দুপুরের রোদ গড়িয়ে যখন বিকেল হোলো, আর সন্ধ্যার কালচে ছায়া যখন ওঁৎ পেতে আছে, সেই মুহূর্তে আমার অহং যদি নিজেকে পয়গম্বর বলে ভাবে, তখন সকালের রোদ প্রশ্ন তুলতেই পারে যে ভোরের আলোয় তুমি কোথায় ছিলে, বা ঊষালগ্নে তুমি কাকে অবদ্ধ করতে এসেছো। আমি বলবো, কাউকে নয়। তোমরা সবাই মুক্তই ছিলে।
আমার ভেড়া নেই। নেই চারণভূমি। আমার বক্ষবিদারণ হয়নি। আমার ছিলো না অগ্নিউপাসক কোন পিতা। ক্রুশে আমি উঠবো না জেনে রেখো, পদ্মাকে আমি করবো না বিভাজিত। চন্দ্রনাথে আমি শুনবো না ঈশ্বরের খলহাসি, ঈশ্বর আমায় চেনে না।
শুধু ফিসফিস। শুধু গুঞ্জন। শুধু মর্মর। ঝিরঝির। শনশন।
নয় কোন মানবীয় গুণাবলী। আমি দেবো না কোন গ্রন্থ। শব্দের আড়ালে আমি লুকোবো না কোন মেটাফর। আমি মানুষরূপী অসুখের জন্য নই। মনুষ্যপ্রকৃতি আমার ঊর্ধ্বে। মৃতদের ঈশ্বর আমায় পাঠায়নি।
তবে কেন কর্ণকুহরে অশ্মীভূত নৈসর্গিক প্রস্তরের মর্মপীড়া? অনাড়ম্বর পাথরকুচির বেদনাহত জলফোঁটার আর্তনাদ? বিষাদগ্রস্থ কোন বৃক্ষের ছায়ায় গুমরে উঠা সেই কান্নার প্রতিধ্বনি কে শুনবে? আলতো পরশে কে সান্ত্বনা দেবে অনুরণিত লোহিতকণিকা? কীভাবে হবে প্রোটনের নাজাতপ্রাপ্তি? কে বুঝবে নিউট্রিনোর নির্লিপ্ততা?
ব্যতান্ত্রিক। রাফেজি। খারেজি।
উৎপথগামী আমি এক জড়বস্তুর পয়গম্বর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


