somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Miksang

১৪ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি জলের ফোঁটা। চুপচাপ দুপুরের হালকা বৃষ্টি শেষে দুএকটি ফোঁটা এখনও টুপ্‌টাপ্‌ টুপ্‌টাপ্‌। শেয়াল-বিয়ে শুরু হতেই অতর্কিত মধ্যবিত্ত মানুষগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ হয় ভঙ্গুরাশ্রয়ে, আমি তখন দেখি তাদের পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ানো। অপ্রস্তুত। বিব্রত। বৃষ্টিফোঁটার সাথে তাদের শরীরে ঝরছে বাহারি অর্থের সুগন্ধি। ভ্যাপসা আর্দ্রতায় সেগুলো অভিসিঞ্চিত। সম্পৃক্ত। শেয়ালের সাথে কার বিয়ে হচ্ছিলো জানিনা, কিন্তু তাদের বিয়ে যখন ভেঙে গেলো, অতিথিরা বেশ ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে গেলো এদিক সেদিক। ফাঁকা আশ্রমে জলের ফোঁটা তখনও টুপ্‌টাপ্‌ টুপ্‌টাপ্‌। নির্বিকার চিত্তে আছড়ে পড়ছে ভাঙা মাটির পাত্রে। দুএকটি ফোঁটা লাফিয়ে উঠে হঠাৎ।

চোখ এবং ক্যামেরার মাঝে পার্থক্য আছে শুনেছি। প্রথম যখন বস্তুটি হাতে নিই, মনে পড়ছিলো বার্কলে। মনে আছে, প্রথম তোলা ছবির দিকে আমার শঙ্কিত চাহনি। আমার অবাক চোখের সামনে সে তুলে ধরে পরিচিত রঙ। অন্তরঙ্গ ছাঁচ। সিলভার হ্যালাইডের আস্তরণ আমার মতই প্রতারিত বটে।

এক একটি আলোকচিত্র, এক একটি অতীত। থেমে থাকা মুহূর্ত। একমুখো জীবনের ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপ। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চাপতে থাকি বিরামহীন শাটার। তারপর অন্ধকার ঘরের এক কোনে বসে আলোছায়ার সঞ্চালনে দেখতে থাকি আত্মপ্রকৃতির যাপিত জীবন। ফ্রেমের পর ফ্রেম। ক্ষণে ক্ষণে করতালি। ক্ষণে ক্ষণে বিমর্ষতা। পপকর্ণগুলোর ইতস্তত এদিক-ওদিক। পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ানো।

চোখ দিয়ে কতটুকু দেখা যায়, যতটা দেখা যায় চোখ বন্ধ করলে?
অকৃত্রিম সৌন্দর্যের কোথাও পতিত হলে তাই অদৃশ্য দৃশ্যমান জগত। নেত্র দুটির আত্মগোপন। শামুকের খোলসে গুটিয়ে যাওয়া অক্ষিপট।

ক্যামেরা অবস্‌কিউরা। এক রিচুয়াল। মহাকালের প্রতি আমার ধর্মীয় আচার।
প্রিয় ব্যাপারগুলো অবহেলায় ঠেলে দেয়া এক অনন্য আত্মতৃপ্তি। অথবা অপারগতা।

আমি ইদানীং ভুলে গেছি সব আচারানুষ্ঠান।
ভুলে গেছি সামাজিকতা।

শুধু চোখ বন্ধ করে থাকা।
আর জলের টুপ্‌টাপ্‌।
টুপ্‌টাপ্‌। টুপ্‌টাপ্‌। টুপ্‌টাপ্‌।





মিকস্যাঙ (Miksang) তিব্বতীয়। মানে দাঁড়ায় 'ভালো/কল্যাণকর/উত্তম চক্ষু' (Good Eye)। এই 'ভালো' শুধু কোন শব্দ নয়, ভালো-খারাপ আপেক্ষিকতার টানাপড়েন নয়। 'উত্তম' বলতে এখানে চিন্তাবিষ্টতা/চিন্তাকুলতায় জর্জরিত নয়, শর্তাধীন নয় এমন মুক্ত, শান্ত, উন্মুক্ত মানসকেই বোঝানো হচ্ছে। যাপিত জীবনের কামনা, স্পৃহা, অভিলাষ বর্জিত শান্ত-নীরব-সাধারণ মন। এই মিকস্যাঙের মূলে দাঁড়িয়ে আছে বৌদ্ধ ঋষী Chögyam Trungpa Rinpoche আর তাঁর Shambhala আর Dharma Art teachings।

When steady mind, clear vision and soft heart come together in one single moment, ‘Good Eye’ manifests।

পবিত্রতা এই দৃকশক্তি/অন্তর্দৃষ্টির এক সহজাত গুণ। অনন্য এই দৃকশক্তির কোন প্রতিবন্ধকতা নেই, বিষাদ নেই, খেদ নেই এবং এটা সর্বপ্রকার ব্যাখ্যান ও স্পষ্টীকরণের ঊর্ধ্বে।

When we synchronize eye and mind, we abandon all concepts and predispositions and become completely present in the moment. The world becomes a magical display of vivid perception.

চক্ষু-মনের এই যুগলবন্দী, চার্বাক-মানবাত্মার এই বন্ধন আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার এক চর্চাই হচ্ছে Miksang Contemplative Photography। মিকস্যাঙ আলোকচিত্রগ্রাহক তিনিই যিনি তার দৃকশক্তি দিয়ে দেখেন অতি সাধারণ সত্য। অবিমিশ্র, অনলঙ্কৃত অনাড়ম্বর জগত। সাদামাঠা মুহূর্ত। তিনি যোগ করেন না কিছু। তিনি মিথ্যে বলেন না। তিনি সত্যবাদী, সত্যবৃত্ত, নিষ্কপট। তিনি বাস্তবতার ওপর মিথ্যে রঙতুলির আঁচড় বুলান না। অর্থহীন জৌলুসতা এড়িয়ে চলেন। তিনি একজন straight shooter। তিনি যা দেখেন, তাই তুলে আনেন। অর্থহীন জীবনের ফাঁক গলে তিনি তুলে আনেন অর্থবহ কিছু মুহূর্ত। তবে তার জন্য চাই সেই দৃকশক্তি। সেই অন্তর্দৃষ্টি। চাই steady mind, clear vision আর soft heart।

To me the path of Miksang is about uncovering truth, the truth of pure perception in our moment to moment experience. We see something penetrating, something pure and self-existing, and then we have the opportunity to express that perception without making anything up. We can be totally honest about what we saw. In that moment of staying with the perception, we hang out in the push and pull of wanting to manipulate it. But that all dissolves and is cut when we press down and feel the shutter click. It is the joy of letting go.

- Julie DuBose, Miksang Instructor

















টুপ্‌টাপ্‌ জলের প্রতিচ্ছায়ায় যখন ভেসে উঠে অর্থহীনতা আর অশান্ত চিত্ত, তখন যাবতীয় দৃকশক্তি আর অন্তর্দৃষ্টির নির্বাসন বেশ অর্থবহ হয়ে দাঁড়ায়।





আলোকচিত্র - Alice Haspray, Andy Karr, Wayne Williams, Jill Scott, Micheal Wood প্রমুখ...
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:১৮
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×