অতি গম্ভীর, অতি গম্ভীর নীল অম্বরে ডম্বরু বাজে,
যেন রে প্রলয়ঙ্করী শঙ্করী নাচে।
করে গর্জন নির্ঝরিণী সঘনে,
হেরো ক্ষুব্ধ ভয়াল বিশাল নিরালা পিয়ালতমালবিতানে
উঠে রব ভৈরবতানে।
লালচে পাহাড়ী মৃত্তিকা আর কালচে আকাশের গম্ভীরতা যখন এক ভয়ানক মল্লযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নির্লিপ্ত দেহের অস্থির মানস-কোষে তখন বইছিলো তারই অনুরণন। ‘বাবু তুফান আইতারে’ থেকে বৈশাখী বায়ুর অশনি শীতল পরশ আর নীল অম্বরের ডম্বরুর শব্দ-রাঙা মাতাল-ঘ্রাণ আজ অধিকতর শ্রেয়। উষ্ণ বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী গমন ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে গেছে যাবতীয় পীড়ন-প্রেষণা। আজ ওগুলো লণ্ডভণ্ড হবে কালনাগিনীর নিঃশ্বাসে। বুনো উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতি আজ খেলবে এক মরণ খেলা। লিখবে এক প্রাণান্তক গীতিকবিতা।
ঝড়।
আঁধার।
অতি গম্ভীর।
বাদল মেঘে মাদল বাজে, গুরুগুরু গগন-মাঝে।
তারি গভীর রোলে, আমার হৃদয় দোলে,
আপন সুরে আপনি ভোলে।
কোথায় ছিল গহন প্রাণে, গোপন ব্যথা গোপন গানে –
আজি সজল বায়ে শ্যামল বনের ছায়ে
ছড়িয়ে গেল সকলখানে গানে গানে।
তারপর শব্দ। ফোঁটা ফোঁটা জলের কোরাস। ক্ষণে ক্ষণে বজ্র-ঐকতান। বৃষ্টি সিম্ফনি। তবে এই সুরের ঘ্রাণ আছে। গন্ধ আছে। এই সুর জল নামায়। এই সুর তানসেন। এই সুর শুনতে হয় প্রকৃতি-দরবারে। নগ্ন পায়ে। বৃষ্টির ছাঁট অঙ্গে মেখে। ঝোড়ো হাওয়ায়।
বৃষ্টিশেষের হাওয়া কিসের খোঁজে বইছে ধীরে ধীরে
গুঞ্জরিয়া কেন বেড়ায় ও যে বুকের শিরে শিরে।
বৃষ্টি-স্নান। জল-শুদ্ধি। অপ্সুদীক্ষিত।
এবার নেমে এসো ঊর্ধ্বাকাশের পরাজিতন্মন্য অস্থিরতা। কাম। ক্রোধ। ঘৃণা।
কেন এ হিংসাদ্বেষ, কেন এ ছদ্মবেশ,
কেন এ মান-অভিমান?
না থাকে অন্ধকার, না থাকে মোহপাপ,
না থাকে শোকপরিতাপ।
হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক,
বিঘ্ন দাও অপসারি।
বিতর' বিতর' প্রেম পাষাণহৃদয়ে, জয় জয় হোক তোমারি।
জল। জেনে রাখো...
শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে
ঊর্ধ্বমুখে নরনারী।
কারণ...
বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি।
ছবি - মাধবপুর হ্রদ, শ্রীমঙ্গল, ৩০শে এপ্রিল ২০১০
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



