ঘুম থেকে উঠে দেখি ৪:৪২। আবার ঘুম দিলাম·· উঠলাম ৫:০৫ মিনিটে। মসজিদে ফজরের নামাজ ৫:১৫ তে। তাড়াতাড়ি ওজু করে ২রাকাত সুন্নাত পড়ে মসজিদে দৌড়··· বাকিটুকু মসজিদে পড়ে আবার বাসায় আসলাম। আমি ভুলেই গেছিলাম আজকে ১লা বৈশাখ। অর্থাত বাংলা ১৪১৪ সালের ১ম দিন··· সূর্য তথনও উঠেনি। বাসায় এসে আমার ছোট বোনকে নামাজ পড়তে ডেকে দিলাম। তারপর ক্যামেরা নিয়ে আবার দৌড়।
কোথায়?
থাকি শহরে আমাদের তো আর সমুদ্রের বুক থেকে সূর্যের মাথা বের করা দৃশ্য যখন তখন দেখার সৌভাগ্য হয় না। আমাদের সূর্যোদয় দর্শণ ও শহুরে··· আমাদের এখানে সুর্য উঁকি দেয় কোন বিল্ডিং এর ওপাশ থেকে। কিছুতেই আজকের সূর্যোদয় দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। চলে গেলাম মসজিদে। আমাদের মসজিদটা তিন তলা। মসজিদের ছাদে দাড়ালে তা হয় চার তলা··· সূর্যোদয় দেখার জন্য যথেষ্ট।
ছাদে গিয়ে দাড়ালাম·· কই? সূর্য তো দেখা যায় না। একটা ছবি নিলাম।(১ম ছবি)
দেখি আমার আাশে পাশে অনেক গুলো কাক কা·· কা·· করছে·· মনে হচ্ছে আমাকে একলা ছাদের উপর দেখে ওরা খুব মজা পাচ্ছে। একবার ডানপাশে বসে আরেকবার বামপাশে বসে·· ক্যামেরা তাক করলেই উড়ে যায়। তবু ছাড় দিলাম না।
কয়েকটা স্ন্যাপ নিয়ে ফেল্লাম।
এই ফাঁকে দেখি একটা বিল্ডং এর পিছনে আকাশ হালকা লাল বর্ণ ধারণ করছে।(২য় ছবি) আমার বুঝতে দেরি হলো না, যে আমার অপোর প্রহর শেষ। ভালো করে সূর্যোদয় উপভোগ করতে লাগলাম।···
আকাশটাতে হালকা মেঘ ভর করে আছে। সীমাহীন আকাশটাকে সীমিত করে দিল কিছু মেঘ। কোথাও কোথাও মেঘের ফাঁকে দৃষ্টি চলে গেল একেবারে আকাশের সীমানায়।
পশ্চিমের আকাশে দেখি মেঘের দুইটা সরল রেখা। (৩য় ছবি) মনে হলো প্রকৃতি কি যেন লিখতে চেয়েছে। প্লেনের ধোঁয়া বলে মনে হলো না।
সূর্য তখন পুরোপুরি বেড়িয়ে এসেছে। কিন্তু হালকা মেঘের আড়ালে থাকায় আলো টা ছড়িয়ে পড়লো অনেক জায়গা জুড়ে। সূর্য তার আকৃতি হারালো। (৪র্থ ছবি)
কাকেরা যোগ দিল সূর্যস্নানে। নির্মানাধীন মসজিদের ছাদে উন্মুক্ত রডের উপর বসে তারা তাদের সুর্যস্নান সেড়ে নিচ্ছে। মনে হলো তারাও আজ পহেলা বৈশাখ এর আনন্দ উপভোগ করছে। (৫ম ছবি)
মেঘের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবার সূর্য আসল আকৃতিতে ফিরে আসলো। তাড়াতাড়ি আরেকটা ছবি নিয়ে নিলাম। (৬ষ্ট ছবি)
আমি তো আমার বাংলা নতুন বর্ষের (১৪১৪) সূযোদয়ের অভিজ্ঞতা বর্ননা করলাম। আপনারা কে কি রকম সূর্যোদয় দেখেছেন তার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ভাগাভাগি করলে খুশি হবো।
সবাইকে বাংলা নববর্ষেব গুচ্ছ গুচ্ছ লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।
বি.দ্র: আমি এই পোষ্টটা আজ সকালে বিজয় দিয়ে ওয়ার্ড এ লিখে সেভ করে রাখছিলাম। ব্লগে এসে দেখি সব ইউনিকোড-এ কনভার্ট হয়ে গেছে। ত্রিভুজ ভাই-এর সাহায্যে আমি তা পুণরায় ইউনিকোডে কনভার্ট করলাম। এ কারণে আমি ত্রিভুজ ভাই-এর কাছে একান্ত কৃতজ্ঞ। আপনাকে আরও একটা লাল গোলাপ শুভেচ্ছা@ ত্রিভুজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


