোনে আরও মেজাজ বিগড়ে যায়। যাওয়ার সময় তেল এনে দিয়ে গেছ? দেখবোনে রাতে এস কী খাও!
একটু ম্যানেজ করো না!
মানে? আমি যাবো বাজারে? আমার মানসম্মান!..
বাজারে আজকাল সবাই যায়। আমিতো একটু অসুস্থ!
হু! এরকম অসুস্থতা পুরুষদের থাকেই। ওসব কিছু না। তুমি আসলে চাইছ আমাকে দিয়ে বাজারটাও করাতে। সেটা কিন্তু সম্ভব না। আমি তোমার মতলব বুঝি!
আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। বাজারে তোমার যেতে হবে না। আমি এসে তারপর...
পিওনটা প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইছে। পিওনদেরও আজকাল পোয়াবারো। দ্বিতীয়বার অনুমতি চাওয়ার সময় ওদের নেই। স্যার ডাকছেন। কোন স্যার (আমারতো স্যারের অভাব নাই)ভাবেন লোকটা। ডিইডি স্যার
পা টাকে যতোটা সম্ভব না টেনে গেলেন বসের রুমে। এই বইগুলো কিনে নিয়ে আসতে হবে। আপনিতো অনেক বই পড়েছেন! ভালো বুঝবেন। পা টার কথা ভেবে কান্না পাচ্ছিল, তবু।...

ফেরার পথে কাওরান বাজারের কাছকাছি এসে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ। নানান কসরত করেও গাড়ি চালু হয় না। শেষে সবার সঙ্গে লোকটিও নেমে পড়ে। এখানে গাড়ি থামালে কেস খেতে হয়। সেই ভয়ে বদভ্যাসী লোকালগুলোও থামছে না, কেউ কেউ হালকা থামালে- সুযোগ করে দিলেও তাতে লোকটির ওঠা সম্ভব হচ্ছে না পায়ের ব্যাথা নিয়ে। অগত্যাই হাঁটতে হাঁটতে কাওরান বাজার তারপর ফার্মগেট থেকে গাড়িতে চড়ে বাসায় পৌঁছে আলুভর্তা দিয়ে চারটা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন আবার তাকে দৌড়াতে হবে। অনেক দূর! অনন্তকাল!

নিজের ভাগ্য নিয়ে পরিতাপের শেষ নেই লোকটির। তবু পত্রিকার পাতায় খারাপ খবর দেখলেই কেমন কুণ্ঠিত হন, কষ্ট পান। শুধু রাজনীতিবিদ ছাড়া আর কাউকেই গালি দেন না সে। চ্যানেল এবং পত্রিকাগুলো যেভাবে কিছু মাথামোটা লোককে মিডিয়ার মাইক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে তাতে রাজনীতিকদের দেদার স্বার্থ থাকলেও সাধারণ মানুষের যে কোনও কল্যাণ নেই এই কথাটাই যেন সে কাউকে বোঝাতে পারে না ভালো মতো। কারণ সবাই কোনও না কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের। প্রচণ্ড ক্ষোভ আর ক্ষুধা নিয়ে পত্রিকার পাতা ওল্টায় লোকটি। অনেক খবরের মাঝে একটি খবরে চমকে যান! আরে এই মেয়েটিতো তার সেই কলিগ! কীভাবে মারা গেল? ‌‍‍গাড়ি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে জীবন দিতে হলো...
সংবাদটা পুরোপুরি আগাগোড়া দুইবার পড়ে নিশ্চিত হলেন যে নিশ্চিত জীবন-যাপনের সকল ব্যবস্থা সত্ত্বেও মারা গেল যে মেয়েটি! সে তারই কলিগ! আর অসংখ্য অনিশ্চয়তা নিয়েও বেঁচে রইলেন লোকটি। এটাই কি লীলা স্রষ্টার?....
১৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×