somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভার্চুয়াল প্রেম

২২ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ শনিবার।এক মে।নওমির কলেজ বন্ধ।বাইরেও কোথাও বেরুয়নি। ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করতে ছিল।হঠাৎ একটা মেসেজ আসল।"আপনার প্রোফাইলের ছবিটা এত বিমর্ষ কেন?"পড়েই কপালে একটু ভাঁজ পড়ে গেল।বিস্মিতও হল।ভাবছে উত্তর দিবে কি দিবে না।ভাবা ভাবির দোলাচলে থাকতে থাকতে এক সময় উত্তর লিখেও ফেলল।"আপনা এটা মনে হল কেন?"এবং সেন্ট দিল।

এক মুহুর্ত।তার পরই ফিরতি মেসেজ "না আপনি যে ভঙ্গিতে সৈকতের পাথরের উপর বসে আছেন তাই মনে হল।

আসলেই ছবিটা একটু বিষন্নই হয়েছিল।ট্রয়'র সাথে গত কাল রিলেশনটা ব্রেকআপ হয়ে গেল। ।সবাই যখন পরদিন সৈকতে যাচ্ছিল তখন ওর মন ভীষন খারাপ।যেতে চাচ্ছিল না।কিন্তু এরিন আর সারা'র পিড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত গিয়েছিল।মনটা প্রচন্ড খারাপ ছিল।তাই ছবিটা ও রকম বিষন্ন হয়ে ছিল।তখন ছিল জানুয়ারি মাস।ডিসেম্বর থেকেই ট্রয় কেমন যেন বদলে যেতে থাকে।আসলে ও আর একটা প্রেম করতে ছিল।প্রায়ই ট্রয় তুচ্ছ কারন নিয়ে ঝগড়া করতো।অসহ্য হয়ে গিয়েছিল ও।ট্যুরে গিয়ে বিষয়টা পরিস্কার হল তখন ও কষ্ট পেয়েছিল।কিন্তু ফেরানোর চেষ্টা করে নি।

-আপনি বিষন্ন বলছেন কেন ,ওটা একটা মুড়।
-হ্যাঁ বিষন্ন মুড়।
_একটা ছবির বাইরের দিকটা দেখে শুধু কি বিষন্ন বিচার করা যায়?
-ওকে বাদ দেন।আপনার ইনফোতে দেখলাম রিলেশনসিপ স্টেটাস কম্পিকেটেট।কি বেপার বলুনতো।
-না এমনি।এসব ভাল লাগে না।
-স্যাড কিছু?
-থাকতেও পারে নাও পারে।
-ওকে ফাইন।আপনি বোধ হয় বলতে চাচ্ছেন না।
বাই

বলেই ছেলেটা অফ লাইনে চলে গেল।নওমির মেজাজ চড়ে গেল।ওকি আমাকে এভয়েড করল।ইনফো খোঁজে দেখল:
নাম:সায়মন এরিখ
ডেট অব বার্থ:১০-৮-১৯৯০
রিলেশনশিপ স্টেটাস:সিঙ্গেল
কলেজ:অ্যামেরিকান ইন্টা: ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
হোম টাউন:লালমাটিয়া ,ঢাকা।
পরদিন আম্মুকে মাথা ব্যাথার কথা বলে কলেজে গেল না।আবার ফেসবুক।
এরিখও অনলাইনে।ভাবছে নখ করবে কিনা।এর মধ্যেই মেসেজ আসল "কেমন আছেন বিষন্ন কন্যা?"লল
-বিষন্ন মানে?মেজাজটা তেঁতে গেল।
-ওকে সরি ,সুইট কন্যা।
বিশ্মিত ও পুলকিত হল"আচ্ছা এত ইম্প্রোভ।
এভাবে তিন দিন চলল।ইতোমধ্যে ফোন নাম্বার দেয়া নেয়া হয়ে গেছে।

চতুর্থ দিন রাত ২:৩০মিনিটে হঠাৎ করেই এরিখ বলল চল আমরা দেখা করি।
-কবে ?
-কাল।
-না কাল আমার কোচিং আছে।
-তবে পরশু।
-ওকে।
পিজজা হাটে এরিখ বসে আছে একটা সাদা টি শার্ট পরে।
-এরিখ?
-নওমি?
-ইয়েস।
-সিটডাউন প্লিজ।
এরিখ:আমি যতটা ভেবে ছিলাম তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর তুমি।
নওমি:থ্যাঙ্কস।তুমিও অনেক স্মার্ট।
এরিখ:থ্যাঙ্কস।
এরপর থেকেই ওদের পথ চলা।নওমি কিন্তু ট্রয়ের কথা গোপন করে গেল।এখন নওমিকে গুলশান কলেজের চেয়ে বনানীতেই বেশি দেখা যায়।
বেশ ভালই চলছিল।আজ আশুলিয়া,কাল ধানমন্ডি,পরশু উত্তরা ,বেড়িবাঁধ।দিন গুলো বেশ রঙ্গীনই লাগছিল।

-এরিখ বলতো এইতো আর এক বছর।তার পর আমার বিবিএটা শেষ হবে।তার পর এমবিএ টা শেষ করেই জব।তার পর কাজী অফিস।একটা সুন্দর বাসা থাকবে।বাইরে বারান্দা,সেখানে তুমি আর আমি পূর্ণিমা রাতে বসে গল্প করব।তারপর একটা বাচ্চা থাকবে।
-নওমি বলে না এত তাড়াতাড়ি না।আমার ভয় করে।
-আমি তোমার সাথে আছি না ।আমি থাকতে তোমার কোন ভয় নেই।
এভাবেই ওরা কাছে আসতে থাকে।একদম ঘনিষ্ঠ।


তাদের এই সপ্নিল পথ চলায় বাঁধা হয়ে হঠাৎ উদয় হয় ট্রয়।ট্রয়ের রিলেশনটা আবার ভেঙ্গে গেছে।
একদিন এরিখ জিজ্ঞেস করে ,ট্রয়টা কে?
চমকে উঠে নওমি,বলে ওর ফ্রেন্ড।
শুধু ফ্রেন্ড আর কিছু না?
-আর কি হতে যাবে?
-না ওর সাথে হঠাৎ ফেস বুকে দেখা।বলল তোমাকে চেনে।আর কিছু বলেনি।
ভাবনার জগতে ডুব দিল নওমি।কিছুতেই কিছু মেলাতে পারছে না।ওই শনিটা কী তাহলে ওর পিছু ছাড়বে না।
-নওমিকে চুপ থাকতে দেখে এরিখ বলে কি হল জানু,কিছু বলছ না কেন?
না এমনি মাথায় পেইন করছে।

-কই দেখি বলেই ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল এরিখ।

এরিখের পরীক্ষা চলছে ।তাই যোগাযোগ একটু কম হচ্ছে ।তিন দিন পর হঠাৎ জরুরী ফোন ।গুলশান লেকে আমি তোমার জন্য ওয়েট করছি।তাড়াতাড়ি চলে এসো।
-এরিখ তোমার না পরীক্ষা
-আমি বলছি তুমি একক্ষন চলে এসো।
নওমির হার্টবিট বেড়ে গেল।বুকের ভেতরের পোকাটা প্রচন্ড লাফালাফি করছে।আজ কিছু একটা হবে।
লেকের পাড়ে এসেই দেখে এরিখের ভিন্ন চেহারা।যে চেহারা কোন দিন দেখেনি।
-কি বেপার জানু।
-সাট আপ।হোয়াট ইজ দিস?
-এরিখের হাতে ট্রয়ের সাথে তার ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবি দেখে হতভম্ব হয়ে গেল।এই ছবিতো ট্রয় ফেরত দিয়েছিল।
-ইউ চিট।আই হেট ইউ।ডোন্ট ট্রাই টু কনটাক্ট উইথ মি ফারদার।বলেই চলে এরিখ চলে গেল।
ওর চলে যাওয়া পথে চেয়ে দিকে নওমির চোখ ভাসতে থাকল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৪৫
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×