চলে গেলো এইমাত্র। ফিরে আসবে জানি। মাঝে শূন্যতায় ভেজা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছু মুহূর্ত। কিন্তু এই মুহূর্তের মাঝেই স্বর্গসুখ। মহাকালের আদি-অন্তের বিচরণ। জীবনের ভালো লাগা মুহূর্তগুলোর উঁকি দিয়ে যাওয়া। দুঃসহ স্মৃতিগুলোও যেন আনন্দের মোড়কে মোড়ানো; হোক না মুখোশ। তারপর কিছু পলকের মধ্যেই এক অন্তহীন নাটিকার প্রস্তাবনা। স্থিতিকাল; আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছু মুহূর্ত। দৃশ্যমান জগতের প্রতিটি উপাদান এসে ধরা দেয়। অদৃশ্যও চেষ্টা করে। সাইবেরিয়ান অরণ্যে তুষারের ওপর ঝরে পরা একটা পাতার অনুভূতি। নেভাডো মিসমির প্রথম জলের ফোটার অস্তিত্ব। রাতের আকাশের দিকে আদিবাসী এক নেভাহো কিশোরীর রহস্যময় চাহনি। মরুর বুকে এক যাযাবরের ক্ষণিকের ক্লান্তি। কোন এক মাটির ঘরে কোন এক মাসাই শিশুর জন্ম। কমলাপুরের কনকনে শীতের রাতে হিমহিম ঠাণ্ডা প্লাটফর্মে কোন এক শিশুর পরম শান্তির নিদ্রা। ঊষালগ্নে কচিখালির আঁকাবাঁকা খালে এক নাম না জানা গাছের পাতায় শিশিরবিন্দুর কাঁপন। হঠাৎ শিশুকালের নিষ্পাপ আমি’র আমার দিকেই মুখ তুলে তাকানো অচেনা হাসি। মহাবিশ্বে এক মাঝারি আকারের নক্ষত্রের জন্ম। কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না আর। মানুষের অভিজ্ঞতা, যুক্তি, বিশ্বাস আর বর্ণনাশক্তি ছাপিয়ে অন্যকিছুর ব্যাপ্তি। সমাপ্তি কোথায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই শান্তিময় মুহূর্তের অন্তহীন নাটিকার?
সমাপ্তি হচ্ছে। অচিরেই।
হ্যাঁ, ফিরে আসছে ওরা এইবার। কিন্তু তুমি তো জানো ওরা আবার চলে যাবে। ভয় কি তোমার? ওরা চলে গেলেই তুমি ফিরে পাবে তোমার সেই নাটিকা। ভিন্ন সূরে, ভিন্ন রূপে। অন্তহীন সেই স্বর্গসুখ। তাই ওদের পুনরাবৃত্তিতে আশীর্বাদের ছায়া। তুমি তাই কামনা থামাবে না। এক মুহূর্তের জন্যও না।
এবার শক্ত হও। নরম হলে চলবে না। তৈরি হও লড়াইয়ে। ওরা কিন্তু সমঝোতা করবে না। দয়া করবে না। এতটাই নির্মম ওরা। তোমারও দরকার নেই। তুমিও নির্মম হও। প্রস্তুত হও। সাপের মত ছোবল দিতে আসবে। তুমি কিন্তু ছোবল খাবে। এড়ানোর চেষ্টা করবে না। ছোবল খেয়ে খেয়েই লড়াই করবে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আর এটাও মাথায় রেখো, এই লড়াই কিন্তু শুধু কিছু মুহূর্তের নয়। এবার সত্যি সত্যি অনির্দিষ্টকাল। আর এর যবনিপাতের আশা? এই ভুল করবে না। মনে ঠাঁই দেবে না এই চিন্তা। তাহলে ছিঁড়ে ফেলবে ওরা তোমাকে। তুমি শুধু দাঁতে দাঁত চেপে থাকো।
কালচে কালচে নীল ওরা ক্রূর হাসি হেসে আসছে। আচ্ছা, ব্যথাগুলো নীল হয় কেন? এই পর্ব শেষ হোক, ইন্টারনেটে খুঁজে নেব। হ্যাঁ, এইবার সেই চিন্চিনে অনুভূতি। হয়তো হাড়ের কোন অংশে মধু লাগানো আছে, সেগুলো নির্লজ্জের মতন কামড়াকামড়ি করেই ওরা আত্মতৃপ্তি পায়। সব কিছুই তো তাই। ওদের কি দোষ! এবার কিন্তু আর ছোটখাট তৃপ্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওদের লোভ অনেক বেশী।
এক নিমেষের মধ্যে জগত-সংসার অন্ধকার। চোখ খুলে তাকালেও কি লাভ? নিউরনগুলোর দাপাদাপি। অস্থির অস্থিরতা। অসহ্য কিছু শব্দের ক্রমবর্ধমান ব্যাপ্তি। হাঁ করা এক অন্তঃসারশূন্য মুখবিবরের এত ঝাপটাঝাপটি কেন? এক গগনবিদারী চিৎকারে আগের সেই স্বর্গসুখ-নাটিকার প্রত্যেকটি পাত্র-পাত্রীর মৃত্যু। সুন্দর সুন্দর সাদাকালো মুহূর্তগুলোর গলে গলে পরা। এবার রঙের খেলা। পর্দার উপর এবার কালচে নীলচে লালচে রঙ। ওগুলোও গলে গলে পরে। কিন্তু শেষ হয় না। পর্দার ভেতরেই আবার রাস্তা দেখায় ওরা। হেঁটে যেতে হয়। এখন চারপাশেই এই ভয়ানক রঙের খেলা। আর তার সাথেই করাত কাটার মত এক শব্দের ক্রমবর্ধমান ব্যাপ্তি। ঘিরে ফেলছে ওরা। তুমি শুধু দাঁতে দাঁত চেপে থাকো। নিজের অস্তিত্বের উপস্থিতির অনুভূতি এখানেই।
ওদের লোভ আরো অনেক বেশী।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


