somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃক্ষ

১৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি অন্তর্দহন ইঞ্জিনের ক্রমশ অন্তর্হিত হুংকার এবং ধূলিমেঘের অনাবৃষ্টির মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অতৃপ্ত ছায়া। অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু হলো তার, আরেকটি আকাঙ্ক্ষিত শাব্দিক অন্তর্দহনের।

এই ফাঁকে চলো যাই, পায়ে পায়ে এসে দাঁড়াই মরুর বুকে মরীচিকার মত দৃশ্যমান ঐ একাকী ছায়াময় বৃক্ষের সন্নিকটে। না, ছলনাময়ী নয় সে। নয় পরাবাস্তব কিছু। নিরেট নিখাদ দৃঢ় কষ্টসহিষ্ণু বাকলসর্বস্ব এক বৃক্ষ। শুধু তার নমনীয়তার পরিচয় দিচ্ছে বোধহয় তার ঔরসজাত কচি পেলব পল্লবেরা। চারপাশের ছড়ানো শুকনো মৃতরা গাইছে মচমচে স্তুতিগান। আর সদ্য ফোটা পত্রমঞ্জরীরা যেন অন্তঃসত্ত্বা ঘোষণায় অতিউৎসাহী।

জীবন দানকারী রৌদ্রের শিৎকারে অস্তিত্বের দ্যোতনায় সদা দোদুল্যমান মানব-ছায়ার এ কেমন আচরণ, বৃক্ষ? কেন তোমার চরণতলে এসেই তার আকস্মিক অস্তিত্বহীন হওয়ার এই ব্যাকুল প্রয়াস? কেন তোমার কাছেই অশরীরী নিজেকে সঁপে দেয়ার এই স্বতস্ফূর্ত আভাস?

কারণ তুমিই যে অবিনশ্বর। তুমিই যে অলৌকিক। তুমিই যে রহস্যময়।

অবগত আছো নিশ্চয়ই, হে বৃক্ষ, তোমার সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাসে কূটজাল বিছাতে সদা-তৎপর মানব-প্রজাদের ব্যতিব্যস্ততা। তোমাকে নিয়ে বালখিল্যতার দুরভিসন্ধি। আজ এই ক্ষণে তুমিই না হয় তোমার অবগুণ্ঠন খোলো। নীরবে তোমার লুকিয়ে রাখা সব জ্ঞান তুলে আনো জাইলেম-ফ্লোয়েমের চক্র ভেঙ্গে, ঢেলে দাও সেই পরম সুধা অতৃপ্ত এই মানবাত্মায়। প্রকৃতি সেই কালে যখন বিযুক্ত করেছিলো তোমাকে এই মানব প্রকরণের ত্রুটি হতে বাঁচাতে, সেই তুমি, সেই তুমি কি একাগ্র একনিষ্ঠ চিত্তেই না করে গেছো জ্ঞানের অন্বেষণ! আজ কোথায় লুকিয়ে রেখেছো তোমার সেই সঞ্চিত ভাণ্ডার – তোমার আলেকজান্দ্রিয়া, তোমার আসুর্বানিপল, তোমার বেদ-তওরাত-ইঞ্জিল-কোরান, তোমার উইকি-এন্‌কার্টা? তোমার পরমেশ্বর-জ্ঞান? তোমাদের ভেতরেও কি ছিলো না কোনো সক্রেটিস, কোনো গ্যেটে? অথবা কোনো লালন? কি অমিত শক্তিমত্তা আর সহিষ্ণুতার সাথেই না তুমি অতিক্রম করেছো কোটি-কোটি মুহূর্ত! ধ্যানী তুমি, জ্ঞানী তুমি।

মনে আছে কি তোমার? যখন কোন এক মহা-আদিম পরমানন্দদায়ক আধ্যাত্মিক মুহূর্তে কোন এক সুপেয় পানির জলাশয় থেকে কি এক তাড়ণায় অন্যদের হাজার বারণ সত্ত্বেও ‘ট্যেরা ফ্যর্মা’য় উঠে এসেছিলো চারটি নীল-সবুজ শৈবাল? হ্যাঁ, তোমরা কিন্তু ঋণী ওদের একজনের কাছে, ওদের একটি প্রজাতির উচ্চাকাঙ্খার কাছে, যারা আপন করে নিয়েছিলো ঐ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আর সূচনা ঘটিয়েছিলো তোমাদের মত বহুকোষী প্রাণের। অবশিষ্ট তিনটি-প্রজাতি কিন্তু এখনও হতাশাতেই নিমজ্জিত! তোমরা এখনো ওদের দেখবে হয়তো সাধারণ শৈবালদের কাতারে। অহর্নিশি কাটাচ্ছে যাপিত জীবন! আর ঐ এক মহা-শৈবাল – তোমাদের অস্তিত্বের রূপকার, তোমাদের বিবর্তনের সূচনাকারী – ওকে কি তোমরা বানিয়েছো এডাম কিংবা নোয়া! অথবা কোন ডেমি-গড!

তোমরাও কি খেল্‌ছো এক মহা-খেলা?

আকাঙ্ক্ষিত ঐ শাব্দিক অন্তর্দহনের ফিরে আসায় কি অ্যাটামাইজ্‌ড হবে তোমরাও?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:১১
২৮টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×