গতকাল চ্যানেল আইয়ের একটি খবর খুব মনোযোগ আকর্ষণ করল। এতে দেখা গেল, একজন ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার লাশ আটকে রাখে, কারণ তার আত্মীয়রা প্রাইভেট হাসপাতালটির অর্থ পরিশোধ করতে পারেন নি। পরে অনেক দেনদরবার করে ও অর্থ পরিশোধ করার পর তার লাশ বের করার অনুমতি দেয় অবিবেচকের মত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। এটা খুব দুঃখজনক, অর্থের কারণে একজন ভাষাসৈনিকের মরদেহ একটি প্রাইভেট হাসপাতাল (ব্যবসায়ী গোষ্ঠী) আটকে রাখে। তিনি কোন সাধারণ নাগরিকও নন। একজন দেশপ্রেমিক। ভাষাসৈনিক। একজন শব্দসৈনিক। একজন মুক্তিযোদ্ধা।
তো, প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি রকম আচরণ করছে, এটা সহজেই অনুমেয়। এরা কসাইয়ের চেয়েও জঘন্য। এরা লোভী। এরা মানুষের জীবন-মরণকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। একশ্রেনীর সরকারী চিকিৎসক, নার্স ও সরকারী হাসপাতালের কর্মচারীর যোগসাজসে এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সাধারণ রোগেও যতরকম অপ্রযোজনীয় পরীক্ষা করে, এতে রোগী বা তার আত্মীয় স্বজনকে নিঃস্ব হতে হয়।
স্বাস্থ্য সেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের কতিপয় সুবিধাবাদী, যারা ব্যক্তিস্বার্থে ও ব্যবসায়িক স্বার্থে মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবাকে ব্যবসার মাধ্যম করার ষড়যন্ত করছে। দেশে এপোলো, স্কয়ার, ল্যাবএইড, মডার্ণ ইত্যাদি প্রাইভেট হাসপাতাল হলে সাধারণ মানুষের লাভ কি? এরকম প্রাইভেট হাসপাতালগুলো রক্ত চোষা প্রাণীর মতই মানুষের অর্থ চুষে নেয় ।
একজন দরিদ্র মানুষের পক্ষে কি এসব হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব? আমাদের বোঝা উচিত, আমরা কিরকম স্বাস্থ্য সেবা চাই। আমরা কি স্বাস্থ্যকে পণ্য হিসাবে দেখতে চাই? আমরা কি চাই, মানুষ স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে মারা যাক? আমরা কি চাই, সরকারী হাসপাতালগুলো ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাক? এসব বিষয় কি সংশ্লিষ্টরা বোঝেন না? এসব বিষয় আমাদের ভবিা উচিত। আমরা যেন, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারি। সেটা হোক কাম্য। জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিতে এ বিষয়গুলো পরিস্কারভাবে উঠে আসা উচিত, যে স্বাস্থ্য সেবা খাত, এটা পণ্য নয়। সরকারী ব্যবস্থাপনায় এ সেবা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে সেবাখাতকে প্রাইভেটাইজ করার ষড়যন্ত্র বিষয়ে আমাদের সচেতন হবে। রুখতে হবে ষড়যন্ত্র।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



