পৃথিবী সৃষ্টির পর মানুষ সৃষ্টির পর থেকে অদ্যাবধি ইতিহাসের সব চেয়ে নিকৃষ্টতম দিন আজ, ৬ আগষ্ট। ১৯৪৫ সালের এ দিনে পৃথিবীর ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ড ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এ দিনে জাপান-জার্মানির কাছে কোনঠাসা যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকি'র মত দুটো জনবহুল ও বৃহত শহরকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়। কী নির্মম হত্যাযজ্ঞ। শিশু, নারী, আবাল-বৃদ্ধ, সকলেই নিমর্মতা, বর্বরতার শিকার। লক্ষাধিক মানুষ এক সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে। পৃথিবীতে এ যাবত আর কোন ঘটনায় একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু ঘটেনি।
পরবর্তী সময়ে চিকিতসার অভাবে আরও কয়েক লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়। চিকিতসার সুযোগও ছিল খুব সীমিত। রাসায়নিক দূষন মানুষকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুরো শহরের মানুষ এ দূষণের মধ্যে নানা সমস্যা পতিত হয়। এদিন বর্বরতম বোমা হামলার পর ঐ শহরে যেসব শিশু জন্ম নিয়েছে, তাদের মানসিক ও শারীরিক বৈকল্য খুব প্রকট সমস্যা হিসাবে দেখা দেয়। প্রবাদ আছে, এখনও হিরোশিমা ও নাগাসাকি বোমার রাসায়নিক দূষণের স্বাক্ষী।
এখনো যুদ্ধের দামামা চারিদিকে। ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবঙ আফ্রিকার অনেক দেশের মানুষ অশান্তিতে। সন্ত্রাসী, সে যে লেবাসেরই হোক-তাদের মারলে আমার কোন কষ্ট নাই। কিন্তু যখন দেখি শিশু, নারী, সাধারণ মানুষ-যাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে কোনরূপ সম্পর্ক নাই, তারা মারা যাচ্ছে। যে শিশুটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠার সুযোগ পাবার কথা, সে শিশুটি বোমার স্প্লিন্টার নিয়ে বেড়ে উঠছে। যে শিশুটি হতে পারত আগামী দিনের নেতা, যে শিশুটি হতে পারত আগামী দিনের আলোকশিখা, যে শিশুটি হতে পারত আগামী দিনের সম্পদ, সে শিশুটি বোমা-গুলির কারণে হচ্ছে বিকলাঙ্গ, সে শিশুটি হচ্ছে বোঝা।
আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার জন্য। ইতিহাসের এই ন্যাক্কারজনক দিন থেকে আমরা শিক্ষা নেই। আজকের দিন থেকে শিক্ষা নিয়ে গড়ে তুলতে হবে শান্তির পৃথিবী। ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকলেই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। সবাই মানুষ। মানুষ হিসাবে সবার সমান অধিকার-এ বিশ্বাসে আমরা উজ্জীবীত হই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


