বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষরা কেন পেরে উঠতে পারছে না?

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩২

শেয়ার করুন:                   Facebook

ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের জন্মকালীন রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটি। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল। বর্তমানেও সারা পৃথিবীতে এই মতবাদের জয় জয়কার। পাশ্চাত্য চায় যে কোন মূল্যে বাংলাদেশে ধর্মনিরপক্ষে শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে। এই শক্তির প্রতি ভারতের রয়েছে প্রকাশ্য সমর্থন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শুধু নয়, সারারণ ভারতীয় নাগরিকেরাও তাদের সমর্থনে অনবরত কাজ করে যাচ্ছে, লিখে যাচ্ছে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরাম ও ব্লগে। বাংলাদেশের এলিট শ্রেণীটির মধ্যে এই শক্তির সমর্থন অতি প্রবল। মিডিয়াও তাদের সমর্থক। তারপরও তারা জনসমর্থন পাচ্ছে না। ভোটের রাজনীতিতে বার বার তারা পরাজিত হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? এর উত্তর খুজতে কয়েকটি ঘটনা সাহায্য করতে পারে।

১. ১৬ আগস্ট রাতে আমার ছোট চাচা ফোন করে জানালেন যে, তার ছেলের নামে কেস হয়েছে। পুলিশ তাকে খুজছে। সে পালিয়ে রয়েছে। আমার পুলিশ অফিসার বন্ধুদের মাধ্যমে তার জন্য আমি কিছু করতে পারি কিনা। কি কেস হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বললেন যে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে স্থানীয় কলেজে বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করায় সে এবং ছাত্রলীগের আরও কিছু কর্মী কলেজের মহিলা প্রিন্সিপালকে লাঞ্ছিত করেছে। এ ধরণের আরও ঘটনা ঘটছে যার ফলে সাধারণ মানুষ শুধু যে তাদেরকে অপছন্দ করে তাই নয়, বরং তাদেরকে ভয়ের চোখে দেখে এবং তাদের হাত থেকে বাচতে দলে দলে জাতীয়তাবাদীদেরকে ভোট দেয়।

২. ইন্টারনেট এখোনো বাংলাদেশের শিক্ষিত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তের নাগালে। এই শ্রেণীর তরুনদের মধ্যে ব্লগিংএর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ব্লগগুলোর শীর্ষে রয়েছে সামহোয়ার। সামহোয়ারের রাজনৈতিক পোষ্টগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সমর্থকেরা নোংরা ভাষায় গালি গালাজ করা এবং উগ্রতা ও অসহিষ্ঞুতা প্রদর্শন করতে কোন ধরণের সংকোচ বোধ করে না। ভিন্নমতের সমর্থককে যারা কথায় এভাবে আক্রমণ করে তারা বাস্তবে আরও কত উগ্র হতে পারে!

এই উগ্রতা ও অসহিষ্ঞুতাই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জন্য কাল হয়েছে এবং তারা একটা জনগণভীতির চক্রে পড়ে গেছে। তারা দেখছে, জনগণ তাদেরকে ভয় করে, অপছনন্দ করে, ফলে তারা জনগণের উপর নির্ভর করতে পারে না এবং জনগণকে ঘৃণা করতে থাকে। জনগণ এটি বুঝতে পেরে তাদেরকে আরও বেশী অপছন্দ ও ভয় করে। যার ফল গিয়ে পড়ে ভোটের বাক্সে।

 

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ১৫৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ১৪ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫
comment by: বিবর্ণ বলেছেন: সামহোয়ারের রাজনৈতিক পোষ্টগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সমর্থকেরা নোংরা ভাষায় গালি গালাজ করা এবং উগ্রতা ও অসহিষ্ঞুতা প্রদর্শন করতে কোন ধরণের সংকোচ বোধ করে না।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: পোস্টগুলো দেখলে আমার বক্তব্যে সত্যতা বুঝতে পারবেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭
comment by: রাইডার বলেছেন: ভাইতো বেজায় জ্ঞানী:)
৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮
comment by: আরিফুর রহমান আরিফ বলেছেন: বিম্লেষণগুলো যথার্থ হয়েছে।
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
comment by: শয়তান হন্তারক বলেছেন: এখানে আপনারা এক মৌলিক ব্যপার বুঝতে ভূল করছেন। সেটা হচ্ছে ধর্মনিরুপেক্ষতা হচ্ছে নিজেই একটা ধর্ম। এই ধর্মের অনুসারিরা আজ থেকে নয় বরং বহু আগে থেকেই এই আচরণ করে আসছে। যেমন এর জনক যুক্তরাষ্ট্র যদিও নিজ দেশে এর প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল অন্য দেশের বেলায় তা নয়। পুজিবাদি স্বার্থের খাতিরে ধর্মনিরুপেক্ষতাকে বছরে সহস্রবার ধর্ষন করেতও রাজি এই যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীর বহুদেশে আমরা দেখি ধর্মনিরুপেক্ষতাবাদের জনকদের প্রত্যক্ষ মদদে ক্ষমতাসীন বহু স্বৈরাচারী। যেমন সৌদি আরব বস্তুত ধর্ম রাজতন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠি্‌ত। এই জনকদের ধর্মনিরুপেক্ষতা সেইখানেই প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় যেখানে তা তাদের পুজিবাদের স্বার্থ হাসিলের অনূরূপ হয়। আসলে যে কোন রাজনিতী ও রাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ একমত হবেন যে ধর্মনিরুপেক্ষতা আদতেই কোন মতাদর্শ নয়। এ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী বেনীয়াদের ঝোপ বুঝে কোপ মেরে স্বার্থ উদ্ধার করার এক অব্যর্থ হাতিয়ার!
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনার এ কথার সাথে একমত যে, ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী বেনীয়াদের ঝোপ বুঝে কোপ মেরে স্বার্থ উদ্ধার করার এক অব্যর্থ হাতিয়ার!

৫. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৬
comment by: শয়তান হন্তারক বলেছেন: ৃ
৬. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
comment by: অরণ্যচারী বলেছেন: মাইনাস।
৭. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৩
comment by: রাঙা মীয়া বলেছেন: ভাঁড়ামী কইরা লোক হাসানো ভালো । সওয়াব হইবে।
৮. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৫
comment by: জাহান৮২ বলেছেন: হুম.....।
৯. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৫
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

"ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের জন্মকালীন রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটি।"
এই তথ্যটি সঠিক নয়... জন্মকালীন সময় বলতে যদি মুক্তিযুদ্ধকে ধরেন তাহলে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন বিষয় জড়িত ছিলো না।


শয়তান হন্তারক ভাল বলেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা দেখবেন সব ধর্মের বিষয়েই উদার.. শুধুই ইসলামে তাদের এলার্জি। ইসলাম ফোবিয়া কতপ্রকার ও কি কি সেটা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের দেখলে টের পাওয়া যায়....

১০. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: আরিফুর রহমান আরিফ বলেছেন: @রাঙা মীয়া, আপনার রসজ্ঞান খুব প্রখর দেখছি (অথবা, উল্টোটা বোধ বুদ্ধি খুব কম) তা না হলে এই পোস্ট পড়ে হাসি পাচ্ছে। বরং সময় থাকতে কান্না কাটি করে নেত্রীকে আরেকটা শক খাওয়ার আগেই সাবধান করে দিন।
১১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৪
comment by: মাসুদ রানা* বলেছেন: পাশ্চাত্য চায় যে কোন মূল্যে বাংলাদেশে ধর্মনিরপক্ষে শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে। এই শক্তির প্রতি ভারতের রয়েছে প্রকাশ্য সমর্থন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শুধু নয়, সারারণ ভারতীয় নাগরিকেরাও তাদের সমর্থনে অনবরত কাজ করে যাচ্ছে, লিখে যাচ্ছে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরাম ও ব্লগে। বাংলাদেশের এলিট শ্রেণীটির মধ্যে এই শক্তির সমর্থন অতি প্রবল। মিডিয়াও তাদের সমর্থক। তারপরও তারা জনসমর্থন পাচ্ছে না।



কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগন এটা চায় না। একটা দেশের জনগনই ঠিক করবে তারা কি চায়। যুক্তরাস্ট্র আর ভারত কি চাইলো সেটা বড় বিষয় নয়।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৯৬৮৮