ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের জন্মকালীন রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটি। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল। বর্তমানেও সারা পৃথিবীতে এই মতবাদের জয় জয়কার। পাশ্চাত্য চায় যে কোন মূল্যে বাংলাদেশে ধর্মনিরপক্ষে শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে। এই শক্তির প্রতি ভারতের রয়েছে প্রকাশ্য সমর্থন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শুধু নয়, সারারণ ভারতীয় নাগরিকেরাও তাদের সমর্থনে অনবরত কাজ করে যাচ্ছে, লিখে যাচ্ছে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরাম ও ব্লগে। বাংলাদেশের এলিট শ্রেণীটির মধ্যে এই শক্তির সমর্থন অতি প্রবল। মিডিয়াও তাদের সমর্থক। তারপরও তারা জনসমর্থন পাচ্ছে না। ভোটের রাজনীতিতে বার বার তারা পরাজিত হচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? এর উত্তর খুজতে কয়েকটি ঘটনা সাহায্য করতে পারে।
১. ১৬ আগস্ট রাতে আমার ছোট চাচা ফোন করে জানালেন যে, তার ছেলের নামে কেস হয়েছে। পুলিশ তাকে খুজছে। সে পালিয়ে রয়েছে। আমার পুলিশ অফিসার বন্ধুদের মাধ্যমে তার জন্য আমি কিছু করতে পারি কিনা। কি কেস হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বললেন যে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে স্থানীয় কলেজে বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করায় সে এবং ছাত্রলীগের আরও কিছু কর্মী কলেজের মহিলা প্রিন্সিপালকে লাঞ্ছিত করেছে। এ ধরণের আরও ঘটনা ঘটছে যার ফলে সাধারণ মানুষ শুধু যে তাদেরকে অপছন্দ করে তাই নয়, বরং তাদেরকে ভয়ের চোখে দেখে এবং তাদের হাত থেকে বাচতে দলে দলে জাতীয়তাবাদীদেরকে ভোট দেয়।
২. ইন্টারনেট এখোনো বাংলাদেশের শিক্ষিত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তের নাগালে। এই শ্রেণীর তরুনদের মধ্যে ব্লগিংএর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ব্লগগুলোর শীর্ষে রয়েছে সামহোয়ার। সামহোয়ারের রাজনৈতিক পোষ্টগুলো দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সমর্থকেরা নোংরা ভাষায় গালি গালাজ করা এবং উগ্রতা ও অসহিষ্ঞুতা প্রদর্শন করতে কোন ধরণের সংকোচ বোধ করে না। ভিন্নমতের সমর্থককে যারা কথায় এভাবে আক্রমণ করে তারা বাস্তবে আরও কত উগ্র হতে পারে!
এই উগ্রতা ও অসহিষ্ঞুতাই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জন্য কাল হয়েছে এবং তারা একটা জনগণভীতির চক্রে পড়ে গেছে। তারা দেখছে, জনগণ তাদেরকে ভয় করে, অপছনন্দ করে, ফলে তারা জনগণের উপর নির্ভর করতে পারে না এবং জনগণকে ঘৃণা করতে থাকে। জনগণ এটি বুঝতে পেরে তাদেরকে আরও বেশী অপছন্দ ও ভয় করে। যার ফল গিয়ে পড়ে ভোটের বাক্সে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


