somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ডেঙ্গুকাহিনী ১ /:)

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন আমার এস এস সি টেস্ট পরীক্ষার মাস খানেক বাকী। দেশে সেবার ই প্রথম এডিস মশার সুনাম ছড়িয়েছে। এদিকে আমার তখন ব্যাপক পড়াশুনা, যতক্ষন বাসায় থাকি টেবিলেই বসে থাকি। কি যে পড়ি আল্লাই ভাল জানে, তবে মাকে তো খুশী রাখতে হবে। B-)

আমাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে বাবা একটা মশক নিধন যন্ত্র কিনে আনলেন, দেখতে অনেকটা র‌্যাকেট এর মত, ব্যাটারীতে চলে। এর সংস্পর্শে মশা আসা মাত্রই ঠাস ঠাস পটকা ফুটতে থাকে আর মশা বাবাজী পুড়ে খালাস। আমি তো এটা কে পেয়ে যারপরনাই খুশী, পড়াশুনার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা। আমার টেবিলের চারপাশে হলে তো কথাই নেই, পুরো রুমের আনাচে কানাচে মশা দেখলেই যন্ত্র নিয়ে চড়াও হই। এহেন আনন্দ বেশী দিন টিকল না, মা-জননী বুঝতে পারলেন যে আমার বিনোদন বেশী হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দ্বিতীয় সিস্টেম আসল বাসায়। :|

আমার জন্য একটা টেবিল মশারীর ব্যবস্থা হলো যেটা আমার টেবিল চেয়ার সমেত আমাকে বন্দী করে ফেলল। এটা যে কী জিনিস ভাই না দেখলে বোঝানো যাবে না! বাসায় যেই আসত আমাকে মশারীর ভেতর খুব আগ্রহের সাথে দেখত আর খুব ই মজা পেত। মুখে বলত যে না খুব ভাল হইসে, নিশ্চিন্তে ছেলেটা পড়াশুনা করতে পারতেসে, ডেঙ্গুর ভয় নাই। প্রিয় র‌্যাকেট হারিয়ে মর্মাহত ভাবে বন্দী দশায় আমার দিন কাটতে থাকে। :-<

একদিন সকালে কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পর আমার কাপায়া জ্বর আসল। সবার ধারনা হল বাইরে থেকে কামড় খায়া আসছি, বাসায় তো মশাদের চান্স ই নাই। তিন দিন নরমাল জ্বরের মতই ভুগলাম। চতুর্থ দিন জ্বর না আসায় সবাই নিশ্চিন্ত হল যে না ডেঙ্গু হয় নাই। আমিও ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়ন, মানে টেবিল মশারীর ভেতর ফেরত যাই।:((

সন্ধ্যের দিকে মনে হল বুকে কেমন যেন পাথর জমে আছে, নিশ্বাস নিতে পারছি না। আবার জ্বর উঠতে লাগল, হাত-পা কেমন যেন লালচে মনে হচ্ছে, আসলে র‌্যাশ উঠতেসে- তখন বুঝি নাই। রাতে রক্ত বমি হল, চাপ চাপ বেশ অনেক খানি রক্ত আসল। মাকে বলি, মা আমি মনে হয় আর বাচঁবো না।:-*;)

সেই রাত দশ টার দিকে ডি এম সি ইমার্জেন্সীতে নেয়া হল আমাকে। এটা কোন ধরনের ইমার্জেন্সী আমার জানা নাই, দশ টাকার টোকেন দিয়ে আমাকে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিল। ইমার্জেন্সী থেকে ওয়ার্ড এত সুদীর্ঘ করিডর আমার জীবনে দেখি নাই, হাটতে হাটতে জান শেষ। প্লেটলেট কাউন্ট আসল এক লাখ বিশ হাজার। ডেঙ্গুর কোন পর্যায়ে আছি বুঝলাম না, কারন দেশে তখন ডেঙ্গুর মাত্র ফার্স্ট সিজন চলছে।/:)
(চলছে)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪২
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×